আট বছর আগে ব্রাজিলে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার ‘গোল্ডেন বল’ জিতে নিয়েছিলেন লিওনেল মেসি। আর্জেন্টিনা সেবার ফাইনালে জার্মানির কাছে হেরে শিরোপাবঞ্চিত হওয়ায় গোল্ডেন বলের সাফল্য অতটা উপভোগ করেননি মেসি। তবে বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড়দের অভিজাত ক্লাবে ঠিকই নাম উঠে যায় তার। এবার কাতার বিশ্বকাপেও সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার পাওয়ার সম্ভাবনা উজ্জ্বল করেছেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক। সেই সঙ্গে সবচেয়ে বেশি গোলের পুরস্কার ‘গোল্ডেন বুট’ জেতার দৌড়েও অন্যতম ফেভারিট তিনি। এই দুটি বিভাগেই তার সঙ্গে তুমুল লড়াই হচ্ছে ফরাসি সেনসেশন কিলিয়ান এমবাপ্পের। দুজনেই করেছেন সমান পাঁচটি করে গোল।
আর্জেন্টিনাকে ফাইনালে তুলতে অগ্রণী ভূমিকা রেখেছেন ৩৫ বছর বয়সী মেসি। সেমিফাইনাল পর্যন্ত ৬ ম্যাচে ৫ গোল করার পাশাপাশি তিনি অ্যাসিস্ট করেন আরো ৩ গোলে। গোল্ডেন বল ও বুটের অন্যতম দাবিদার এমবাপ্পে দুর্দান্ত পারফর্ম করে ফ্রান্সকে টানা দ্বিতীয়বারের মতো তুলে এনেছেন ফাইনালে। এ পথে তিনি ৫ গোল করার পাশাপাশি অ্যাসিস্ট করেন আরো দুই গোলে।
দুজনই সমান গোল করলেও অ্যাসিস্টে এগিয়ে রয়েছেন মেসি। ফাইনাল শেষে দুজনেরই গোল সমান থাকলে সেক্ষেত্রে মেসির হাতেই উঠবে গোল্ডেন বুট। আর যদি গোল ও অ্যাসিস্ট দুজনেরই সমান হয়, সেক্ষেত্রে প্রতি ৯০ মিনিটে গোল, শটের নির্ভুলতাসহ নানা পরিসংখ্যান দিয়ে দুজনকে আলাদা করা হবে। গোল করা ও অ্যাসিস্ট করার বাইরে মেসি ১৫টি গোলের সুযোগ তৈরি করেছেন, আর এমবাপ্পে ৯টি। ১৮টি গোলের সুযোগ তৈরি করা ফরাসি প্লেমেকার আতোয়াঁ গ্রিজম্যানের হাতেও উঠতে পারে এবারের গোল্ডেন বল। তিনি এখন পর্যন্ত তিনটি অ্যাসিস্ট করেছেন।
১৯৮২ সাল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার গোল্ডেন বল দিয়ে আসছে ফিফা। সেই থেকে পুরস্কারটি পেয়েছেন ইতালির পাওলো রোসি (১৯৮২), আর্জেন্টিনার
দিয়েগো ম্যারাডোনা (১৯৮৬), ইতালির
সালভাতোর শিলাচি (১৯৯০), ব্রাজিলের
রোমারিও (১৯৯৪) ও রোনালদো (১৯৯৮), জার্মানির
অলিভার কান (২০০২), ফ্রান্সের
জিনেদিন জিদান (২০০৬), উরুগুয়ের
দিয়েগো ফোরলান (২০১০), লিওনেল
মেসি (২০১৪) ও লুকা মডরিচ (২০১৮)। এবার কার হাতে উঠছে মর্যাদাপূর্ণ গোল্ডেন বল?
