ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ জিতেছে, নেশনস লিগ জিতেছে, কিন্তু বিশ্বকাপ ট্রফি এখনো অধরাই। সে স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্যে আরেকটি অভিযাত্রা শুরু হচ্ছে আজ রাত ১১টায় হিউস্টনে, যেখানে গ্রুপ ‘কে’-এর প্রথম ম্যাচে পর্তুগালের প্রতিপক্ষ ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো।
৪১ বছর বয়সী ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর এটি শেষ বিশ্বকাপ। ক্লাব ফুটবল, ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ কিংবা নেশনস লিগ—সবুজ গালিচার যেখানেই পা রেখেছেন, বিজয়ীর বেশে ছিনিয়ে এনেছেন প্রায় সব শিরোপা। কিন্তু এত এত অর্জনের এ বর্ণিল মহাকাব্যেও মিশে আছে এক নিদারুণ ট্র্যাজেডি, এক অনন্ত হাহাকার। তার অর্জনের ঝুলিতে নেই আরাধ্য ‘বিশ্বকাপ’। কিংবদন্তির এ বিদায়ী যাত্রায় পর্তুগালের এবারের অভিযান ঘিরে তৈরি হয়েছে তীব্র আবেগ। ভক্তদের হৃদয়ে যেন একটাই প্রার্থনা—ফুটবল বিধাতা যেন মহাকাব্যের শেষ পাতায় তার এ অবিস্মরণীয় নায়কের একমাত্র অপূর্ণতাটুকু ঘুচিয়ে দেন।
তবে কঙ্গোর জন্যও ম্যাচটি কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। ৫২ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরেছে আফ্রিকার দেশটি। ১৯৭৪ সালে জায়ার নামে তাদের একমাত্র অংশগ্রহণ ছিল দুঃস্বপ্নের মতো। তিন ম্যাচে ১৪ গোল হজম করে গোলশূন্য অবস্থায় বিদায় নিতে হয়েছিল। কিন্তু বর্তমান দলটি অনেক বেশি সংগঠিত, অভিজ্ঞ এবং ইউরোপভিত্তিক খেলোয়াড়ে সমৃদ্ধ।
কাগজে-কলমে অবশ্য শক্তির পার্থক্য স্পষ্ট। রবার্তো মার্তিনেজের সম্ভাব্য ৪-২-৩-১ ছকে পর্তুগালের সবচেয়ে বড় অস্ত্র তাদের মাঝমাঠ। জোয়াও নেভেস ও ভিতিনিয়া খেলার গতি নিয়ন্ত্রণ করবেন, আর তাদের সামনে সৃজনশীলতার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবেন ব্রুনো ফার্নান্দেজ। দুই পাশে বার্নার্দো সিলভা ও পেদ্রো নেতো প্রতিপক্ষের রক্ষণকে প্রসারিত করবেন, যাতে মাঝখানে জায়গা তৈরি হয়। সামনে থাকবেন রোনালদো।
বিশ্বকাপে অনেক দলই তারকানির্ভর। কিন্তু পর্তুগালের শক্তি হলো তাদের ভারসাম্য। বল দখল, পাসিং, অবস্থানগত রদবদল এবং আক্রমণের বহুমাত্রিকতা সব মিলিয়ে তারা টুর্নামেন্টের অন্যতম পরিপূর্ণ দল। প্রতিপক্ষের রক্ষণ যত গভীরই হোক, তা ভাঙার একাধিক উপায় রয়েছে তাদের হাতে।
অন্যদিকে সেবাস্তিয়ান দেশাবরের কঙ্গো সম্ভবত ৩-৫-২ ছকে নামবে। তাদের লক্ষ্য হবে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নয়, বরং ম্যাচটিকে দীর্ঘ সময় প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রাখা। অভিজ্ঞ চান্সেল এমবেম্বার নেতৃত্বে পাঁচজনের রক্ষণভাগ গড়ে তুলবে ঘন প্রতিরক্ষা। দুই উইং ব্যাক অ্যারন ওয়ান-বিসাকা ও আর্থার মাসুয়াকু রক্ষণে সাহায্য করার পাশাপাশি পাল্টা আক্রমণের পথও তৈরি করবেন।
কৌশলগতভাবে ম্যাচটির সবচেয়ে আকর্ষণীয় অংশ হতে পারে পর্তুগালের বল দখল বনাম কঙ্গোর রক্ষণাত্মক ব্লকের লড়াই। কঙ্গো নিজেদের অর্ধে ঘন জটলা তৈরি করে জায়গা সংকুচিত করতে চাইবে। তাদের আশা থাকবে ইয়োয়ানে উইসা ও সেড্রিক বাকাম্বুর গতিকে কাজে লাগিয়ে দ্রুত পাল্টা আক্রমণে ওঠা। বিশেষ করে পর্তুগালের ফুল-ব্যাকরা অনেক ওপরে উঠে গেলে পেছনে তৈরি হওয়া ফাঁকা জায়গা কাজে লাগানোর চেষ্টা করবে আফ্রিকানরা।
দুই দলের মধ্যে আগে কখনো প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ হয়নি। কিন্তু বর্তমান শক্তি, অভিজ্ঞতা ও স্কোয়াডের গভীরতা বিবেচনায় পর্তুগালই স্পষ্ট ফেভারিট। রোনালদোর শেষ স্বপ্নের পথে এটি প্রথম ধাপ। আর কঙ্গোর জন্য এটি অর্ধশতাব্দীর অপেক্ষার পর ফিরে আসা এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা।










