শনিবার সিলেট সানরাইজার্সের বিপক্ষে ম্যাচ খেলতে টিম হোটেল ছাড়ার আগ মুহূর্তে মেহেদী হাসান মিরাজকে জানিয়ে দেয়া হয়, তিনি আর চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের অধিনায়ক নন! মিরাজের জায়গায় টস করতে এলেন নাঈম ইসলাম। টিভি দর্শকরাও প্রথমে বিষয়টি নিয়ে কিছু আঁঁচ করতে পারেননি হয়তো।
চট্টগ্রাম ম্যানেজমেন্টের নাটকীয় সিদ্ধান্তের পর দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে দলটি উঠে যায় পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে। মিরাজ ৪ বলে ২ ছক্কার সাহায্যে ১৩ রান করে দলের সংগ্রহ দুশ পার করতে ভূমিকা রাখেন। এরপর বল হাতে নেন এক উইকেট।
মাঠে সবকিছু সুন্দরভাবে এগোলেও এরপর মিরাজকে নিয়ে সংকট তৈরি হয়। দলের এমন সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ মিরাজ জানান, তিনি আর চট্টগ্রামের হয়ে খেলবেন না এবং পরিবার নিয়ে ঢাকায় রওনা হওয়ার প্রস্তুতি নেন। মিরাজদের বিমানের ফ্লাইট ছিল আজ বিকাল সাড়ে ৫টায়। স্ত্রী-সন্তানসহ মিরাজ হোটেল থেকে বেরিয়েও আসেন। যদিও পরে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের প্রধান নির্বাহী সৈয়দ ইয়াসির আলম। এরপর মিরাজকে ডেকে ভেতরে নিয়ে যাওয়া হয় এবং পরে তার স্ত্রী-সন্তানকেও। হয়তো কোনো সমঝোতার চেষ্টা চলছিল।
চট্টগ্রাম ম্যানেজমেন্টের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, দেশে ফিরে যাওয়া ইংলিশ কোচ পল নিক্সনই নাকি মিরাজকে চাপমুক্ত রাখতে তার জায়গায় অন্য কাউকে অধিনায়ক করার কথা বলে যান। যদিও গতকাল মিরাজ সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, আজ কোচের সঙ্গে আমার প্রায় ৩০ মিনিট কথা হয়েছে, তিনি এ কথা অস্বীকার করেছেন এবং বলেছেন, ইয়াসির মিথ্যা বলেছেন।
মিরাজও এ-ও বলেন, ইয়াসিরই মূল কালপ্রিট। সে দলে থাকলে আমি খেলব না।
বিষয়টি নিয়ে শনিবার রাতেই বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন, বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের সদস্য সচিব ইসমাইল হায়দার মল্লিকের সঙ্গে কথা বলেন, ই-মেইল পাঠান বিসিবি সিইওকে।
গুঞ্জন উঠেছে, চট্টগ্রামের এই সিদ্ধান্তের পেছনে ম্যাচ ফিক্সিংয়ের বিষয় থাকতে পারে। ২০১২-১৩ বিপিএলে চট্টগ্রাম কিংসের বিপক্ষে ম্যাচের আগে মাশরাফি বিন মর্তুজাকে সরিয়ে দিয়ে মোহাম্মদ আশরাফুলকে দেয়া হয়েছিল ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটরসের নেতৃত্ব। পরে ফিক্সিং কেলেঙ্কারিতে জড়ান আশরাফুল এবং তিনি ৫ বছর নিষিদ্ধ হন।
এমন পরিস্থিতিতে বিপিএলের সদস্য সচিব ইসমাইল হায়দার বলেছেন, তারা এই ঘটনার ওপর নজর রাখছেন।










