গতবার ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডকে পরাজিত করে উয়েফা ইউরোপা লিগের চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ভিয়ারিয়াল। গত মৌসুমে পয়েন্ট টেবিলের সাত নম্বরে থেকে লা লিগা শেষ করলেও ইউরোপা লিগে চ্যাম্পিয়ন হওয়ায় উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের চলতি মৌসুমে খেলার সুযোগ পায় স্প্যানিশ ক্লাবটি। ইউরোপিয়ান ক্লাব ফুটবলের সর্বোচ্চ মঞ্চেও বাজিমাত করছে দলটি। ফাইনাল থেকে মাত্র এক কদম দূরে উনাই এমেরির শিষ্যরা।
শেষ ষোলোয় জুভেন্টাসকে উড়িয়ে দেয়ার পর কোয়ার্টার ফাইনালে আরেক ফুটবল পরাশক্তি বায়ার্ন মিউনিখকে হারায় ইউলো সাবমেরিনরা। এবার সেমিফাইনালে তাদের সামনে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের শক্তিশালী ক্লাব লিভারপুল। আজ অ্যানফিল্ডে বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় সেমির প্রথম লেগে মুখোমুখি হবে লিভারপুল ও ভিয়ারিয়াল।
ভিয়ারিয়াল এ নিয়ে দ্বিতীয়বার চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনাল খেলছে। এর আগে ২০০৫-০৬ মৌসুমে সেমিফাইনাল খেলেছিল। ওইবার আর্সেনালের বিপক্ষে দুই লেগ মিলিয়ে ২-০ গোলে হেরে বিদায় নিয়েছিল দলটি। অন্যদিকে লিভারপুল চ্যাম্পিয়নস লিগে ১২ বারের মতো সেমিফাইনাল খেলছে। এছাড়া নয়বার তারা আসরটির ফাইনালে খেলেছে। ছয়বার শিরোপাসহ তিনবার রানার্সআপ হয়েছে। ২০১৮-১৯ মৌসুমে টটেনহ্যামকে ২-০ গোলে হারিয়ে শিরোপা জিতেছিল লিভারপুল। এবারো অল রেডস শিরোপার অন্যতম দাবিদার।
শেষ ষোলোয় ইতালিয়ান ক্লাব ইন্টার মিলানকে ২-১ এবং কোয়ার্টার ফাইনালে পর্তুগালের ক্লাব বেনফিকাকে দুই লেগ মিলিয়ে ৬-৪ ব্যবধানে হারায় লিভারপুল।
চ্যাম্পিয়নস লিগে এর আগে কখনো লিভারপুল-ভিয়ারিয়াল মুখোমুখি হয়নি। এবারই প্রথম দেখা হচ্ছে। তবে ২০১৫-১৬ মৌসুমে ইউরোপা লিগের সেমিফাইনালে একবার তাদের দেখা হয়েছিল। যেখানে প্রথম লেগ লিভারপুল ৩-০ গোলে জেতে, ফিরতে লেগে ভিয়ারিয়াল ১-০ গোলে জয় পায়। তবে দুই লেগ মিলিয়ে ৩-১ ব্যবধানে হেরে বিদায় নেয় ভিয়ারিয়াল।
সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে শেষ পাঁচ ম্যাচে তিনটি করে জয় ও দুটি করে ড্র রয়েছে দল দুটির। নিজেদের প্রমাণের জন্য দু’দলই প্রস্তুত।
তবে চমক দেখানো ভিয়ারিয়ালকে হালকা ভাবে নিচ্ছেন না লিভারপুল কোচ ইয়ুর্গেন ক্লপ। সেমিফাইনালের মহারণে নামার আগে সংবাদ সম্মেলনে ক্লপ বলছেন, আমরা শক্ত একটা প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হতে যাচ্ছি। যারা এই প্রতিযোগিতার জন্য তৈরি। যেভাবে তারা সবকিছু করে এসছে, এটা সত্যিই ভালো।
ক্লপ বলেন, গত দুই ম্যাচে হয়তো তারা কিছুটা সুবিধা পেয়েছে। হয়তো জুভেন্টাস ও বায়ার্ন তাদের হালকাভাবে নিয়ে নিয়েছে। কিন্তু এটা আমরা কখনোই করবো না।
শুধু খেলোয়াড়দের মধ্যেই নয়, লড়াইটা হবে দুই দলের কোচদের মধ্যেও। উনাই এমেরি খেলাটা খুব ভালো বুঝেন। ডাগআউটে ইউলো সাবমেরিনের মূল চালক হবেন এমেরি। অপরদিকে রেডদের ডাগআউটে আছেন প্রমাণিত কোছ ক্লপ।
এমেরির কাঁধে ভর করে লিভারপুল বাধা কি পার হতে পারবে ভিয়ারিয়াল নাকি আবারো ফাইনালে যাচ্ছেন ক্লপ? এই প্রশ্নের উত্তর রাতেই পাবেন সমর্থকরা।










