বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ও আসরের সবচেয়ে সফল দল কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সকে হারিয়ে দুর্দান্ত সূচনা করে ‘দুর্দান্ত ঢাকা’। যদিও শুরুর সেই আলো কোথায় যেন হারিয়ে গেল ঢাকার! তাসকিন আহমেদ ও শরিফুলের মতো দেশসেরা দুই পেসারকে ঘিরে কত কত প্রত্যাশা ছিল দলটির। অথচ তারা কিনা শেষ করল সাত দলের এ আসরে পয়েন্ট টেবিলের একেবারে তলানিতে থেকে। জয় মাত্র একটি!
ঢাকার কাছে হেরে সূচনা করা কুমিল্লা দ্রুতই ঘুরে দাঁড়ায়। পরে তাদের ব্রিগেডে যুক্ত হয়েছে টি২০ ফরম্যাটের মতো বিশ্বনন্দিত তারকা মঈন আলী, সুনিল নারাইন, আন্দ্রে রাসেল। এতে দাপটে তারা প্লে-অফের টিকিট নিশ্চিত করেছে। যদিও ২৩ ফেব্রুয়ারি রাউন্ড রবিন লিগে নিজেদের শেষ ম্যাচে তারা হেরে বসেছে ফরচুন বরিশালের কাছে। রাউন্ড রবিন লিগের নাটকীয়তা শেষ। আগামীকাল শুরু হচ্ছে প্লে-অফের লড়াই।
১২ ম্যাচে ৯ জয় নিয়ে টেবিলের শীর্ষস্থান নিশ্চিত করেছে রংপুর রাইডার্স, সমান ম্যাচে ৮ জয়ে টেবিলের দুইয়ে কুমিল্লা। শেষ ম্যাচে কুমিল্লা জিতলে টেবিলের অবস্থান পাল্টে যেতে পারত। যদিও তাতে বড় সমস্যায় পড়েনি লিটন দাসের দল। টেবিলের এক ও দুই নম্বর দলই প্রথম কোয়ালিফায়ার ম্যাচ খেলবে এবং এ ম্যাচের বিজয়ী দল সরাসরি উঠে যাবে ফাইনালে। আগামীকাল সন্ধ্যায় মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে কোয়ালিফায়ার-১ ম্যাচ।
কোয়ালিফায়ার-১ ম্যাচে হারলেই সবকিছু শেষ হয়ে যাবে না। তারা আরেকটি সুযোগ পাবে। তাদের জন্য অপেক্ষা করবে কোয়ালিফায়ার-২ ম্যাচ। দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার ম্যাচে তারা খেলবে ‘এলিমিনেটর’ ম্যাচে বিজয়ী দলের সঙ্গে।
আগামীকাল বেলা দেড়টায় শুরু হতে যাওয়া এলিমিনেটর ম্যাচে মুখোমুখি হবে টেবিলের তিন নম্বর দল ফরচুন বরিশাল ও চার নম্বরে থাকা চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স। এই দুটি দল শেষ মুহূর্তে শেষ চারে থাকা নিশ্চিত করেছে। চট্টগ্রামে নিজেদের শেষ ম্যাচে খুলনাকে হারিয়ে প্লে-অফের টিকিট নিশ্চিত করে চ্যালেঞ্জার্স।
চট্টগ্রামে রাউন্ড রবিন লিগে নিজেদের শেষ ম্যাচে কুমিল্লাকে হারিয়ে দেয় তারা। অধিনায়ক তামিম ইকবাল দুর্দান্ত এক ফিফটিতে বরিশালকে মহামূল্যবান জয়টি এনে দিয়েছেন। তার আগে অবশ্য বল হাতে জাদু দেখান তাইজুল ইসলাম। আগামীকাল তামিমদের সামনে আরেকটি বাঁচা-মরা। জিতলে উঠে যাবে দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার ম্যাচে, আর হারলেই বিদায়!
