সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টেস্টে গতকাল চতুর্থ দিন ভয়ংকর এক স্পেলে দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটিং লাইনআপ গুঁড়িয়ে দিয়েছেন পেসম্যান প্যাট কামিন্স। প্রথম ইনিংসে ৬ উইকেটে ১৪৯ রান নিয়ে মাঠ ছেড়েছে প্রোটিয়ারা। বৃষ্টিবিঘ্নিত এই টেস্টে অস্ট্রেলিয়া ৪ উইকেটে ৪৭৫ রান তুলে প্রথম ইনিংস ঘোষণা করে। ৩২৬ রানে পিছিয়ে থেকে আজ পঞ্চম ও শেষদিন খেলতে নামবে অতিথি দলটি। মার্কো ইয়ানসেন ১০ ও সাইমন হারমার ৬ রান নিয়ে অপরাজিত রয়েছেন।

অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক কামিন্স ১৪ ওভার বোলিং করে ২৯ রানের খরচায় নিয়েছেন তিনটি উইকেট। এর মধ্যে শেষ বিকালে অবিশ্বাস্য একটি স্পেলে তুলে নেন দুটি উইকেট। শুরুটা করেন জস হ্যাজেলউড, আর শেষদিকে ঝলসে ওঠেন কামিন্স। এ দুজনের প্রতাপে কোণঠাসা হয়ে পড়েছে প্রোটিয়ারা।

আজ সিডনিতে এক নাটকীয় দিনের অপেক্ষা করাই যায়। প্রোটিয়াদের হোয়াইটওয়াশের লজ্জা উপহার দিতে অবশ্য তাদের ১৪টি উইকেট তুলে নিতে হবে স্বাগতিক বোলারদের।

বৃষ্টির বাধায় প্রথম দুই দিনে ৪৭৫ রান তুলতে সমর্থ হয় অস্ট্রেলিয়া। তৃতীয় দিন তো কোনো খেলাই মাঠে গড়ায়নি। উসমান খাওয়াজা ১৯৫ রানে অপরাজিত ছিলেন। তাকে ক্যারিয়ারের প্রথম ডাবল সেঞ্চুরি করতে দেয়ার সুযোগটুকু পাননি অজি দলনায়ক প্যাট কামিন্স, কেননা চতুর্থ দিন সকালেও বৃষ্টির কারণে খেলা শুরু হতে দীর্ঘ বিলম্ব হচ্ছিল। তাই প্রতিপক্ষকে দুবার অলআউট করার আশায় বোলারদের একটু বেশি সুযোগ করে দিতেই ইনিংস ঘোষণা করেন কামিন্স, ফলে ১৯৫ রানে অপরাজিত থাকতে হয় খাওয়াজাকে!

এর আগে ইনিংস ঘোষণা করায় দুজন ব্যাটার ডাবল সেঞ্চুরি বঞ্চিত হন। ১৯৬০ সালে ব্রিজটাউনে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ১৯৭ রানে অপরাজিত ছিলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের ফ্রাংক ওরেল, ২০০৪ সালে মুলতানে পাকিস্তানের বিপক্ষে ১৯৪ রানে অপরাজিত ছিলেন ভারতীয় গ্রেট শচীন টেন্ডুলকার।

গতকাল ৩৭ রানে তিন উইকেট পতনের পর খায়া জন্ডো (৩৯) ও তেম্বা বাভুমার (৩৫) লড়াইয়ে খানিকটা স্থিতি আনে প্রোটিয়ারা। যদিও দলীয় ৮৫ রানে বাভুমা ও ১৩০ রানের মাথায় জন্ডো ফেরেন সাজঘরে। অল্প সময়ের ব্যবধানে কাইল ভেরেইনও সাজঘরের পথ ধরেন (১৩৭/৬)। এরপর হাল ধরে দিন পার করেন ইয়ানসেন ও হারমার।

আজ ৯৮ ওভারের মধ্যে অতিথি দলের ১৪ উইকেট তুলে নিতে পারলে অনন্যসাধারণ এক জয় পাওয়া হবে কামিন্সদের।