ক্রিকেট
মানেই প্রোটিয়াদের হৃদয়ভঙ্গের গল্প। ১৯৯২ সাল। ২২ বছরের নির্বাসন কাটিয়ে ২২ গজের
লড়াইয়ে ফিরল দক্ষিণ আফ্রিকা। ফিরেই দর্শকদের হৃদয় জয় করল। তবে জিতল না শুধু কাপটা।
এরপর আর কখনই জেতা হলো না। প্রতিবার ফেভারিট হয়েও শেষ পর্যন্ত হেরে যেতে যেতে
নামটাই তারা পেয়েছে ‘চোকার্স’। এরপরও জাগে নতুন আশা। আরেকবার বিশ্বকাপে আলো
ছড়াচ্ছে দক্ষিণ আফ্রিকা। বৃহস্পতিবার কলকাতার ইডেন গার্ডেনস স্টেডিয়ামে ত্রয়োদশ
ওয়ানডে বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে পরাশক্তি অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি
প্রোটিয়ারা।
প্রোটিয়াদের
আশা জাগা মানেই পাশাপাশি স্বপ্নভঙ্গের বেদনার গল্প থাকে। আরেকটি বিশ্বকাপে আবার ঘুরেফিরে
সামনে আসছে ক্রিকেটে প্রোটিয়া-ট্র্যাজডি। এই ইতিহাস ঘাঁটতে হলে তিনটি স্কোর শিটে
চোখ বুলাতেই হবে।
১৯৯২
আসরের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে বৃষ্টিবিঘ্নিত ৪৫ ওভারের ম্যাচে ২৫২ রানের
সংশোধিত টার্গেট পায় তারা। জয়ের সম্ভাবনা জোরালো ছিল দলটির। শেষ ১৩ বলে প্রয়োজন
পড়ে ২২ রান। আগের ১৭ বলে তারা তুলেছিল ২৫ রান। সবকিছু যেন তাদেরই পক্ষে ছিল। তখনই
প্রোটিয়া ট্র্যাজেডি। ফিরল বৃষ্টি। ১২ মিনিট বৃষ্টি হওয়ার পর নতুন হিসাব দেখা গেল
সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডের স্কোরবোর্ডে। সাত বলে লাগে ২২। স্লো ওভার রেটে দুই ওভার
কাটা যাওয়ায় কথা জানান আম্পায়াররা। তখন নতুন হিসাবে দেখা গেল, ১ বলে লাগে ২২ রান,
আসলে হবে ২১। কিন্তু ২২ আর ২১ রানে কি এসে যায়? ট্র্যাজেডির শিকার তো তারা হয়েই
গেল।
কতটা
অন্যায্য। কতটা নির্দয়। কেপলার ওয়েসেলস, হ্যান্সি ক্রোনিয়ে আর জন্টি রোডসরা
হৃদয়ভঙ্গের বেদনা নিয়ে বাড়ি ফিরলেন।
এরপর
১৯৯৯। এজবাস্টনে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে ফাইনালে উঠতে শেষ চার বলে এক রান লাগতো
দক্ষিণ আফ্রিকার। স্ট্রাইকিং প্রান্তে টুর্নামেন্টের অজেয় খেলোয়াড় ল্যান্স
ক্লুজনার। এক মিনিট পরই সব এলোমেলো। অ্যালান ডোনাল্ড রানআউটের শিকার হলে ম্যাচটা
‘টাই’ হয়ে যায়। গ্রুপ পর্বের জয়ের সুবাদে ফাইনালের টিকিট পেয়ে যায় অস্ট্রেলিয়া!
তৃতীয়
ট্র্যাজেডি ২০০৩ সালে নিজেদেরই মাঠে। ডারবানে শ্রীলংকার বিপক্ষে এক বলে এক রান
প্রয়োজন ছিল দক্ষিণ আফ্রিকার। কিন্তু উইকেটে থাকা মার্ক বাউচার ও ল্যান্স ক্লুজনার
ভুল হিসাব কষলেন। তারা জানতেন, আর কোনো রান তাদের লাগবে না। ফলে শেষ বলটি ব্লক করেন
বাউচার। তার বিশ্বাস ছিল, এতেই তার দল নকআউট পর্বে উঠে যাবে। পরে জানলেন, এই ভুলে
তার দল বিদায় নিয়েছে।
এবার
ভারতের মাঠে কি ভাগ্য বদলাতে পারবে ভাগ্য বিড়ম্বিত দক্ষিণ আফ্রিকা?