বরিশালের বড় ভরসা এখনো দেশী তারকারা। তামিম ছাড়াও মুশফিকুর রহিম, মাহমুদউল্লাহ, সৌম্য সরকার, মেহেদী হাসান মিরাজ, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন আর তাইজুল ইসলাম রয়েছেন বরিশাল ব্রিগেডে। ক্যারিবিয়ান তারকা কাইল মায়ার্স ব্যাট-বল উভয় বিভাগেই অবদান রাখছেন।
চট্টগ্রামকে আশা দেখাচ্ছেন তানজিদ হাসান তামিম। গত ম্যাচে ৬৫ বলে ১১৬ রানের অনবদ্য এক সেঞ্চুরি করে খুলনাকে হারিয়ে চট্টগ্রামকে প্লে-অফে তুলেছেন তিনি। এলিমিনেটর ম্যাচেও তার ব্যাটের দিকে তাকিয়ে থাকবে দল। চট্টগ্রামে বিদেশী তারকাদের মধ্যে আছেন পাকিস্তানের মোহাম্মদ ওয়াসিম, নিউজিল্যান্ডের টম ব্রুস আর ওয়েস্ট ইন্ডিজের রোমারিও শেফার্ড।
সবচেয়ে বেশি আলো কাড়বে রংপুর-কুমিল্লা হাইভোল্টেজ ম্যাচ। আগামীকাল মিরপুরের ফ্লাডলাইটে হবে তারায় তারায় যুদ্ধ। ম্যাচটিকে ‘সেমিফাইনাল’ও বলা যেতে পারে। জিতলেই ফাইনাল।
ব্র্যান্ড কিং, রনি তালুকদার, শেখ মেহেদী হাসান, সাকিব আল হাসান, জেমস নিশাম, আবু হায়দার রনি, ইমরান তাহির—এরা প্রত্যেকেই একেকজন ম্যাচ উইনার। বিস্ফোরক এই ইউনিট নিয়েই বিপজ্জনক একটি দলে পরিণত হয়েছে রংপুর। নুরুল হাসান সোহান মাঠে দলকে নেতৃত্ব দিলেও আসল নেতা সাকিবই। সদ্যই জাতীয় দলের নেতৃত্ব ছেড়ে দেয়া এ অলরাউন্ডার রংপুরের নেতৃত্ব নেননি ইচ্ছে করে। মাঝে চোখের সমস্যায় ভুগেছেন, চিকিৎসা করিয়েছেন দেশে-বিদেশে। সেই সমস্যা কিছুটা কাটিয়ে উঠে তিনি বল ও ব্যাট হাতে নিয়মিত পারফর্ম করছেন।
টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৭ উইকেট পেয়েছেন সাকিব। সর্বোচ্চ ২২ উইকেট নেয়া শরিফুলের দল বিদায় নেয়ায় তাকে টপকে যাওয়ার সুযোগ আছে সাকিবের সামনে। কাল রংপুর জিতলে তিনি দুই ম্যাচ খেলার সুযোগ পাবেন, আর হারলে আরেকটি ম্যাচ বেশি খেলার সুযোগ আসতে পারে। তাই শরিফুলকে টপকে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারির পুরস্কারটা সাকিবের পাওয়ার জোর সম্ভাবনা।
টুর্নামেন্ট সেরা খেলোয়াড় হওয়ার রেসেও এগিয়ে তিনি। ১৭ উইকেট শিকারের পাশাপাশি রান করেছেন ২৪৯। মোট ১১ ইনিংসে ১৬৮.২৪ স্ট্রাইক রেটে এই রান করেছেন সাকিব। এ পথে ২২টি চার ও ১২টি ছক্কা মেরেছেন বামহাতি ক্রিকেটার।
শীর্ষ দশে রংপুরের কোনো ব্যাটার নেই। মাত্র ৬ ম্যাচে ২৫১ রান করে তালিকার ১১ নম্বরে থাকা বাবর আজম দেশে ফিরে গেছেন। আর তিন রান করলে সাকিবই হবেন রংপুরের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক।
বোলিংটাই এগিয়ে রেখেছে রংপুরকে। সাকিবের সতীর্থ শেখ মেহেদী হাসান ১৫ উইকেট ও হাসান মাহমুদ ১৩ উইকেট নিয়েছেন। সব মিলিয়ে কাল কুমিল্লাকে চ্যালেঞ্জ জানানোর মতো যথেষ্ট রসদ আছে রংপুরের।
কুমিল্লা ব্যাটিং-বোলিং দুটিতেই শক্তিশালী। দেশী তারকাদের মধ্যে তাওহিদ হৃদয় ও লিটন দাস দলের বড় আস্থার নাম। তাওহিদ এক সেঞ্চুরিসহ ৩৮৩ রান করে আছেন তালিকার দুইয়ে। ৩৯১ রান করে শীর্ষে বরিশালের তামিম ইকবাল। লিটন করেছেন ২৯২ রান।
বোলিংয়ে শীর্ষ পাঁচে নেই কুমিল্লার কেউ। ১২ উইকেট নিয়ে সাতে স্পিনার তানভীর ইসলাম। অনুশীলনের সময় মাথায় বলের আঘাত লেগে ছিটকে পড়েছেন ১১ উইকেট শিকার করা মুস্তাফিজুর রহমান। যদিও ক্যারিবিয়ান টি২০ স্পেশালিস্ট নারাইন, ম্যাথিউ ফোর্ড ও রাসেল এবং ইংলিশ ক্রিকেটার মঈন আলী যুক্ত হওয়ায় এখন বোলিং আক্রমণও বেশ শক্তিশালী হয়ে উঠেছে কুমিল্লার। আগের ম্যাচে ভালো করেছেন পেসার তরুণ মুশফিক হাসান।
ব্যাটিং আর বোলিং মিলে কুমিল্লার একাদশ বেশ শক্তিশালী। বরিশাল ম্যাচের মতো পা না হড়কালে তাদেরই জেতার সম্ভাবনা বেশি থাকবে।










