পর্তুগিজ সুপারস্টার ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো এমন এক ব্যক্তিগত মাইলফলকের দিকে ছুটছেন যা প্রতিযোগিতামূলক ফুটবলে আজ পর্যন্ত কোনো খেলোয়াড় আনুষ্ঠানিকভাবে অর্জন করতে পারেননি—হাজার গোলের চূড়া। পেলে ও রোমারিও প্রীতি ম্যাচসহ নিজেদের গোলসংখ্যা এক হাজারের বেশি বলে দাবি করলেও শুধু অফিশিয়াল প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে এই মাইলফলক এখনো অধরা। আর সেই রেকর্ডের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো।

২১ বছরের পেশাদার ক্যারিয়ারে রোনালদো এখন পর্যন্ত ৯৫০ গোল করেছেন ক্লাব ও দেশের হয়ে। তার গোলের হারও অবিশ্বাস্য—প্রতি ম্যাচে প্রায় দশমিক ৭৩ গোল! ১ হাজার ২৯৩ ম্যাচে করা এ সংখ্যাগুলো শুধুই পরিসংখ্যান নয়, বরং অধ্যবসায়, ফিটনেস ও পেশাদারত্বের এক অনন্য উদাহরণ।

রোনালদো এখন পর্যন্ত পর্তুগালের জার্সিতে করেছেন ১৪৩টি আন্তর্জাতিক গোল। ক্লাব ফুটবলে বাকি গোলগুলো এসেছে স্পোর্টিং সিপি, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, রিয়াল মাদ্রিদ, জুভেন্টাস এবং এখন আল নাসরের হয়ে। রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে তার গোলসংখ্যা ৪৫০, ইউনাইটেডের হয়ে ১৪৫, জুভেন্টাসে ১০১, আর সৌদি ক্লাব আল নাসরের হয়ে এরই মধ্যে সিআরসেভেনের গোল ১০৬টি।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ৪০ বছর পূর্ণ করেছেন রোনালদো। অথচ বয়স তাকে থামাতে পারেনি। চলতি মৌসুমে ৩৩ ম্যাচে ২৭ গোল, প্রায় প্রতি ম্যাচেই গোল পাচ্ছেন। তার লক্ষ্য স্পষ্ট—হাজার গোলের মাইলফলক ছোঁয়া। এ ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে ২০২৬ সালের মধ্যেই ফুটবল ইতিহাসের প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে এক হাজার গোলের কৃতিত্ব অর্জন করবেন এ পর্তুগিজ সুপারস্টার।

রোনালদোর চার বছর পূর্ণ হতে চলেছে সৌদি প্রো লিগে। তার মতে, এ লিগ এখন ইউরোপের শীর্ষ পাঁচের মধ্যে স্থান পাওয়ার যোগ্য। ‘ফ্রান্সের লিগ ওয়ানের চেয়েও ভালো’—এ কথা তিনি একাধিকবার বলেছেন। সাম্প্রতিক মৌসুমে তার ক্লাব আল নাসর লিগ শিরোপা হারিয়েছে আল হিলাল ও আল ইত্তিহাদের কাছে।

অপূর্ণতাই যদি প্রেরণার উৎস হয় তবে রোনালদোর লড়ে যাওয়ার জ্বালানিতে এখুনি ঘাটতি দেখা যাবে না। দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বী লিওনেল মেসি এখনো আলো ছড়াচ্ছেন ইন্টার মায়ামির হয়ে—২০২৫ সালে তার গোলসংখ্যা ২৯ ম্যাচে ২৮। অ্যাসিস্টের অংকে বরাবরই রোনালদোর চেয়ে অস্পর্শনীয় উচ্চতায় নিজেকে নিয়ে গেছেন মেসি। তবে ৮৯১ ক্যারিয়ার গোল নিয়ে সহস্র গোলের মাইলফলক থেকে অনেকটাই দূরে মেসি। রোনালদোর চেয়ে ১৬৩ ম্যাচ কম খেলার ঘাটতি পূরণের তাগাদাও মেসির মধ্যে অনুপস্থিত।

ইউরোপের লিগ ফুটবলে সর্বাধিক গোলদাতাকে দেয়া গোল্ডেন শু পুরস্কারের দৌড় এখন জমে উঠেছে তিন তারকার মধ্যে। বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে মাত্র আট ম্যাচে ১২ গোল করে বর্তমানে এই দৌড়ে এগিয়ে আছেন হ্যারি কেইন। তার ঘাড়ের কাছেই রয়েছেন দুই তরুণ তারকা—ম্যানচেস্টার সিটির আর্লিং হালান্ড এবং রিয়াল মাদ্রিদের কিলিয়ান এমবাপ্পে। দুজনের গোলসংখ্যাই ১১টি করে। তবে হালান্ড খেলেছেন ৯ ম্যাচ, এমবাপ্পে ১০ ম্যাচ।

২৫ বছর বয়সী হাল্যান্ড কিংবা তার এক বছরের বড় এমবাপ্পেও হয়তো একদিন হাজার গোলের স্বপ্ন দেখবেন। কিন্তু সেই লক্ষ্যের একেবারে শেষ প্রান্তে পৌঁছে গেছেন যিনি, তিনি হলেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। ফুটবল ইতিহাসের এ জীবন্ত কিংবদন্তির ভাষ্যেই স্পষ্ট, গোল ছাড়া কোনোকিছুই নিজের রাডারে দেখতে চান না তিনি—‘এটা (গোল করা) আমাকে বিশ্বের সবচেয়ে আনন্দের অনুভূতি দেয়। আমি শুধু গোল করা ভালোবাসি। সেটা কাছে থেকে একটি সাধারণ গোল হোক, দূর থেকে নেয়া শট হোক বা কয়েকজন খেলোয়াড়কে ড্রিবল করে হোক, আমি শুধু সব ধরনের গোল করতে ভালোবাসি।’