এসি মিলানের পর এবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগের
সেমিফাইনালে নাম লেখাল তাদের নগর প্রতিদ্বন্দ্বী ইন্টার মিলান। এতে চ্যাম্পিয়ন্স
লিগ সেমিফাইনালে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর লড়াইয়ের মঞ্চ তৈরি হলো। বুধবার রাতে
পর্তুগিজ ক্লাব বেনফিকার সঙ্গে ঘরের মাঠে ৩-৩ গোলে ড্র করা ইন্টার মিলান দুই লেগ
মিলিয়ে ৫-৩ গোলের অগ্রগামিতায় শেষ চারের টিকিট পায়। এটা ইউরোপিয়ান কাপ ও
চ্যাম্পিয়ন্স লিগ মিলিয়ে ইন্টারের নবম সেমিফাইনাল।
লিসবনে প্রথম লেগে ২-০ গোলের জয় পাওয়া
ইন্টার মিলান বুধবার স্যান সিরোয় ১৪ মিনিটের সময় নিকোলো বারেয়ার গোলে লিড নেয়। তাতে
৩-০ গোলে এগিয়ে যায় দলটি। ৩৮ মিনিটে ফ্রেডরিক আর্সনেসের বুলেট হেডে সমতা আনে
বেনফিকা। আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী তারকা লাউতারো মার্টিনেজ ৬৫ মিনিটে ফের
ইন্টারকে এগিয়ে দেন। এরপর বদলি খেলোয়াড় জোয়াকিন কোরেয়া ৭৮ মিনিটে গোল করে ইন্টারের
৫-১ গোলের লিড নিশ্চিত করেন। যদিও হাল ছাড়ছিল না বেনফিকা। ৮৬ মিনিটে আন্তোনিও
সিলভা ও যোগ করা সময়ের পঞ্চম মিনিটে পিটার মুসা গোল করে দলকে সমতায় ফেরান। যদিও
প্রথম লেগের দুই গোলের ঘাটতি আর কাটিয় ওঠা সম্ভব হয়নি পর্তুগিজদের পক্ষে।
সিরি-এ লিগে সর্বশেষ পাঁচ ম্যাচের চারটিতেই
হেরে বসা ইন্টার দুর্দান্ত পারফর্ম করে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমিফাইনালে উঠল। এখন
তারা ফাইনালের টিকিটের জন্য লড়বে এসি মিলানের সঙ্গে, যারা শেষ আট থেকে বিদায় করেছে
সিরি-এ লিডার নাপোলিকে।
মিলান ডার্বি নিয়ে মার্টিনেজ বলেন, ‘এটা
বিশেষ এক ডার্বি হতে চলেছে। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে মিলান ডার্বি, এই ম্যাচের গুরুত্ব
কতটা তা আমরা সবাই জানি। দলের সবাই খুশি। আমি এই দলের জার্সি পরে গর্বিত। ক্লাবটির
যেখানে থাকার কথা সেখানেই পৌছেছে।’
সিমোন ইনজাগি প্রথম ইতালিয়ান কোচ হিসেবে
ইন্টার মিলানকে ইউরোপিয়ান কাপের সেমিফাইনালে নিলেন। সর্বশেষ এ কীর্তি আছে ১৯৮০-৮১
মৌসুমে ইউজেনিও বারসেলিনির। ইন্টার কোচ বলেন, ‘আমরা যোগ্যতর দল হিসেবেই সেমিতে
উঠেছি। এটা স্বপ্ন ছিল। এখন আমরা এখানে এবং বড় একটি ম্যাচ খেলতে চলেছি।’
চলতি মৌসুমে এরই মধ্যে তিনবার মুখোমুখি
হয়েছে ইন্টার মিলান ও এসি মিলান। একটি সিরি-এ ম্যাচ ও ইতালিয়ান সুপার কাপ ম্যাচ
জিতেছে ইন্টার মিলান, আর একটি সিরি-এ ম্যাচ জিতেছে এসি মিলান।
সম্মিলিতভাবে দশবারের ইউরোপিয়ান
চ্যাম্পিয়নরা এবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শেষ চারে লড়বে। এই দ্বৈরথ থেকে একটি দল পাবে
১০ জুন ইস্তানবুল ফাইনালের টিকিট।
মিলানের উভয় ক্লাবই ম্যাচে কোনো অঘটন ছাড়াই
ফাইনালের পেতে চাইবে। কেননা ১৮ বছর আগে দুই দলের সর্বশেষ ইউরোপিয়ান লড়াইটা
দর্শকদের ভয়াবহ গোলযোগের পর পরিত্যক্ত হয়েছিল।
আরেক সেমিফাইনালে রেকর্ড ১৪ বারের
চ্যাম্পিয়ন রিয়াল মাদ্রিদের মুখোমুখি হবে ইংলিশ চ্যাম্পিয়ন ম্যানচেস্টার সিটি যারা
কখনই চ্যাম্পিয়ন্স লিগ শিরোপা জিততে পারেনি। বুধবার বায়ার্ন মিউনিখের মাঠে ১-১
গোলে ড্র করেও ৪-১ গোলের অগ্রগামিতায় শেষ চারের টিকিট পেয়েছে সিটি।










