ইতিহাসের প্রথম ফুটবল ক্লাব হিসেবে এক বছরে ১০০ কোটি ইউরোরও বেশি আয় করার কৃতিত্ব দেখাল স্প্যানিশ জায়ান্ট রিয়াল মাদ্রিদ। রেকর্ড ১৫টি উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগ শিরোপাজয়ী রিয়াল মাদ্রিদ অসংখ্য শিরোপা জিতেছে। তারা মাঠে নামা মানেই যেন শিরোপা। তবে মাঠের পারফরম্যান্সে ‘ইউরোপের রাজা’রা আয়েও কিন্তু সেরা। ২০২৩-২৪ মৌসুমে ১০৪ কোটি ৫৫ লাখ ইউরো (১৩ হাজার ৩১৪ কোটি টাকা) আয় করেছে মাদ্রিদ জায়ান্টরা। এ সময় লা লিগা ও চ্যাম্পিয়নস লিগ শিরোপা জয় করেছে লস ব্লাঙ্কোসরা। ২০২৪ সালের ওয়েম্বলি ফাইনালে জার্মানির বরুশিয়া ডর্টমুন্ডকে হারিয়ে শিরোপা জয় করে লস ব্লাঙ্কোসরা। লা লিগায় তারা ১০ পয়েন্টে হারায় বার্সেলোনাকে।

গত এক মৌসুমে ক্লাবগুলোর আয় বিশ্লেষণ করে এ তথ্য দিয়েছে ডেলয়েট। তারা প্রতি মৌসুমে ‘ফুটবল মানি লিগ’ নামে এ জরিপ পরিচালনা করে।

৮৩ কোটি ৮০ লাখ ইউরো আয় করে দুইয়ে রয়েছে ইংলিশ ক্লাব ম্যানচেস্টার সিটি। শীর্ষ দুই ক্লাবের আয়ের মধ্যে তফাত ২০ কোটি ৮০ লাখ ইউরো! এরপরে আছে পিএসজি (৮০ কোটি ৬০ লাখ ইউরো), ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড (৭৭ কোটি ১০ লাখ ইউরো) ও বায়ার্ন মিউনিখ (৭৬ কোটি ৫০ লাখ ইউরো)। শীর্ষ দশে ইংলিশ ক্লাবই বেশি। শীর্ষ দশ পূর্ণ করেছে বার্সেলোনা, আর্সেনাল, লিভারপুল, টটেনহ্যাম ও চেলসি।

চতুর্থ স্থান থেকে ষষ্ঠ স্থানে নেমে গেছে বার্সেলোনা। তাদের ম্যাচ ডে আয় ৫ কোটি ৩০ লাখ পাউন্ড কমে যাওয়ায় তালিকায় তাদের অবনমন ঘটেছে। ন্যু ক্যাম্পের সংস্কার কার্যক্রম চলায় তারা অপেক্ষাকৃত ছোট স্টেডিয়ামে খেলেছে, ওই সময় তাদের ম্যাচ ডে আয় কমে যাওয়ায় দুই ধাপ অবনমন ঘটে।

স্যান্টিয়াগো বার্নাব্যু সংস্কারের পর ম্যাচ ডেতে আয় বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে রিয়ালের। গত এক মৌসুমে তারা এ খাত থেকে পেয়েছে ২৪ কোটি ৮০ লাখ ইউরো। এছাড়া জার্সির হাতায় স্পন্সর চুক্তি থেকে ১৯ শতাংশ বেশি আয় করেছে লস ব্লাঙ্কোসরা। আর মার্চেন্ডাইজিং থেকে তারা পেয়েছে ৪৮ কোটি ২০ লাখ ইউরো। সম্প্রচার চুক্তি থেকে রিয়াল পেয়েছে ৩১ কোটি ৬০ লাখ ইউরো।

