টড বোহলির নেতৃত্ব নতুন কনসোর্টিয়ামের মালিকানায় যাওয়ার পর ইংলিশ ক্লাব চেলসি এফসি দেদার খরচ করছে। গত গ্রীষ্মের দলবদলের পর সদ্য সমাপ্ত শীতের দলবদলেও সবচেয়ে বেশি খরচ করেছে তারা। সবশেষ শীতকালীন দলবদলের শেষদিন তারা ১০ কোটি পাউন্ডেরও বেশি খরচ করে কিনেছে আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার এনজো ফার্নান্দেজকে। সব মিলে চলতি মৌসুমে তাদের খরচ ৬০ কোটি পাউন্ড (প্রায় ৭ হাজার ৮৩৬ কোটি টাকা)।

 

চাইলেই কি খরচ করা যায়? করতে পারেন, তবে আয়-ব্যয়ের মধ্যে ভারসাম্য থাকতে হবে এবং আয়ের চেয়ে কতটা বেশি ব্যয় করা যাবে, সেটি ইউরোপিয়ান ফুটবল গভর্নিং বডি উয়েফার অনুমতির ওপর নির্ভর করে। কাজেই এত বেশি অর্থ খরচ করায় উয়েফার নতুন চালু হওয়া ফাইন্যান্সিয়াল ফেয়ার প্লে (এফএফপি) নিয়মে ফেঁসে যেতে পারে লন্ডন জায়ান্ট চেলসি।

 

আগামী মৌসুমে উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগে খেলার সুযোগ না পেলে পরিস্থিতি আরো খারাপ হবে চেলসির। বর্তমানে সেই পথেই রয়েছে তারা। বৃহস্পতিবার ব্লুজরা গোলশূন্য ড্র করে ফুলহামের সঙ্গে। আজ পর্যন্ত ২১ ম্যাচে ৩০ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের নয় নম্বরে রয়েছে দলটি।

 

তারা যদি চ্যাম্পিয়ন্স লিগে উত্তীর্ণ না হয়, তবে গ্রীষ্মের দলবদলে খেলোয়াড় বিক্রি করে অন্তত ১৫-২০ কোটি পাউন্ড রাজস্ব সংগ্রহ করতে হবে, নইলে বিপদ আসন্ন। সীমার অতিরিক্ত খরচ করলে তারা পড়তে পারে আর্থিক জরিমানা কিংবা নিষেধাজ্ঞার মুখে। 

 

গত মৌসুমে বেতন বাবদ চেলসির খরচ হয় ৩৫ কোটি ৭০ লাখ পাউন্ড। নতুন খেলোয়াড় আসায় এবার তা পৌঁছবে ৪০ কোটি পাউন্ডেরও বেশিতে। এজেন্টদের পেছনে খরচ হয়েছে আরো আড়াই থেকে তিন কোটি পাউন্ড। সব মিলে, এফএফপির হিসেবে, চেলসির খরচ পড়েছে ৬০ থেকে ৬৫ কোটি পাউন্ড!

 

গত মৌসুমটি অপেক্ষাকৃত ভালো কাটে চেলসির। লিগ টেবিলে তৃতীয় স্থানে থাকা ছাড়াও এ সময় তারা দুটি ঘরোয়া টুর্নামেন্টের ফাইনালে ওঠে তারা, চ্যাম্পিয়নস লিগেরও শেষ আটে ওঠার কৃতিত্ব দেখায় লন্ডন জায়ান্টরা এবং ক্লাব বিশ্বকাপ শিরোপা জয় করে তারা। গত বছর চেলসির খরচ ৪৮ কোটি ১৩ লাখ পাউন্ড হলেও পরিশেষে লাভ করে ব্লুজরা। তাহলে এটা পরিষ্কার, এবার তারা চ্যাম্পিয়ন্স লিগে উঠতে ব্যর্থ হলে তাদের রাজস্বও কমে দাঁড়াতে পারে ৪০ থেকে ৪৫ কোটি পাউন্ডে।

 

চেলসির স্কোয়াড এখন ৩৪ সদস্যের, যা অন্য দলগুলোর ক্ষেত্রে থাকে ২৫ থেকে ২৮ জন। এমনকি এর মধ্যে বিভিন্ন ক্লাবে ধারে খেলতে পাঠানো ২০ জন অন্তর্ভুক্ত নয়! স্কোয়াডের আকার বড় বলেই বেতনের পেছনে অনেক অর্থ ঢালতে হয় ব্লুজদের। ডেইলি মেইল ও বিবিসি।