এশিয়া কাপে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানকে ৫ উইকেটে হারিয়ে শুভসূচনা করেছে ভারত। রোববার রাতে দুবাইয়ে ১৪৮ রানের টার্গেট ছুড়ে দিয়ে ভারতকে আটকাতে পারেনি পাকিস্তান। দুই বল বাকি থাকতে টার্গেট ছুঁয়েছে রোহিত শর্মার দল। মূলত হার্দিক পান্ডিয়ার কাছেই হেরেছে বাবর আজমের দল। বল হাতে তিন উইকেট শিকারের বল ব্যাটিংয়ে নেমে ১৭ বলে ৩৩ রানের হার না মানা ইনিংস খেলেন এই অলরাউন্ডার।

 

গত বছর এই দুবাইয়ে টি২০ বিশ্বকাপ ম্যাচে ভারতকে ১০ উইকেটে হারিয়ে দেয় পাকিস্তান। যা ছিল যেকোনো ফরম্যাটের বিশ্বকাপের ভারতের বিপক্ষে পাকিস্তানের প্রথম জয়। বাবর আজমের দল সেই ফর্ম এশিয়া কাপে টেনে আনতে ব্যর্থ হলো।

 

শনিবার উদ্বোধনী ম্যাচে আগে বোলিং করে শ্রীলংকাকে ১০৫ রানে গুটিয়ে দেয় আফগানিস্তান। পরে আফগানরা জিতেছে বড় ব্যবধানে। সেই মাঠে রোববার টস জিতে বোলিং নিতে দ্বিতীয়বার ভাবেননি ভারতের দলনায়ক রোহিত শর্মা। তার সিদ্ধান্ত যে যথার্থ ছিল তা প্রমাণ করেন ভারতের চার পেসার ভুবনেশ্বর কুমার (৪/২৬), হার্দিক পান্ডিয়া (৩/২৫), অর্শদীপ সিং (২/৩৩) ও আবেশ খান (১/১৯)। এ চারজনই পাকিস্তানের ১০ উইকেট ভাগাভাগি করেন।

 

দলীয় ১৫ রানে অধিনায়ক বাবর আজমকে বিদায় করেন ভুবনেশ্বর কুমার। এরপর নিয়মিত উইকেট পতন ঘটে পাকিস্তানের। বিপর্যয়ের মধ্যে প্রাণান্ত চেষ্টা করেও দলের সংগ্রহটা বড় করতে পারেননি মোহাম্মদ রিজওয়ান। তিনি ৪২ বলে ৪৩ রান করেন। ইফতিখার আহমেদ আশা দেখালেও ২২ বলে ২৮ রান করে তিনি পান্ডিয়ার শিকার হন। শেষ দিকে শাহনেওয়াজ দাহানির ১৬ ও হারিস রউফের ১৩ রানে ভর করে লড়াইয়ের পুঁজি পায় পাকিস্তান।

 

মাঝারি টার্গেট তাড়া করতে নেমে ভারত অবশ্য স্বস্তিতে জিততে পারেনি। ইনিংসের দ্বিতীয় বলেই অভিষিক্ত নাসিম শাহর বলে বোল্ড হয়ে যান ভারতের ওপেনার লোকেশ রাহুল। এরপর রোহিত শর্মা ও বিরাট কোহলি ৪৬ বলে ৪৯ রানের জুটি গড়ে স্থিতি আনেন। যদিও এরপর মাত্র তিন রানের ব্যবধানে এই দুজনকে আউট করে পাকিস্তানকে ম্যাচে ফেরান স্পিনার মোহাম্মদ নওয়াজ। ভারতের সংগ্রহ তখন ৯.১ ওভারশেষে ৫৩/৩।

 

দ্বিতীয় স্পেলে বোলিংয়ে এসে সূর্যকুমার যাদবকে বোল্ড করেন নাসির (৮৯/৪)। এরপর রবীন্দ্র জাদেজা ও পান্ডিয়া পঞ্চম উইকেটে মাত্র ২৯ বলের মোকাবেলায় ৫২ রান তুলে হতাশ করেন পাকিস্তানকে। শেষ তিন ওভার থেকে ভারতের ৩২ রানের প্রয়োজন ছিল, যদিও ১৬ বলেই রানগুলো তুলে নেয় তারা। জাদেজা (২৯ বলে ৩৫ রান) শেষ ওভারে আউট হলেও জিততে সমস্যা হয়নি ভারতের। চতুর্থ বলে নওয়াজকে লং-অনেক ছক্কা হাঁকিয়ে ভারতের জয় নিশ্চিত করেন পান্ডিয়া।