তালিকায় থাকা ২০টি ক্লাব মোট ১ হাজার ১১২ কোটি ইউরো (প্রায় ১ লাখ ৪১ হাজার ৭৯ কোটি টাকা) আয় করেছে গত এক মৌসুমে, যা আগের মৌসুমের চেয়ে ৬ শতাংশ বেশি। মানি লিগের ক্লাবগুলোর গড় আয় ৫৬ কোটি ইউরো; যার মধ্যে ২৪ কোটি ৪০ লাখ কমার্শিয়াল (৪৪%), ২১ কোটি ৩০ লাখ সম্প্রচার (৩৮%), ১০ কোটি ৩০ লাখ (১৮%) ইউরো ম্যাচ ডে রাজস্ব। মূলত স্টেডিয়ামের ধারণক্ষমতা ও টিকিটের দাম বৃদ্ধি করায় ক্লাবগুলোর ম্যাচ ডে আয় ১১ শতাংশ বেড়েছে, যা একটি নতুন রেকর্ড। ফুটবল মানি লিগের ইতিহাসে এই প্রথম ম্যাচ ডে আয় ২০০ কোটি ইউরো ছাড়িয়েছে (২১০ কোটি ইউরো), যা মোট রাজস্বের ১৮ শতাংশ।

ম্যাচ ডে আয় সবচেয়ে বেশি রিয়ালের। তাদের ২৪ কোটি ৮০ লাখ ইউরোর তুলনায় ১৭ কোটি ইউরো আয় করে দুইয়ে অবস্থান করছে ফরাসি ক্লাব প্যারিস সেন্ট জার্মেই (পিএসজি)।

কমার্শিয়াল খাতে ক্লাবগুলোর সম্মিলিত আয় ৪৯০ কোটি ইউরো, যা মোট আয়ের ৪৪ শতাংশ। এ খাতে টানা দ্বিতীয়বারের মতো রেকর্ড হয়েছে।

২০১১ সালের পর গত মৌসুমে প্রথমবার ইউরোপে খেলেছে ইংলিশ ক্লাব অ্যাস্টন ভিলা। এ মৌসুমে তারা আয়ে শীর্ষ ২০ ক্লাবের মধ্যে ঢুকে পড়েছে। শীর্ষ ২০ ক্লাবের মধ্যে নয়টিই ইংল্যান্ডের। তালিকায় আছে নিউক্যাসল আর ওয়েস্ট হ্যাম। নাপোলি ও এনট্র্যাখট ফ্রাংকফুর্ট ছিটকে পড়েছে, নতুন মুখ হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে ফরাসি ক্লাব অলিম্পিক লিঁও। শীর্ষ ৩০-এর মধ্যে আছে আরো তিনটি ইংলিশ ক্লাব। প্রথমবারের মতো ইউরোপা লিগে খেলেই তালিকার ২১ নম্বরে জায়গা করে নেয় ব্রাইটন। এছাড়া ক্রিস্টাল প্যালেস, এভারটন, ফুলহাম ও উলভারহ্যাম্পটন আছে তালিকার ২৬ থেকে ২৯তম স্থানের মধ্যে।

ক্লাবগুলো কমার্শিয়াল খাত থেকে সর্বোচ্চ ৪৪ শতাংশ (৪১৪ কোটি পাউন্ড) আয় করেছে। আগের মৌসুমের চেয়ে ১০ শতাংশ বেশি আয় করেছে তারা। ফুটবলের বাইরের নানা ইভেন্ট আয়োজন করে ক্লাবগুলো আয় বাড়িয়েছে। যেমন কনসার্ট। গত বছর আমেরিকান সুপারস্টার টেইলর সুইফটের কনসার্ট আয়োজন করে বিপুল আয় করে রিয়াল মাদ্রিদ।

ডেলয়েট স্পোর্টস বিজনেস গ্রুপের সহযোগী টিম ব্রিজ বলেন, ‘কমার্শিয়াল ও ম্যাচ ডে আয় বৃদ্ধির মাধ্যমে ক্লাবগুলো প্রবৃদ্ধির ধারায় রয়েছে।’

ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগ (ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ), স্প্যানিশ লা লিগা, জার্মান বুন্দেসলিগা, ফ্রান্সের লিগ ওয়ান ও ইতালির সিরি আ একই ঘরোয়া সম্প্রচার চক্রের মধ্যে থাকায় সম্প্রচার খাত থেকে গত মৌসুমে ক্লাবগুলোর আয় ৩৬৪ কোটি পাউন্ডই আছে।

ডেলয়েট এ নিয়ে ২৮তম বারের মতো ‘ফুটবল মানি লিগ’ সমীক্ষার ফল প্রকাশ করেছে।

সূত্র: ডেলয়েট