লিভারপুলের সঙ্গে যুগ্মভাবে রেকর্ড ২০ বারের লিগ চ্যাম্পিয়ন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড এখন ইংলিশ ফুটবলে যেন এক ঘুমন্ত দৈত্য। সর্বশেষ লিগ শিরোপা জিতেছে তারা ১২ বছর আগে। তরুণ কোচ রুবেন আমোরিমের অধীনে পুনর্গঠিত হয়ে আবারো সেরার কাতারে ফিরতে মরিয়া রেড ডেভিলরা। শিরোপার লড়াইয়ে ফিরতে মিডফিল্ডের শক্তি বাড়াতে হবে তাদের। এজন্য প্রচুর অর্থের প্রয়োজন। এ অর্থের সংস্থান করতে তারা একটু কৌশলী হওয়ার চেষ্টা করছে। যেমন প্রতি সপ্তাহে বেতনবাবদ অন্তত ১০ লাখ পাউন্ড বাঁচানোর চেষ্টা করবে তারা। বাঁচানো সেই অর্থই তারা পরবর্তী মৌসুমে স্কোয়াড শক্তিশালী করার কাজে লাগাবে।

কাসেমিরো, হ্যারি মাগুইয়ার ও জ্যাডন সাঞ্চোর সঙ্গে ক্লাবের চুক্তির মেয়াদ শেষ হতে যাচ্ছে। এছাড়া সপ্তাহে ৩ লাখ ২৫ হাজার পাউন্ড বেতন পাওয়া মার্কাস র‍্যাশফোর্ড এখন ধারে খেলছেন বার্সেলোনায়। তাকে কাতালান ক্লাবটির কাছে স্থায়ী চুক্তিতে বিক্রি করতে চায় রেড ডেভিলরা। বার্সেলোনা না কিনলে তাকে অন্য কোথাও বিক্রি করে দেবে ক্লাবটি। সেটি করতে পারলে বেতনের জন্য বেশ বড় অঙ্ক বেঁচে যাবে ম্যানইউর। ক্লাবের একটি সূত্র ইএসপিএনকে জানিয়েছেন, এভাবে অর্থ বাঁচিয়ে তা দিয়ে পরের দলবদলে খেলোয়াড় কেনার পরিকল্পনা করছেন ফুটবল পরিচালক জ্যাসন উইলকক্স ও কোচ আমোরিম।

ম্যানইউ এরই মধ্যে ব্রাইটনের মিডফিল্ডার কার্লোস বালেবাকে কিনতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। যদিও সিগালরা ২১ বছর বয়সী ক্যামেরুনিয়ান তারকার জন্য ১১৫ মিলিয়ন পাউন্ডের বিশাল ফি চাইলে চুক্তিটা হয়নি। এছাড়া ক্রিস্টাল প্যালেসের ইংল্যান্ড মিডফিল্ডার অ্যাডাম হোয়ার্টন আর স্টুটগার্টের ২৪ বছর বয়সী মিডফিল্ডার অ্যাঞ্জেলো স্টিলারকেও চায় ম্যানইউ।

বয়স ৩৪ বছর হয়ে গেলেও ব্রাজিলীয় তারকা কাসেমিরোর ওপর অতি মাত্রায় নির্ভরশীল ম্যানইউ। এর পরও জানুয়ারির শীতকালীন উইন্ডোতে খেলোয়াড় না কিনে গ্রীষ্মকালীন দলবদল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে চান আমোরিম।

গত গ্রীষ্মের দলবদলে ২২ কোটি ৫০ লাখ পাউন্ড খরচ করে ম্যাথিউস কুনহা, ব্রায়ান এমবুয়েমো, বেঞ্জামিন সেসকো আর সেনে লামেনসের মতো খেলোয়াড়কে কিনেছে ম্যানইউ। এর পরও মিডফিল্ডকে আরো শক্তিশালী করার দাবি ছিল রিক্রুটিং টিমের। জানুয়ারির শীতকালীন দলবদলে তারা বড় কোনো চুক্তিতে যাবে না বলে জানা গেছে।

