গত সাত বছর প্যারিস সেন্ট জার্মেই (পিএসজি) ক্লাবে খেলেছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। এ অধ্যায়ের এখানেই শেষ হতে চলল। এমবাপ্পে শুক্রবার ঘোষণা দিয়েছেন, চলতি মৌসুম শেষে তিনি পিএসজি ছেড়ে চলে যাবেন। 

নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্টে এক ভিডিওবার্তায় তিনি এ সিদ্ধান্তের কথা জানান। এমবাপ্পে বলেন, ‘আমি সব সময়ই বলেছি, সময় এলে আপনাদের সঙ্গে কথা বলব। প্যারিস সেন্ট জার্মেইয়ে এটাই আমার শেষ মৌসুম। আমি আর চুক্তি নবায়ন করছি না এবং রোমাঞ্চকর এক অধ্যায়ের এখানেই শেষ।’

পিএসজির সঙ্গে এমবাপ্পের চুক্তির মেয়াদ জুনেই শেষ হয়ে যাচ্ছে এবং গত জুনে সংবাদমাধ্যমে গুজব ছড়ায়—রিয়ালে যোগ দিতে সম্মত হয়েছেন এমবাপ্পে। 

বিশ্বকাপজয়ী এ ফরোয়ার্ড পিএসজির হয়ে রেকর্ড ২৫৫ গোল করেছেন। তিনি আজ তুলুজের বিপক্ষে পিএসজির জার্সিতে শেষবারের মতো মাঠে নামবেন। লিগে এরপরও পিএসজির ম্যাচ আছে ১৫ মে নিস ও ১৯ মে মেৎজের বিপক্ষে এবং ২৫ মে তারা ফ্রেঞ্চ কাপ ম্যাচ খেলবে লিওঁর বিপক্ষে। এসব ম্যাচে এমবাপ্পে থাকছেন না। 

২০১৭ সালে ১৮ কোটি ইউরোয় মোনাকো থেকে পিএসজিতে নাম লেখান এমবাপ্পে। বিশ্বের অন্যতম সেরা এ স্ট্রাইকার বলেছেন, পিএসজি তাকে একজন খেলোয়াড় ও ব্যক্তি হিসেবে বেড়ে উঠতে সাহায্য করেছে। সেই থেকে পিএসজির হয়ে অসংখ্য শিরোপা জিতলেও ইউরোপিয়ান মুকুট পাননি এমবাপ্পে। চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ের স্বপ্নপূরণেই তিনি রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দিচ্ছেন। 

বিদায়ের ঘোষণায় এমবাপ্পে বলেন, ‘অনেক আবেগাপ্লুত আমি। অনেকটা বছর কাটিয়ে দিলাম এ ক্লাবে, যেটি কিনা ফ্রান্স ও বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম ক্লাব। এখানে খেলতে পারাটা আমার জন্য একটি সুযোগ ও সম্মানের বলতে পারেন। এ ক্লাবটিই আমাকে আজকের জায়গায় নিয়ে এসেছে। এখানে খেলে আমি অসাধারণ অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি। বিশ্বের সেরা সব খেলোয়াড়, সব চ্যাম্পিয়নের সঙ্গে আমি একই ড্রেসিংরুম শেয়ার করেছি। বিদায় বলাটা কঠিন এবং আমি কখনই ভাবিনি যে এ ঘোষণা দেয়া একটা কঠিন। কিন্তু আমার মনে হয়, এর প্রয়োজন রয়েছে। সাত বছর পর আমাকে নতুন চ্যালেঞ্জ নিতে হচ্ছে।’

২০২১-২২ মৌসুম শেষে ‘ফ্রি ট্রান্সফার’-এ পিএসজি ছাড়ার কথা ছিল এমবাপ্পের। তখন রিয়ালের সঙ্গে তার কথা প্রায় পাকা। যদিও শেষ মুহূর্তে সিদ্ধান্ত পাল্টে তিনি দুই বছরের জন্য চুক্তি নবায়ন করেন, যেটি আরো এক বছর বাড়িয়ে নেয়ার ‘অপশন’ ছিল। গত মৌসুম শেষে এমবাপ্পে জানিয়ে দেন, তিনি ‘অপশন’ হিসেবে থাকা ১২ মাসের জন্য চুক্তিটা নবায়ন করবেন না। যদিও এ ১২ মাসের চুক্তি নবায়ন করলেই তিনি ১০ কোটি ইউরো পেতেন ‘বোনাস’ হিসেবে।

তার সিদ্ধান্তে চটে যান পিএসজির কর্মকর্তারা। এমনকি খেলোয়াড়টিকে জাপানে প্রাক-মৌসুম সফরেও রাখা হয়নি। ওই সময় তাকে সৌদি প্রো-লিগের দল আল হিলালের কাছে ২৫ কোটি ৯০ লাখ পাউন্ডের বিশ্বরেকর্ড ফিতে বিক্রির পরিকল্পনা করে পিএসজি। যদিও খেলোয়াড়টি সৌদি ক্লাবটির প্রতিনিধি দলের সঙ্গে সাক্ষাতে অনীহা প্রকাশ করেন। এরপর ক্লাব কর্মকর্তাদের সঙ্গে ‘খুবই গঠনমূলক ও ইতিবাচক’ আলোচনা হলে খেলোয়াড়টি ফিরে আসেন মূল দলের অনুশীলনে। শাস্তি হিসেবে যে ক্লাবটি তাকে বেঞ্চে বসিয়ে পর্যন্ত রেখেছে, সেই ক্লাবের প্রতি তিনি কোনো ক্ষোভ পুষে রাখেননি। বরং স্বাভাবিক খেলাটা খেলে যান এবং ৪৬টি অফিশিয়াল ম্যাচে ৪৩ গোল করেন। প্যারিসিয়ানরা লিগ শিরোপা জিতলেও চ্যাম্পিয়ন্স লিগ সেমিতে হেরে যায়। 

গত ১৩ ফেব্রুয়ারি পিএসজি প্রেসিডেন্ট নাসের আল-খেলাইফির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে এমবাপ্পে জানান, তিনি যোগ দেবেন রিয়ালে মাদ্রিদে। এটা জানা যায়, চলতি মৌসুমে যখন চ্যাম্পিয়ন্স লিগে পিএসজি ও রিয়ালের আর মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে না, তখনই বিদায়ের ঘোষণাটি দেবেন এমবাপ্পে। সম্প্রতি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ সেমিফাইনালে জার্মানির বরুশিয়া ডর্টমুন্ডের কাছে হেরে বিদায় নিয়েছে পিএসজি। আরেক সেমিতে রিয়াল দুই লেগ মিলিয়ে হারিয়ে দেয় জার্মান দল বায়ার্ন মিউনিখকে। এ মৌসুমে পিএসজি ও রিয়ালের আর দেখা হওয়ার সম্ভাবনা নেই। 

এমবাপ্পে আরো বলেন, ‘কাউকে ভালোবাসা যায় কিংবা ঘৃণাও করা যায়। আমি সাত বছর ধরে পিএসজিকে ভালোবেসেছি। হয়তো সমর্থকদের ভালোবাসার প্রতিদান দিতে পারিনি, তবে কখনো প্রতারণা করিনি, কার্যকর এক খেলোয়াড় হতে চেয়েছি। মর্যাদাপূর্ণ এ ক্লাবটিতে যোগ দিয়ে আমি এক মুহূর্তের জন্যও অনুশোচনা করিনি। এ ক্লাবটির স্মৃতি আমি আজীবন মনে রাখব।’