চ্যাম্পিয়নস লিগের গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নেয়া বার্সেলোনার অবনমন হয় ইউরোপা লিগে। কিন্তু ইউরোপের দ্বিতীয় বৃহত্তম এ ক্লাব প্রতিযোগিতায়ও হতাশ করল কাতালানরা। বৃহস্পতিবার রাতে কোয়ার্টার ফাইনালের ফিরতি লেগে ঘরের মাঠে আইনট্রাখট ফ্রাঙ্কফুর্টের কাছে ৩-২ গোলে হেরে গেছে বার্সা। এতে শেষ আট থেকে বিদায় নিশ্চিত হয় জাভির শিষ্যদের।
জার্মান ক্লাবটির মাঠে প্রথম লেগ ১-১ গোলে ড্র হয়েছিল। দুই লেগ মিলিয়ে ৪-৩ গোলে এগিয়ে থেকে সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে ফ্রাঙ্কফুর্ট।
এদিকে পর্তুগালের ক্লাব ব্রাগার বিপক্ষে ৩-২ অগ্রগামিতায় সেমিতে উঠল স্কটিশ ক্লাব রেঞ্জার্স। ফরাসি ক্লাব লিওঁকে দুই লেগ মিলিয়ে ৪-১ ব্যবধানে উড়িয়ে শেষ চার নিশ্চিত করেছে ইংলিশ ক্লাব ওয়েস্ট হ্যাম। সিরি-আ ক্লাব আটালান্টাকে দুই লেগে মিলিয়ে ৩-১ গোলে হারিয়ে সেমিতে উঠেছে বুন্দেস লিগার দল আরবি লাইপজিগ।
ইউরোপা লিগে বার্সেলোনার ইতিহাস খুবই নাজুক। এর আগে এ প্রতিযোগিতায় সর্বশেষ ২০০৩-০৪ আসরে খেলেছিল স্প্যানিশ জায়ান্টরা। সেবার শেষ ষোলো থেকে বিদায় নিয়েছিল রোনালদিনহো-জাভিদের বার্সা। ওইবার প্রথম লেগে স্কটিশ ক্লাব সেল্টিকের মাঠে গোলশূন্য ড্র করে আসে তারা। পরে নিজেদের মাঠে ১-১ গোলে ড্রয়ের ফলে ‘অ্যাওয়ে’ গোলের হিসেবে পরাজয় বরণ করে বার্সা, পরের রাউন্ডে চলে যায় সেল্টিক। তখন এ টুর্নামেন্টের নাম ছিল উয়েফা কাপ। ২০০৯-১০ আসরে ‘ইউরোপা লিগ’ নামকরণের পর এইবার প্রথম দ্বিতীয় সারির টুর্নামেন্টে খেলতে নামে কাতালানরা। সেখানেও ফলাফলটা অনেকটা আগের মতোই। ফ্রাঙ্কফুর্টের মাঠে ১-১ গোলে ড্র করার পর ঘরের মাঠ ক্যাম্প ন্যুয়ে হেরে গেছে ৩-২ গোলে!
উয়েফা কাপ ও ইউরোপা লিগে সব মিলিয়ে এ নিয়ে ১২ বারের মতো খেলছে বার্সা। কখনো শিরোপা জিততে পারেনি। চারবার বিদায় নিয়েছিল সেমিফাইনাল থেকে।
ঘরের মাঠে মহাদেশীয় প্রতিযোগিতায় এ নিয়ে টানা চার ম্যাচ জয়হীন থাকলো স্প্যানিশ হেভিওয়েটরা। ফিরতি লেগের ম্যাচে প্রথমার্ধেই কোস্টিক (৪ মিনিট) ও বোরে মৌরির গোলে (৩৬ মি.) ২-০ তে এগিয়ে যায় অতিথিরা। ৬৭ মিনিটে কোস্টিক আরো একটি গোল করলে ম্যাচ থেকেই ছিটকে পড়ে স্বাগতিকরা। দ্বিতীয়ার্ধের যোগ করা সময়ে ঘুরে দাড়ানোর চেষ্টা করেও সফল হয়নি জাভি হার্নান্দেজের শিষ্যরা। মিডফিল্ডার সার্জিও বুসকেটস যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে ব্যবধান কমান। শেষ মুহূর্তে ডাচ ফরোয়ার্ড মেমফিস ডিপাই লক্ষ্যভেদ করলে স্কোরলাইন ৩-২ হয়। তবুও হার এড়াতে পারেনি কাতালানরা। শেষ হয় ইউরোপা লিগে বার্সার আরেকটি হাতাশার গল্প।