আমেরিকান গ্লেজার পরিবারের বৃহদংশ শেয়ার কিনে ফুটবল অপারেশনের কর্তৃত্বে আসে স্যার জিম র‍্যাটক্লিফের ইনেওস গ্রুপ। সেই থেকে গত ১৮ মাসে বেশ অস্থির সময় গেছে ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে। মাঝে খারাপ সময় পার করে রেড ডেভিলরা, তারা এ মৌসুমে ইউরোপের কোনো প্রতিযোগিতায় নেই, এতে আয় অন্তত ৪০ মিলিয়ন পাউন্ড কমে যাচ্ছে। খরচ কমাতে ক্লাবের বিভিন্ন পর্যায়ের অন্তত ৪০০ কর্মী ছাঁটাই করা হয়েছে।

ইউরোপে না খেলার কারণে ক্লাবটিতে আর্থিক চাপ তৈরি হয়। সেটি সামাল দিতে গ্লেজার পরিবারের সঙ্গে মিলে ইনেওস গ্রুপ বর্তমান খেলোয়াড়দের বেতন ২৫ শতাংশ কমিয়ে দেয়। এ মৌসুমে বেতন বাবদ তাদের খরচ হচ্ছে ২৯ কোটি ৫৯ লাখ পাউন্ড। গত মৌসুমে তারা বেতন দিয়েছে ৩১ কোটি ৩০ লাখ পাউন্ড এবং তার আগের মৌসুমে ছিল ৩৬ কোটি ৪৭ লাখ পাউন্ড। নতুন চুক্তিবদ্ধ খেলোয়াড়দের মূল বেতন অনেকটা কম ধরায় চলতি মৌসুমে খরচটা কমে এসেছে ম্যানইউর।

এছাড়া সাঞ্চো, র‍্যাশফোর্ড, কাসেমিরো ও মাগুইয়ারের কারণেই অর্থ বেঁচে যাবে ম্যানইউর। সাঞ্চোর সাপ্তাহিক বেতন ৩ লাখ পাউন্ড। চলতি মৌসুম শেষেই ম্যানইউর সঙ্গে তার চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে, তখন বেতনের এ চাপও কমে যাবে। এর মধ্য দিয়ে ২৫ বছর বয়সী ইংলিশ তারকার হতাশার ওল্ড ট্র্যাফোর্ড অধ্যায়ও শেষ হয়ে যাবে। ৩ লাখ ২৫ হাজার পাউন্ড বেতন পাওয়া র‍্যাশফোর্ডের চুক্তি এখনো আড়াই বছর বাকি রয়েছে। তবে বার্সেলোনায় তিনি দারুণ সফলতা পাওয়ায় স্থায়ী চুক্তি নিয়ে আশাবাদী হয়ে উঠেছে ম্যানইউ। ধারণা করা হয়, তার চুক্তি থেকে ৩০ মিলিয়ন পাউন্ড পাবে ইংলিশ জায়ান্টরা।

কাসেমিরো আর মাগুইয়ার উভয়েরই চুক্তি আগামী জুনে শেষ হয়ে যাবে এবং দুজনই উচ্চ পারিশ্রমিক পান। কাসেমিরো সপ্তাহে ৩ লাখ ৫০ হাজার ও মাগুইয়ার সপ্তাহে ২ লাখ পাউন্ড পান। রেড ডেভিলরা উভয় খেলোয়াড়ের সঙ্গে নতুন চুক্তি নিয়ে দরকষাকষি করবে, তবে বেতন উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমানোর শর্ত থাকবে এবং চুক্তিতে মূল বেতন কমিয়ে ‘প্রণোদনা’ যুক্ত হবে।

কাসেমিরো আর মাগুইয়ার যদি বেতন কমিয়ে থেকে যেতে রাজি হন তাহলে সপ্তাহে অন্তত ১০ লাখ ও বছরে অন্তত ৫ কোটি পাউন্ড খরচ বাঁচাতে পারবে ম্যানইউ। ফলে নতুন খেলোয়াড়দের পারিশ্রমিক দিতে খুব একটা অসুবিধা হবে না ম্যানইউর। আবার পরের গ্রীষ্মে বালেবা ও হোয়ার্টন রাজি থাকলে দুজনকে কিনতে ম্যানইউর অন্তত ১৮ কোটি পাউন্ড খরচ হবে। আবার জার্মান খেলোয়াড় স্টিলারের জন্য খরচ হতে পারে ৫ কোটি পাউন্ডের মতো। ইএসপিএন