ইউরোপের অধ্যায় শেষ করে সৌদি প্রো-লিগের দল আল নাসেরে নাম লেখানোর দুই বছর পূর্তিতে পর্তুগিজ সুপারস্টার ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো বলেছেন, তিনি শিরোপার জন্য ক্ষুধার্ত।
২০২৩ সালের জানুয়ারিতে দল বদলে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ছেড়ে আল নাসেরে নাম লেখান রোনালদো। এ ক্লাবটিতে খেলে তিনি বছরে ২০ কোটি ডলার পান শুধু পারিশ্রমিক হিসেবেই। এত উচ্চ পারিশ্রমিকে তাকে দলভুক্ত করে আল নাসের যে মোটেও ভুল করেনি, পর্তুগাল জাতীয় দলের অধিনায়ক তা প্রমাণ করে চলেছেন। আল নাসেরের হয়ে এখন পর্যন্ত ৮৩ ম্যাচ খেলে ৭৪ গোল করা এ সুপারস্টার সম্প্রতি গ্লোব সকার অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানে ‘বেস্ট মিডল ইস্ট প্লেয়ার ২০২৪’ জয় করেন।
আগামী ৫ ফেব্রুয়ারি ৪০ বছরে পা দিতে চলা রোনালদো রিয়াদে নিজের সময় নিয়ে লিগের নিজস্ব মিডিয়া চ্যানেলকে বলেন, ‘এখানে আমি সুখী, আমার পরিবারও সুখী। সুন্দর এই দেশটিতে আমরা নতুন এক জীবন শুরু করেছি। জীবন দারুণ চলছে, ফুটবলও। ব্যক্তিগত ও সমষ্টিগত দিক বিবেচনায় বললে, আমরা উন্নতির ধারায় রয়েছি।’
ক্যারিয়ারে নয় শতাধিক গোল করা রোনালদো আন্তর্জাতিক ফুটবলে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ ও সবচেয়ে বেশি গোল করার রেকর্ড গড়েছেন। তিনি মনে করেন, সৌদি পেশাদার লিগটি সঠিক পথেই রয়েছে। সিআর সেভেন বলেন, ‘এটা আমার জন্য সম্মানের যে, এ লিগটিতে অনেক তারকা খেলোয়াড় আসছেন এবং তারা লিগটিকে আরো উন্নত ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হতে সাহায্য করছেন। আমি মনে করি, এই লিগটি উন্নতি করে যাচ্ছে এবং ভালো একটি অবস্থানে পৌঁছতে আরো পাঁচ থেকে ১০ বছর লেগে যাবে। এটা শুধু ফার্স্ট টিমের জন্যই নয়, একাডেমির জন্যও সত্য। কেবল সৌদির খেলোয়াড় ও লিগের জন্যই নয়, এই দেশটির জন্যও এখানকার ফুটবলের উন্নতি প্রয়োজন, যাতে তারা অন্য দেশের লিগের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারে। এ দেশ ও এখানকার লিগকে আমি সেই উচ্চতায় পৌঁছে দিতে সাহায্য করব। এটাই আমার স্বপ্ন।’
রোনালদোকে নিজেদের ফুটবলের একজন শুভেচ্ছাদূত হিসেবেও দেখে সৌদি আরব। এ কথা মনে করিয়ে দিয়ে রোনালদো বলেন, ‘মানুষজন ক্রিস্টিয়ানোকে একটি দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখে থাকে। এটা শুধু মাঠেই নয়, মাঠের বাইরের বিষয়েও।’
আল নাসেরে যোগ দেয়ার পর একটি শিরোপা জিততে সমর্থ হয়েছেন রোনালদো। ২০২৩ সালে আরব ক্লাব চ্যাম্পিয়নস কাপ জয় করেছে তার আল নাসের। গত মৌসুমে শিরোপা জিততে ব্যর্থ হলেও সৌদি পেশাদার লিগে রেকর্ড গড়ে ৩৫ গোল করেন রোনালদো।
তিনি বলেন, ‘আপনি জানেন, শিরোপা জিতলে আপনার জন্য সবকিছু সহজ হয়ে যায়। এখানে আমার প্রথম শিরোপা জয় করাটা ছিল দারুণ ব্যাপার। কিন্তু আমি আরো শিরোপা চাই। আমি আমার ক্লাব আল নাসেরকে আরো শিরোপা এনে দিতে যথাসম্ভব সাহায্য করব। আশা করি, এ বছরটি আল নাসেরের ভালো কাটবে।’
সৌদি লিগে চতুর্থ স্থানে রয়েছে আল নাসের। শীর্ষ দল আল ইত্তিহাদের চেয়ে ১১ পয়েন্ট পেছনে পড়ে আছে রোনালদোর ক্লাব। লিগ নিয়ে তিনি বলেন, ‘আল হিলাল ও আল ইত্তিহাদের মতো দলের সঙ্গে লড়াই করা খুব কঠিন, কিন্তু আমরা তাদের ওপর চাপ তৈরি করে যাচ্ছি ও লড়াই করছি। ফুটবল তো এমনই—ভালো ও খারাপ সময় উভয়ই আসবে, কিন্তু আমি যেন সবসময় পেশাদার থাকি, প্রতিপক্ষকে চাপে রাখি, ক্লাব ও চুক্তিকে সম্মান দেখাই এবং বিশ্বাস করি যে, সময় আমাদেরও আসবে, আল নাসের আরো শিরোপা জিতবে।’
রোনালদো জানিয়েছেন, এএফসি চ্যাম্পিয়নস লিগ শিরোপা জিততে চান তিনি।
এক রিয়াল মাদ্রিদের হয়েই চারটি চ্যাম্পিয়নস লিগসহ মোট ১৫টি শিরোপা জিতেছেন রোনালদো। এছাড়া ম্যানইউর হয়ে নয়টি, জুভেন্টাসের হয়ে পাঁচটি ও আল নাসেরের হয়ে একটি শিরোপা জিতেছেন এই সুপারস্টার। সাতটি লিগ শিরোপা ও পাঁচটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ শিরোপা তার নামের পাশে। পর্তুগাল জাতীয় দলের হয়ে ইউরো ও উয়েফা নেশনস লিগ শিরোপা জয়ের কৃতিত্ব দেখিয়েছেন। ক্লাব ও জাতীয় দলের হয়ে জিতেছেন ৩৫টি শিরোপা। আর পাঁচটি ব্যালন ডি’অরসহ ব্যক্তিগত পুরস্কারে তার শোকেস ভরা। তবু শিরোপার ক্ষুধা কমেনি তার। ইএসপিএন










