আইসিসি টি২০ বিশ্বকাপের অষ্টম আসর শুরু আজ। সংক্ষিপ্ত সংস্করণের এই বিশ্বকাপে বাংলাদেশের রেকর্ড খুব দুর্বল। এখন পর্যন্ত সাত আসরে ৩৩ ম্যাচ খেলে ২৫টিই হেরেছে বাংলাদেশ, জয় এসেছে সাতটি, আর একটি ম্যাচ পরিত্যক্ত হয়েছে। সেরা সাফল্য ২০০৭ আসরে সুপার এইট পর্বে উত্তরণ। বর্তমান ফর্মও খুব ভালো যাচ্ছে না। এরপরও সাকিব আল হাসানের দলকে নিয়ে আশাবাদী টেকনিক্যাল কনসালট্যান্ট শ্রীরাম শ্রীধরন।

গত আগস্ট-সেপ্টেম্বরে সংযুক্ত আরব আমিরাতে এশিয়া কাপে গ্রুপ পর্বের গণ্ডিই পেরোতে পারেনি বাংলাদেশ। আর নিউজিল্যান্ডে সদ্য সমাপ্ত টি২০ সিরিজে চারটি ম্যাচের একটিও জেতা হয়নি। এই পরিস্থিতিতে সাকিব আল হাসানের দল গতকাল টি২০ বিশ্বকাপ খেলতে পৌঁছে গেছে অস্ট্রেলিয়ায়। এবার সামনে বৈশ্বিক আসরের নতুন চ্যালেঞ্জ। কিন্তু বর্তমান ফর্ম নিয়ে টাইগারদের কাছ থেকে কতটা প্রত্যাশা করা যায়? শ্রীধরন অবশ্য আশাবাদী, বিশ্বকাপে জ্বলে উঠবে তার দল, ফর্মেও ফিরবেন ক্রিকেটাররা।

টি২০ সিরিজে ওপেনিং জুটিতে মোট চারজনকে খেলিয়ে পরখ করেছেন শ্রীধরন। এ নিয়ে তিনি নিজেদের অবস্থানও পরিষ্কার করেছেন। বলেছেন, আমরা আমাদের সেরা দলটি বিশ্বকাপে কীভাবে খেলাতে পারি সেটি আমাদের মাথায় পরিষ্কার। এ বিষয়টি নিয়ে অধিনায়ক, আমি নিজে ও পরিচালকরা একমত। আমরা কী ধরনের কম্বিনেশন চাই সে ব্যাপারেও আমরা পরিষ্কার হয়েছি। আমরা দু-তিনটি কম্বিনেশন পেয়ে গিয়েছি, যা আমরা কন্ডিশন অনুযায়ী ব্যবহার করব।

বিপিএলের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন এই কোচ জানান, এমনকি বিশ্বকাপেও প্রতিপক্ষ ও কন্ডিশনের ওপর নির্ভর করে টপ অর্ডার ব্যাটিং নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাবে বাংলাদেশ। তিনি বলেন, আপনি হয়তো এখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষা দেখেছেন, কিন্তু আমরা দেখেছি ভিন্ন কম্বিনেশনের ব্যাপার। বিভিন্ন পরিস্থিতিতে খেলোয়াড়রা কীভাবে সাড়া দেয় তা থেকে অনেক কিছু জানা যায়। আমরাও অনেক কিছু শিখেছি। আমরা বিভিন্ন দলের বিপক্ষে কেমন কম্বিনেশন খেলাব সে ব্যাপারে খুবই পরিষ্কার। এখানে কেবল ওপেনিং জুটির ব্যাপারই নয়, জিততে হলে সবকিছু একত্রে ভালো হতে হবে। এটা কেবল ওপেনিং জুটি বা পেস বোলিংয়ের ব্যাপার নয়। এটা গোটা দলের ব্যাপার। 

এদিকে টি২০ বিশ্বকাপে বাংলাদেশ স্কোয়াডে দুটি পরিবর্তন এসেছে। সাব্বির রহমান ও সাইফ উদ্দিনের জায়গায় দলে ঢুকেছেন সৌম্য সরকার ও শরিফুল ইসলাম। সৌম্য সরকার ও শরিফুল আগে ঘোষণা করা ১৫ সদস্যের বিশ্বকাপ স্কোয়াডে অপেক্ষমাণ তালিকায় ছিলেন। নিউজিল্যান্ডের মাঠে সদ্য সমাপ্ত ত্রিদেশীয় টি২০ সিরিজে ভালো পারফর্ম করায় তাদের বিশ্বকাপ স্কোয়াডে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তাদের জন্য জায়গা ছেড়ে দিতে হচ্ছে দুর্বল পারফর্ম করা সাব্বির ও সাইফ উদ্দিনকে। তারা দুজন নিউজিল্যান্ড থেকে দেশে ফিরছেন।

সৌম্যকে নিয়ে শ্রীধরন বলেন, সে (সৌম্য) শট খেলায় সাহসী ছিল এবং দলের জন্য খেলেছে, মোটেও স্বার্থপর নয়। গত ম্যাচে তিন নম্বরে নেমে সে দারুণ একটি নক খেলেছে, আমার কাছে যা দারুণ কিছু মনে হয়েছে। দলে আত্মবিশ্বাস সঞ্চারের জন্য তার মতো খেলোয়াড়ই আমাদের প্রয়োজন।

গতকাল ব্রিসবেনে পৌঁছায় বাংলাদেশ ক্রিকেট দল, যেখানে তারা ১৭ ও ১৯ অক্টোবর দুটি ওয়ার্মআপ ম্যাচ খেলবে যথাক্রমে আফগানিস্তান ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে। হোবার্টে বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ।

এটা অষ্টম টি২০ বিশ্বকাপ আসর। ২০০৭ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় বসেছিল সংক্ষিপ্ত ভার্সনের প্রথম বিশ্বকাপ। সেবার রোমাঞ্চকর ফাইনালে পাকিস্তানকে হারিয়ে মুকুট জয় করেছিল মহেন্দ্র সিং ধোনির ভারত। আজ ১৫ বছর পর সেই আসরের হাতেগোনা কয়েকজন ক্রিকেটার এখনো দেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন। তারা হলেন সাকিব আল হাসান, রোহিত শর্মা, দিনেশ কার্তিক ও শন উইলিয়ামস। ২০০৭ সালের পর আর কখনই সোনালি ট্রফিটা ছোঁয়া হয়নি ভারতের, যারা পরবর্তী সময়ে ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক টি২০ লিগ আইপিএলের সূচনা করে শত শত ক্রিকেটার বের করে নিয়ে এসেছে।

টি২০ বিশ্বকাপ ইতিহাসের প্রথম ম্যাচেই দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সেঞ্চুরি করেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্রিস গেইল, আন্তর্জাতিক টি২০ ক্রিকেটেও প্রথম সেঞ্চুরি। এরপর ওই আসরেই ইংল্যান্ডের স্টুয়ার্ট ব্রডের এক ওভারে ছয় ছক্কা হাঁকান ভারতের যুবরাজ সিং। নয় বছর পর কার্লোস ব্র্যাথওয়েট টানা চার ছক্কা মেরে বিশ্বকাপ জেতান ওয়েস্ট ইন্ডিজকে, হতবিহ্বল করে দেন বেন স্টোকসকে। এরপর আরো কত ঘটনা, নাটকীয়তা। এবার কি বড় কিছু ঘটবে?