অনেক বিরোধিতা, অনেক সমালোচনা ছিল। তবে এর কিছুই বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। ২০৩৪ সালের ফুটবল বিশ্বকাপ হিসেবে সৌদি আরবকে বেছে নিয়েছে ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। সেই সঙ্গে ২০৩০ বিশ্বকাপ আয়োজন করবে ইউরোপ, আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকার মোট ছয় দেশ। সৌদি আরব অবশ্য এককভাবেই আয়োজন করবে বিশ্বকাপ আসর। ১১ ডিসেম্বর ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠিত বিশেষ ফিফা কংগ্রেসে সদস্যদেশগুলোর ভোটে আসর দুটির আয়োজক চূড়ান্ত করা হয়।

২০২৬ সালে উত্তর আমেরিকার যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো আর কানাডায় বসবে ফুটবল বিশ্বকাপ আসর। এরপর ২০৩০ বিশ্বকাপে মূল আয়োজক হিসেবে থাকবে স্পেন, পর্তুগাল ও মরক্কো। ফিফা বিশ্বকাপের শতবর্ষ পূর্তি উপলক্ষে টুর্নামেন্টের শুরুতে একটি করে ম্যাচ আয়োজন করবে লাতিন আমেরিকার দেশ উরুগুয়ে, আর্জেন্টিনা ও প্যারাগুয়ে। স্পেন, পর্তুগাল, মরক্কো ও প্যারাগুয়ের মাঠে এই প্রথম বিশ্বকাপের ম্যাচ হতে যাচ্ছে।

ফিফা কংগ্রেসে ২১১টি সদস্যদেশের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। উরুগুয়ে, আর্জেন্টিনা ও প্যারাগুয়ে যৌথভাবে বিশ্বকাপ আয়োজন করতে চেয়েছিল। পরে সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে। যদিও তাদের প্রত্যেক দেশে একটি করে বিশ্বকাপের ম্যাচ হবে। ১৯৩০ সালে প্রথম ফিফা বিশ্বকাপের আয়োজক ছিল উরুগুয়ে। সেবার ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে বিশ্বকাপ জয় করেছিল স্বাগতিকরা।

আলোচনায় এখন সৌদি আরবের বিশ্বকাপ আয়োজন। তারা এশিয়ার চতুর্থ ও মধ্যপ্রাচ্যের দ্বিতীয় দেশ হিসেবে বিশ্বকাপ আয়োজন করবে। ২০২২ সালে কাতার সফলভাবে বিশ্বকাপ আয়োজন করে। মধ্যপ্রাচ্যের সেই আসরের ফাইনালে ফ্রান্সকে হারিয়ে শিরোপা জয় করেন লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা। কাতারের আয়োজন নিয়ে বড় একটি অংশের যেমন সংশয় ছিল, তেমনি মুসলিম দেশটিতে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ইস্যু নিয়ে সরব হয় আরেকটি অংশ। এমনকি বিশ্বকাপ চলাকালেও প্রতিবাদ চলছিল। অবশেষে সফলভাবে বিশ্বকাপ আয়োজনের পর কাতারকে নিয়ে সব সংশয় দূর হয়।

কাতারের পর দ্বিতীয় আরব দেশ হিসেবে বিশ্বকাপ আয়োজন করতে যাচ্ছে সৌদি আরব। তারাও বিরোধিতার মুখে পড়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের দেশটির মানবাধিকার ও শ্রম পরিস্থিতির প্রতি উদ্বেগ আছে বিভিন্ন দেশ ও সংস্থার। সেখানে অভিবাসী ও নারীর অধিকার লঙ্ঘিত হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। দেশটিতে বিনা বিচারে অভিবাসী শ্রমিকদের হত্যার গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া ২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সৌদি সাংবাদিক জামাল খাসোগিকে হত্যার পরই মূলত সৌদি আরবের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হয়। অভিযোগ রয়েছে, নানা কলঙ্ক ঢাকতেই ‘স্পোর্টসওয়াশ’ প্রকল্প হাতে নিয়েছে সৌদি আরব সরকার। এজন্য তারা বড় বড় ক্রীড়া আসর আয়োজনের পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে। এতদিন ইউরোপিয়ান ক্লাব ফুটবলের ম্যাচ ছাড়াও টেনিস, বক্সিংসহ নানা খেলার আয়োজন করেছে দেশটি। এবার ফুটবল বিশ্বকাপের মতো বড় আয়োজনের সুযোগ পেল দেশটি।

সদস্যদেশগুলোর ভোটে ২০৩০ বিশ্বকাপের জন্য স্পেন, পর্তুগাল ও মরক্কো এবং ২০৩৪ বিশ্বকাপের জন্য সৌদি আরবকে আয়োজক হিসেবে চূড়ান্ত করা হয়। ভার্চুয়াল সভায় উত্থাপিত বা প্রস্তাবিত নামের প্রতি সমর্থন প্রকাশে উপস্থিত প্রতিনিধিদের ক্যামেরার সামনে হাততালি দিতে বলা হয়, যা ভোট হিসেবে গণ্য হয়। অবশ্য বিশ্বকাপ আয়োজক হিসেবে কংগ্রেসে উত্থাপিত নামের বাইরে অন্য কোনো নামও ছিল না। ২০৩০ বিশ্বকাপের জন্য স্পেন, পর্তুগাল ও মরক্কো যৌথভাবে এবং ২০৩৪ বিশ্বকাপের জন্য সৌদি আরব এককভাবে বিড করে। বিডে একাধিক দেশ থাকলে ভোটাভুটির প্রক্রিয়া ভিন্ন হতো। তাই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় স্বাগতিক নির্বাচিত হয়ে যায় সৌদি আরব। যাদের নিয়ে এত সমালোচনা তারাই কিনা আয়োজক হলো কোনো লড়াই না করেই!

আয়োজক দেশ ‘বেশকিছু’ অঙ্গীকার শোনানোর পর তাদের ভোট দিতে দ্বিধা করেনি ইংলিশ ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এফএ)। সৌদি আরবকে সমর্থনের কথা প্রকাশ্যেই জানিয়েছে তারা। সবাই অবশ্য সমর্থন দেয়নি। বুধবারের ফিফা কংগ্রেসে ২০৩৪ বিশ্বকাপের আয়োজক নির্বাচনে ভোটদানে বিরত থেকেছে নরওয়ে। সৌদি আরবকে আয়োজক স্বত্ব দেয়ার কারণে নয়, বরং যে বিডিং প্রক্রিয়ায় দেশটিকে আয়োজক হওয়ার ব্যবস্থা করে দেয়া হয়েছে, তার প্রতিবাদে নরওয়ের এমন অবস্থান বলে জানায় বিবিসি।

২০২৬ সালের বিশ্বকাপ হবে ৪৮ দল নিয়ে। এরপর ২০৩০ ও ২০৩৪ সালেও ৪৮টি করে দেশ খেলার সুযোগ পাবে।