দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে প্রথম ওয়ানডে ম্যাচ ও ওয়ানডে সিরিজ জিতে ইতিহাস গড়া বাংলাদেশকে এবার আরেক ইতিহাস হাতছানি দিচ্ছে। ডারবান টেস্টে জিততে মুমিনুল হকের দলকে করতে হবে ২৭৪ রান। উল্লেখ্য, দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতো তো নয়ই, নিজেদের মাঠেও তাদের কখনো হারাতে পারেনি বাংলাদেশ।
আজ চতুর্থ দিন দক্ষিণ আফ্রিকাকে দ্বিতীয় ইনিংসে মাত্র ২০৪ রানে অলআউট করার কৃতিত্ব দেখায় বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসে ৬৯ রানের লিড পাওয়া দক্ষিণ আফ্রিকা সব মিলে এগিয়ে থাকে ২৭৩ রানে।।
১ উইকেটে ১০৫ রান তুলে আজ মধ্যাহ্নভোজের বিরতিতে যায় স্বাগতিকরা। দ্বিতীয় সেশনে বাংলাদেশের বোলাররা চারটি উইকেটের পতন ঘটান। মধ্যাহ্নভোজের বিরতির পরপরই অধিনায়ক ডিন এলগারকে ফেরান তাসকিন আহমেদ। লেগ বিফোরের ফাঁদে পড়েন এলগার। তার সঙ্গে দারুণ খেলে চলা কিগান পিটারসেনকে আউট করেন মেহেদী হাসান মিরাজ। জয়কে ক্যাচ দেন পিটারসেন। পরের ওভারে এবাদত হোসেনের বলে স্লিপে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন প্রথম ইনিংসে ৯৩ রান করা তেম্বা বাভুমা (১২৬/৪)।
রিকেলটনকে নিয়ে ইনিংস জোড়া দেয়ার চেষ্টা করছিলেন কাইল ভেরেইন। যদিও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি তিনি। তাকে ৬ রানে সাজঘরে ফেরান মিরাজ। দলীয় ১৪৮ রানের সময় সাদমান ইসলামকে ক্যাচ তুলে দেন এই ব্যাটার।
পঞ্চম উইকেট পতনের পর চা-বিরতির আগ পর্যন্ত ষষ্ঠ উইকেটে ৮.৫ ওভার খেলে বোর্ডে মাত্র ৯ রান যোগ করে মুমিনুলদের হতাশ করতে থাকেন মুলডার ও রিকেলটন। যদি বিরতি থেকে ফেরার পর মিরাজের স্পিনে কভার ড্রাইভ খেলতে গিয়ে স্লিপে ক্যাচ দেন মুলডার। ইয়াসির অত্যন্ত সাবলীলভাবেই ক্যাচটি লুফে নেন। দলীয় ১৮৩ রানের সময় কেশব মহারাজকে লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেলেন তাসকিন আহমেদ। মহারাজ মাত্র ৫ রান করতে পেরেছেন। প্রথম ইনিংসের মতো বাংলাদেশকে ভোগাতে পারেননি সাইমন হারমার। ব্যক্তিগত ১১ রানে ডিপ কভার থেকে সরাসরি থ্রোতে তাকে রানআউট করেন বদলি ফিল্ডার নুরুল হাসান সোহান।
এবাদতের করা ৭৪তম ওভারে দুই উইকেটের পতন ঘটলে মাত্র ২০৪ রানে গুটিয়ে যায় প্রোটিয়ারা। লিজাড উইলিয়ামস রানআউটের শিকার হন, আর ডুয়ান অলিভিয়ারকে লেগ বিফোর করেন এবাদত। এবাদত ৪০ রানে তিনটি, মিরাজ ৮০ রানে তিনটি ও তাসকিন ২৪ রানে দুটি উইকেট নেন।
এর আগে দলীয় ৪৮ রানের মাথায় প্রোটিয়া ওপেনার সারেল আরউইকে সাজঘরে
ফিরিয়ে বাংলাদেশকে প্রথম ব্রেক থ্রু এনে দেন ফাস্ট বোলার এবাদত। আরউইকে তিনি লেগ
বিফোরের ফাঁদে ফেলেন। এরপর অবিচ্ছিন্ন থেকে ১৪.৩ ওভারে ৫৭ রান তুলে দলকে সংহত
জায়গায় নিয়ে যান এলগার ও পিটারসেন। এ নিয়ে টানা দ্বিতীয় ইনিংসে হাফ সেঞ্চুরি করেন
প্রোটিয়া দলনায়ক। প্রথম ইনিংসে ৬৭ রানের পর আজ করেন ৬৪ রান।










