আজ শুরু হয়েছে অস্ট্রেলিয়ান ওপেন টেনিস-২০২২। প্রথম রাউন্ডের ম্যাচে স্বদেশি মিওমির কেচমানোভিচের বিপক্ষে কোর্টে নামার কথা ছিল সার্বিয়ান তারকা নোভাক জোকোভিচের। যদিও আপিলে হেরে এবার মেলবোর্নে খেলার আশা শেষ হয়ে যায় জোকারের, এরই মধ্যে তিনি দেশটি ছেড়ে চলেও গেছেন। দুবাই হয়ে সার্বিয়ায় ফেরার কথা তার।

নিয়ম অনুযায়ী, ভিসা বাতিল হওয়ায় অস্ট্রেলিয়ায় ঢোকার ক্ষেত্রে তিন বছরের নিষেধাজ্ঞা জারি হবে জোকোভিচের উপর। আইনত আগামী তিন বছর দেশটিতে ঢুকতে পারবেন না তিনি। যদিও তার জন্য বিশেষ ‘ছাড়’ এর ইঙ্গিত দিলেন অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন। একটি রেডিও চ্যানেলকে তিনি বলেন, আমি আগে থেকে কোনো সিদ্ধান্ত বা নির্দেশের কথা জানাব না। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী এই বিষয়ে সব সিদ্ধান্ত নেবেন। সাধারাণত তিন বছরের জন্য নিষেধাজ্ঞা থাকে। তবে সঠিক পরিস্থিতিতে খেলায় অংশ নেয়ার সুযোগ রয়েছে। সেটা সঠিক সময়েই জানতে পারা যাবে।

অস্ট্রেলিয়ার অভিবাসন মন্ত্রী অ্যালেক্স হক নিজের ক্ষমতায় জোকোভিচের ভিসা বাতিল করেছেন। তাই সে দেশের অভিবাসন আইন অনুসারে, তিনিই এক মাত্র এই নিষেধাজ্ঞা তুলতে পারবেন।

নাইন রেডিওকে অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কারেন অ্যান্ড্রুজ বলেন, ভবিষ্যতে যদি জোকোভিচের কোনো ‘আবশ্যক কারণ’ থাকে, তখন বিবেচনা করা হবে। এই মুহূর্তে এটা শুধুই অনুমানমূলক। যেকোনো বিষয় যোগ্যতার ভিত্তিতে পর্যালোচনা করা হবে।

জোকোভিচের ঘটনার প্রভাব নিয়ে তিনি বলেন, এটা দ্বারা অস্ট্রেলিয়ানরা আত্মবিশ্বাসী হতে পারেন যে, মরিসন সরকার ও তার মন্ত্রী পরিষদ শক্তশালী সীমান্ত রক্ষায় বদ্ধপরিকর।

গত ৬ জানুয়ারি অস্ট্রেলিয়ায় পা রেখেছিলেন জোকোভিচ। কিন্তু তাকে অভিবাসন দপ্তর আটকে দেয়। অভিযোগ, তার করোনা প্রতিষেধক টিকা নেয়া নেই। টিকা নেয়া না থাকলে চিকিত্সকের যে কাগজ দেখাতে হয়, তাও জোকোভিচের কাছে ছিল না বলে অভিযোগ। এরপর বিষয়টি আদালত পর্যন্ত পৌঁছায়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে যোগ দেয়ার ছাড়পত্র পেলেন না জোকোভিচ।

প্রথমে একবার তার ভিসা বাতিল করে অস্ট্রেলিয়ার ইমিগ্রেশন। এর বিরুদ্ধে আপিল করলে দেশটির একটি আদালত জোকোভিচের ভিসা ফিরিয়ে দিতে বলেন। গত শুক্রবার দ্বিতীয় দফায় জোকোভিচের ভিসা বাতিল করেন অস্ট্রেলিয়ার অভিবাসন মন্ত্রী অ্যালেক্স হক। এরপর তাকে আবার আটক রাখা হয়।

গতকাল শেষবারের মতো আপিল করেছিলেন জোকোভিচ, তাতে লাভ হয়নি। নিজেদের সিদ্ধান্তে অনড় থেকেছে অস্ট্রেলিয়ার ফেডারেল কোর্ট। অ্যালেক্স হক বলছেন, টিকা না নেয়া জোকোভিচকে অস্ট্রেলিয়ায় থাকতে দিলে সেটি টিকাবিরোধী মানসিকতাকে উত্সাহিত করতে পারে। অস্ট্রেলিয়ার সাধারণ জনগণের মধ্যেও ক্ষোভ দেখা দিতে পারে। হকের বিবৃতিতে এও বলা হয়েছে, এবার জোকোভিচ আপিল না করলে কিংবা আপিল করেও না জিতলে আগামী তিন বছরে অস্ট্রেলিয়ায় ভিসা পাবেন না তিনি! শুটকি

চূড়ান্ত শুনানিতে পরাজয়ের কারণে আগামী তিন বছর অস্ট্রেলিয়ার ভিসা পাবেন না জোকোভিচ। 

আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবেন না বলে জানিয়েছেন জোকোভিচ। তিনি বলেছেন, আমার ভিসা বাতিলের বিষয়ে মন্ত্রীর সিদ্ধান্ত পর্যালোচনায় যে আবেদন আমি করেছিলাম, আদালত তা খারিজ করে দেয়ায় আমি সত্যিই হতাশ। এর অর্থ হচ্ছে, আমি অস্ট্রেলিয়ায় থাকতে পারছি না এবং আমার সবচেয়ে প্রিয় অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে অংশ নিতে পারছি না। আমি আদালতের সিদ্ধান্তের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং এই দেশ থেকে আমার চলে যাওয়ার ব্যাপারে যথাযথ কর্তৃপক্ষকে সহযোগিতা করব।

এ রায়ের পর অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, আদালতের এই রায়ে দেশের সীমান্ত আরো সুরক্ষিত হলো। দেশের মানুষকে কভিডের হাত থেকে চূড়ান্ত সুরক্ষা দেয়া গেল। জোকোভিচকে বিশেষ সুবিধা দিলে, টিকাহীন আরো ব্যক্তিকে এই সুবিধা দিতে হতো। দীর্ঘদিন ধরে লকডাউন জারি রেখে অস্ট্রেলিয়া যেভাবে কভিডের সঙ্গে লড়াই করেছে, জোকোভিচকে ছাড়পত্র দিলে সেই লড়াই ক্ষতিগ্রস্ত হতো।

রয়টার্স, নাইন রেডিও, এবিসি, ডয়েচ ভেলে