ইতিহাসের অন্যতম সেরা ফুটবলার লিওনেল মেসি বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে সম্ভাব্য সবকিছুই জিতেছেন। বিশ্বকাপ, কোপা আমেরিকা, উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ, লা লিগা, ফ্রেঞ্চ লিগ ওয়ানসহ ৪৬টি ট্রফি জিতেছেন ক্লাব ও দেশের হয়ে। ব্যক্তিগত পর্যায়ে বিশ্বসেরার স্বীকৃতি ব্যালন ডি’অর পুরস্কারই জিতেছেন আটবার! এছাড়া বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড়, কোপার সেরা খেলোয়াড় এবং ক্লাব পর্যায়ে বহুবার লিগ ও ইউরোপের সর্বোচ্চ গোলের স্বীকৃতি পেয়েছেন তিনি নানা পুরস্কারে। এ পথে গড়েছেন অসংখ্য রেকর্ড। গোলে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর পেছনে থাকলেও অ্যাসিস্টে তিনি রেকর্ড গড়ার পথে। আর চারটি অ্যাসিস্ট পেলেই ফেরেঙ্ক পুসকাসকে টপকে ইতিহাস গড়বেন আর্জেন্টাইন প্রাণভোমরা মেসি।

সিনিয়র ফুটবলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ৯৫৩ গোল করেছেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। তিনি এক হাজার গোলের মাইলফলকে পৌঁছতে চান। তার সঙ্গে গোলের রেসে মেসি হয়তো পেরে উঠবেন না। আর্জেন্টাইন সুপারস্টার করেছেন ৮৯৫ গোল। তবে অ্যাসিস্ট আর পেনাল্টি ছাড়া গোলের হিসেবে মেসি এগিয়ে রয়েছেন। পেনাল্টি বাদ দিয়ে ১১৩৪ ম্যাচে মেসির গোল যেখানে ৭৮৩টি, সেখানে পেনাল্টি বাদ দিলে ১২৯৭ ম্যাচে রোনালদোর গোলসংখ্যা ৭৭৩টি।

সব মিলিয়ে এখন পর্যন্ত ক্লাব ও জাতীয় দলের জার্সিতে মোট ১১৩৪ ম্যাচ খেলে ১২৯৬ গোলে অবদান রেখেছেন মেসি। এর মধ্যে গোল করেছেন ৮৯৫টি, আর অ্যাসিস্ট করেছেন ৪০১টি। এখানে পিছিয়ে রয়েছেন রোনালদো। তিনি ৯৫৩ গোল করার পাশাপাশি অ্যাসিস্ট করেছেন ২৫৯ গোলে। সব মিলিয়ে ১২৯৭ ম্যাচে মোট ১২১২ গোলে অবদান রেখেছেন।

শুক্রবার রাতে লুয়ান্ডায় প্রীতি ম্যাচে অ্যাঙ্গোলাকে ২-০ গোলে হারায় বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। আলবিসেলেস্তেদের হয়ে গোল করেন লাউতারো মার্টিনেজ ও মেসি। ৪৩ মিনিটে মার্টিনেজ ও ৮২ মিনিটে মেসি গোল করেন। প্রথমে মেসির পাস থেকে গোল করেন মার্টিনেজ, এরপর মার্টিনেজ অ্যাসিস্ট করেন মেসির গোলে। এটি মেসির ক্যারিয়ারের ৪০১তম অ্যাসিস্ট। ৪০৪টি অ্যাসিস্ট করে সবার উপরে অবস্থান করছেন হাঙ্গেরিয়ান গ্রেট পুসকাস। ৭১৯ ম্যাচে ৭০৮ গোল করার পাশাপাশি ৪০৪ গোল তৈরি করে দেন তিনি। এছাড়া তিনবারের বিশ্বকাপ বিজয়ী ব্রাজিলীয় গ্রেট পেলে ৩৯৮টি অ্যাসিস্ট নিয়ে তিনে অবস্থান করছেন। পাশাপাশি ৬৫৯ ম্যাচে করেছেন ৬৪৩ গোল।

আর তিনটি অ্যাসিস্ট করলে পুসকাসকে ধরে ফেলবেন মেসি, আর চারটি অ্যাসিস্টে তিনি উঠে যাবে সবার উপরে। বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়নের মুকুটে যোগ হবে আরেকটি পালক।

৩৮ বছর বয়সে মেসির যখন বুটজোড়া তুলে রাখার কথা, তখন তিনি আরো উজ্জ্বল, আরো শাণিত। জাতীয় দল কিংবা ক্লাব ইন্টার মায়ামির আক্রমণ পরিকল্পনা সাজানো হয় তাকে ঘিরেই। তিনি নেতৃত্বে যেমন আরো পরিপক্ব, তেমনি পারফরম্যান্সেও সেরা। ২০২৫ সালে তার মোট গোল ও অ্যাসিস্ট ৬৭টি। ৬৩টি গোল ও অ্যাসিস্ট নিয়ে দুইয়ে অবস্থান করছেন রিয়াল মাদ্রিদের ফরাসি ফরওয়ার্ড কিলিয়ান এমবাপ্পে।

অ্যাঙ্গোলার স্বাধীনতা প্রাপ্তির ৫০তম বার্ষিকী উদ্‌যাপনের অংশ হিসেবে আর্জেন্টিনার সঙ্গে প্রীতি ম্যাচ আয়োজন করা হয়। আর্জেন্টিনা ও অ্যাঙ্গোলা এর আগে একবার মুখোমুখি হয়েছে। ২০০৬ সালে ইতালিতে অনুষ্ঠিত সেই ম্যাচে আর্জেন্টিনা জিতেছিল ২-০ গোলে।

বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের বৈতরণী পার হয়ে মূল পর্বে উঠে গেছে আর্জেন্টিনা। দলটি এখন প্রীতি ম্যাচ খেলে নিজেদের তৈরি করছে। গত মাসে ভেনিজুয়েলাকে ১-০ গোলে ও পুয়ের্তো রিকোকে ৬-০ গোলে হারায় লিওনেল স্কালোনির দল। এবার আফ্রিকায় তারা জিতল ২-০ গোলে। ৩৮ বছর বয়সেও এখনো আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় ভরসার নাম হয়ে আছেন লিওনেল মেসি।

একটি জায়গায় মেসি নিজেকে অনন্য উঁচুতে নিয়ে রেখেছেন। দিয়েগো ম্যারাডোনা কখনো কোপা জিততে পারেননি, ইয়োহান ক্রুয়েফ বিশ্বকাপ জিততে পারেননি, ব্রাজিলের কিংবদন্তি ফরওয়ার্ড রোনালদো চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিততে পারেননি, আর ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো সবকিছু জিতেও শুধু বিশ্বকাপ ট্রফিতে হাত ছোঁয়াতে পারেননি। অথচ মেসি এ সব ট্রফিই জিতেছেন। তিনি অর্জনে আর রেকর্ডে অনন্য।