সাফ অনূর্ধ্ব-১৯ নারী চ্যাম্পিয়নশিপে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বাংলাদেশ। গতকাল কমলাপুর বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহী শহীদ মোস্তফা কামাল স্টেডিয়ামে ফাইনালে ভারত অনূর্ধ্ব-১৯ নারী দলকে ১-০ গোলে হারায় বাংলাদেশের মেয়েরা। শিরোপা জয়ের ম্যাচে জয়সূচক গোলটি আসে ডিফেন্ডার আনাই মগিনির পা থেকে।
এ গোলে পার্বত্য খাগড়াছড়ি জেলা সদর থেকে উঠে আসা মগিনি কেড়ে নেন ফাইনাল ম্যাচের সব আলো। তার বন্দনাতেই সরব এখন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম। ২০০৩ সালের ১ মার্চ জেলার সাতভাইয়া পাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন আনাই মগিনি। সাতভাই পাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তৃতীয় শ্রেণিতে পড়া অবস্থায় প্রতিযোগিতামূলক ফুটবলে অভিষেক তার। ২০১১ সালের বঙ্গমাতা ফুটবল দিয়ে আনাইয়ের শুরু। এরপর খাগড়াছড়ি জেলা দলের হয়ে খেলে ২০১৫ সালে অনূর্ধ্ব-১৪ জাতীয় দলে জায়গা করে নেয়া। বিভিন্ন বয়সভিত্তিক দল পেরিয়ে এখন জাতীয় দলে খেলছেন। বয়স ১৯ না পেরোনোয় বয়সভিত্তিক দলেরও নিয়মিত মুখ আনাই। ক্লাব পর্যায়ে বসুন্ধরা কিংসের হয়ে খেলেন এই রাইট ব্যাক।
আনাইয়ের যমজ বোন আনুচিং মগিনিও জাতীয় দলে খেলেন। এই সাফ চ্যাম্পিয়ন দলেও আছেন তিনি। এআরবি স্পোর্টিং ক্লাবের হয়ে খেলেন তিনি। মা-বাবা, চার বোন ও তিন ভাই মিলে বড় পরিবার তাদের। মা-বাবা দু’জনই কৃষক। আর ভাইয়েরা মিস্ত্রি।
গতকাল ফাইনালে প্রথমার্ধ শেষ হয় গোলশূন্যয়। আক্রমণের পসরা সাজিয়েও কাঙ্ক্ষিত সাফল্যের দেখা পাচ্ছিল না বাংলাদেশ। খেলা এগিয়ে যাচ্ছিল শেষের দিক। এমন সময় দলের ত্রাতা হন আনাই। শাহেদার ব্যাক হিল থেকে রাইট সাইড দিয়ে ডি-বক্সের বাইরে থেকে আনাই মগিনি দূরপাল্লার শট নেন, লাফিয়ে ওঠেও ভারতের গোলকিপার বল আটকাতে পারেননি। গ্লাভস ছুঁয়ে জালে জড়ায় বল। খেলার ৮০ মিনিটের সময় এই গোলটিতে বাংলাদেশ ও মগিনি দু’জনই অংশ হলেন ইতিহাসের।