সেমিফাইনালে লড়াই হয় দুই সাবেক গোল্ডেন বলজয়ী মেসি ও লুকা মডরিচের। গত মঙ্গলবার লুসাইলে মডরিচের ক্রোয়েশিয়াকে হারিয়ে ফাইনালে জায়গা করে নেয় মেসির আর্জেন্টিনা। এর মধ্য দিয়ে গোল্ডেন বল জয়ের রেসে অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বী মডরিচকে পেছনে ফেলেন মেসি।
সেমিফাইনালের আগ পর্যন্ত গোল্ডেন বলের রেসে ভালোভাবেই টিকে ছিলেন ক্রোয়েশিয়ার গোলকিপার ডমিনিক লিভাকোভিচ, মরক্কোর আশরাফ হাকিমি, পর্তুগালের ব্রুনো ফার্নান্দেজ ও ব্রাজিলের রিচার্লিসন। তবে পরে এদের সঙ্গে বেশ ব্যবধান তৈরি করেছেন মেসি ও এমবাপ্পে।
গোল্ডেন বুট জয়ের রেসে অবশ্য এখনো মেসি ও এমবাপ্পের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আছেন আরো দুজন। ফ্রান্সের অলিভিয়ার জিরু করেছেন ৫ ম্যাচে ৪ গোল। আর্জেন্টিনার সেমিফাইনাল জয়ের নায়ক হুলিয়ান আলভারেজও আছেন রেসে। ক্রোয়েশিয়ার ডিফেন্সকে লণ্ডভণ্ড করে দিয়ে ম্যানসিটির ২২ বছর বয়সী স্ট্রাইকার করেন জোড়া গোল। তাতে উঠে যান তৃতীয় স্থানে। অবশ্য পরের ম্যাচে মরক্কোর জালে বল পাঠিয়ে লড়াইয়ে টিকে থাকেন জিরুও। নিখুঁত শট আর প্রতি ৯০ মিনিটে গোলের পরিসংখ্যান বিচারে জিরুর চেয়ে খানিকটা এগিয়ে রয়েছেন আলভারেজ।
গোল্ডেন বুটের লড়াইটা মূলত এই চারজনের মধ্যেই সীমিত। যারা তিন গোল করেছেন তাদের সবার দলই বিদায় নিয়েছে।
আগের ২১ বিশ্বকাপে গোল্ডেন বুট জিতেছেন আর্জেন্টিনার গিলার্মো স্তাবিলে (১৯৩০), চেক
রিপাবলিকের ওল্ডরিচ নেজেদলি (১৯৩৪), ব্রাজিলের
লিওনিদাস (১৯৩৮), ব্রাজিলের
আদেমির (১৯৫০), হাঙ্গেরির
সান্দর ককসিস (১৯৫৪), ফ্রান্সের
জাস্ট ফন্টেইন (১৯৫৮), পর্তুগালের
ইউসেবিও (১৯৬৬), জার্মানির
জার্ড মুলার (১৯৭০), পোল্যান্ডের
গ্রেগর লাতো (১৯৭৪), আর্জেন্টিনার
মারিও কেম্পেস (১৯৭৮), ইতালির
পাওলো রসি (১৯৮২), ইংল্যান্ডের
গ্যারি লিনেকার (১৯৮৬), ইতালির
সালভাতোর শিলাচি (১৯৯০), রাশিয়ার
ওলেগ সালেঙ্কো ও বুলগেরিয়ার রিস্টো স্টয়চকভ (যুগ্মভাবে) (১৯৯৪),
ক্রোয়েশিয়ার ডেভর সুকার (১৯৯৮), ব্রাজিলের
রোনালদো (২০০২), জার্মানির
মিরোস্লাভ ক্লোসা (২০০৬), জার্মানির
টমাস মুলার (২০১০), কলম্বিয়ার
হামেশ রদ্রিগেজ (২০১৪) ও ইংল্যান্ডের হ্যারি কেন (২০১৮)।
১৯৬২ সালের আসরে যুগ্মভাবে গোল্ডেন বুট জিতেছেন হাঙ্গেরির ফ্লোরিয়ান আলবার্ট, সোভিয়েত ইউনিয়নের ভ্যালেন্তিন ইভানভ, ব্রাজিলের গারিঞ্চা ও ভাভা, যুগোস্লাভিয়ার দ্রাজান জারকোভিচ এবং চিলির লিওনেল সানচেজ।
গোল্ডেন বল ও বুটের বাইরে সেরা গোলকিপার পুরস্কার গোল্ডেন গ্লাভস, সেরা উদীয়মান খেলোয়াড়ের পুরস্কার ফিফা ইয়াং প্লেয়ার অ্যাওয়ার্ড ও ফিফা ফেয়ার প্লে ট্রফি পুরস্কার প্রদান করা হবে। তবে সবার চোখ থাকবে গোল্ডেন বল বিজয়ীর দিকে।










