দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রিকেট থেকে এবি ডি ভিলিয়ার্স অবসর নিয়েছেন কয়েক বছর আগে। গত বছর ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) শেষে সব ধরনের ক্রিকেটকেই তিনি ছুটি দিয়েছেন। দেখা যাবে না ফ্রাঞ্চাইজি লিগেও।
ডি ভিলিয়ার্স অবসর নিয়েছেন ঠিকই; কিন্তু জাতীয় দলে তার শূন্যস্থান পূরণ করার মতো এত দিনেও কেউ আসেনি। তবে চলতি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে ১৮ পেরোনো এক তরুণের ব্যাটিং স্টাইল ও সামর্থ্য মনে করিয়ে দিচ্ছে, নতুন একজন এবি ডি ভিলিয়ার্সের আগমনের অপেক্ষায় দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রিকেট। ৩৬০ ডিগ্রী খ্যাত ডি ভিলিয়ার্সের সেই শূন্য জায়গাটিই ঘুচানোর আভাস দিচ্ছেন জোহানেসবার্গে জন্ম নেয়া ডেওয়াল্ড ব্রেভিস।
সমপ্রতি ক্রিকেট পাড়ায় সাড়া জাগিয়ে দেয়া এই তরুণ তুর্কিকে ‘এবিডি ২.০’ ও ‘বেবি ডি ভিলিয়ার্স’ নামে সম্বোধন করা হচ্ছে। তিনিও অবশ্য ডি ভিলিয়ার্সকেই আইডল হিসেবে নিয়েছেন। সাক্ষাতও করেছেন সাবেক প্রোটিয়া ব্যাটারের (ডি ভিলিয়ার্স) সঙ্গে। ব্রেভিস যে জার্সি পরে খেলেন সেটিও ডি ভিলিয়ার্সের সঙ্গে মিল রেখেছেন। জার্সি নম্বর ‘১৭’।
চলমান আইসিসি অনুর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে বেশ নজরকাড়া পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন ব্রেভিস। তার দল দক্ষিণ আফ্রিকা ইংল্যান্ডের কাছে হেরে ইতোমধ্যে বিদায় নিয়েছে টুর্নামেন্ট থেকে। তবে এখনো পর্যন্ত টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ রানসংগ্রাহকের তালিকায় শীর্ষে আছেন ব্রেভিসই। চার ম্যাচে ৯০.৫০ গড়ে ৩৬২ রান করেছেন তিনি। যেখানে তিনটি ফিফটির পাশপাশি রয়েছে একটি সেঞ্চুরি।
ব্রেভিস শুধু একজন ব্যাটারই নন; দুর্দান্ত লেগ স্পিনারও। বল হাতে বিশ্বকাপে ছয়টি উইকেটও নিয়েছেন। ফুল টাইম একজন বোলারের ভূমিকায় দেখা যায় তাকে। এই অলরাউন্ডার চলমান অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে প্রস্তুতি ম্যাচ থেকেই রানের ফুলকি ছোটানো শুরু করেন। একমাত্র প্রস্তুতি ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে করেন ৫০ রান। মূলপর্বে প্রথম ম্যাচে ভারতের বিপক্ষে ব্যাট হাতে করেন ৬৫ রান এবং বল হাতে নেন দুটি উইকেট। পরের ম্যাচে উগান্ডার বিপক্ষে তুলে নেন সেঞ্চুরি (১০৪), সঙ্গে দুটি উইকেটও শিকার করেন। আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে সেঞ্চুরি থেকে চার রান দূরে (৯৬) আউট হন তিনি। দলের বিদায়ী ম্যাচে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দুটি উইকেটসহ ৯৭ রান করেন ব্রেভিস। টপ অর্ডারে ব্যাটিং করা এই অলরাউন্ডার প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে এখনো নিজের নাম লিখাতে পারেননি। লিস্ট-এ ম্যাচ খেলেছেন মাত্র ৭-৮টা। টি-টোয়েন্টি খেলেছেন মাত্র দুটি। এর আগেই তার দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে ক্রিকেট পাড়ায় আলোচনার ঝড় ওঠে।
সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে ব্রেভিসের ব্যাটিং স্টান্স, শট খেলার ধরণ, বোলারদের আক্রমণ করার পদ্ধতি থেকে শুরু করে সমগ্র ব্যাটিং স্টাইলই এবি ডি ভিলিয়ার্সের মতো। আর সেখান থেকেই এবির সাথে ব্রেভিসের তুলনা করছেন অনেকে, ‘বেবি ডি ভিলিয়ার্স’ ডাকনামটাও মিলেছে সেই সুবাদেই।
এবির সঙ্গে নিজের তুলনা দেখে অবশ্য দারুণ উচ্ছ্বসিত ব্রেভিস। তবে পাশাপাশি নিজের পরিচয় সৃষ্টি করতেও বদ্ধ পরিকর তিনি। ব্রেভিস জানান, সে (এবি ডি ভিলিয়ার্স) একজন কিংবদন্তি এবং নিঃসন্দেহে বিশ্বের সেরাদের একজন। তার সাথে আমার তুলনা হচ্ছে বিষয়টি সত্যিই দারুণ তবে আমি নিজেকে ডেওয়াল্ড ব্রেভিস হিসেবেই পরিচিত করতে চাই।
ডি ভিলিয়ার্সের সাথে সাক্ষাতের গল্পটাও জানিয়েছেন ব্রেভিস, (দেখা হওয়ার পর) প্রথমে তো আমি বেশ অভিভূত হয়ে গিয়েছিলাম। আমার মুখ দিয়ে কথাই বের হচ্ছিল না। আমি কেবল সেখানে বসে তার (এবি ডি ভিলিয়ার্স) কথা শুনছিলাম। ধীরে ধীরে আমাদের সম্পর্কটি গভীর হয় এবং তার সাথে কথা বলাও সহজতর হয়। এবি সবসময়ই আমার আইডল ছিলেন।
আরেকটি বিষয় লক্ষণীয় যে, আইডল এবির মতো করে ব্রেভিসও ১৭ নম্বর জার্সি পরেন। এ প্রসঙ্গে ব্রেভিস জানান, সে (এবি) ১৭ নম্বর জার্সি পরতো। আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম আমিও ১৭ নম্বর জার্সি পড়তে পারি কি-না? সে আমাকে স্বাগতম জানাল। এই জার্সি পরতে পারাটা আমার জন্য দারুণ সম্মানের বিষয়।
ব্রেভিস যেভাবে পারফর্ম করে যাচ্ছেন, নতুন এবি ডি ভিলিয়ার্সের স্বপ্ন দেখতেই পারে ক্রিকেট দক্ষিণ আফ্রিকা।










