বিশ্বকাপে পঞ্চমবারের মতো সেমিফাইনালে হারল দক্ষিণ আফ্রিকা। ১৯৯২, ১৯৯৯, ২০০৭ ও ২০১৫ আসরের পর সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার কলকাতার ইডেন গার্ডেনসে তাদের ৩ উইকেটে হারিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। ওয়ানডে ক্রিকেটে বিশ্বের অন্যতম সেরা দল হয়েও কখনো বিশ্বকাপ জিততে পারেনি প্রোটিয়ারা। এমনকি তারা কখনো ফাইনালেও উঠতে পারেনি। বিশ্বকাপে নয়বার অংশ নিয়ে পাঁচবার সেমিফাইনালই তাদের সেরা ফল হয়ে থাকল।
ইডেনে টস জিতে ব্যাটিং করতে নেমে নিজেদের এমন জায়গায় দেখল প্রোটিয়ারা, যা তারা কল্পনাও করেনি। ১২তম ওভারে তাদের স্কোর দাঁড়ায় ২৪/৪! ডেভিড মিলারের লড়াকু সেঞ্চুরিতে ভর করে বিপর্যয় কাটিয়ে শেষ পর্যন্ত ২১২ রানে অলআউট হয় দক্ষিণ আফ্রিকা। যদিও ব্যাটিংয়ের পর বোলিংয়ের শুরুটাও হতাশাজনক ছিল তাদের। ডেভিড ওয়ার্নার ও ট্রাভিস হেডের ঝড়ে প্রথম পাওয়ার প্লে শেষে অজিদের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৭৪/২। তাতে জয়টা সহজ হয়ে পড়ে প্যাট কামিন্সের দলের।
এর পরও লড়াই করে তেম্বা বাভুমার দল। কেশব মহারাজ, তাবরাইজ শামসি ও জেরাল্ড কোয়েৎজির লড়াই অজিদের সহজে জিততে দেয়নি। তাদের ৭ উইকেট পতন হয় ১৯৩ রানে। এরপর বোলিংয়ের দুই নায়ক মিচেল স্টার্ক ও কামিন্স ব্যাটিংয়েও ত্রাতা। তাদের ২২ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে শঙ্কা কাটিয়ে শেষ পর্যন্ত জয় পায় অস্ট্রেলিয়া, উঠে যায় বিশ্বকাপের অষ্টম ফাইনালে।
এ বিশ্বকাপ হাই স্কোরিং দল হিসেবে সবার সমীহ আদায় করে নেয় দক্ষিণ আফ্রিকা। টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ ৪২৮ রানের সংগ্রহ তাদেরই গড়া। এছাড়া ৩৯৯, ৩৮২ ও ৩৫৭ রানের সব সৌধ গড়ে তারা। অথচ সেই দলটি নকআউট ম্যাচে এসে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ল। প্রথম ১০ ওভার শেষে তারা তুলল ২ উইকেটে ১৮ রান। গত ১৫ বছরের মধ্যে ওয়ানডে ক্রিকেটে প্রথম ১০ ওভারে যা তাদের সর্বনিম্ন স্কোর। এই ট্রমা থেকে আর কখনই বের হতে পারেনি বাভুমার দল। ব্যতিক্রম ছিলেন শুধু ডেভিড মিলার। তিনি করেছেন ১০১ রান। বাকি ১০ জন মিলে করেছেন বাকি রান।
হার শেষে দক্ষিণ আফ্রিকা দলনায়ক জানালেন, ব্যাটিং ও বোলিংয়ের শুরুটাই তাদের জন্য টার্নিং পয়েন্ট। তিনি মনে করেন, উভয় ইনিংসের প্রথম ১০ ওভারই সেমিফাইনালের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয়। বাভুমা বলেন, ‘ভাষায় প্রকাশ করা আসলেই কঠিন। তারা (অস্ট্রেলিয়া) ম্যাচের বেশির ভাগ অংশজুড়েই অবিশ্বাস্য খেলেছে এবং জয়ের দাবিদার। ফলের দিকে তাকালে দেখবেন, ব্যাট ও বলের শুরুটাই টার্নিং পয়েন্ট। আমরা খুব বাজেভাবে ম্যাচটা হেরেছি।’
কন্ডিশন, নাকি স্নায়ুচাপ, নাকি অস্ট্রেলিয়ার মানসম্মত অ্যাটাকের কাছে হেরেছেন? এমন প্রশ্নের জবাবে বাভুমা বলেন, ‘কন্ডিশন তো বটেই, সঙ্গে ছিল মানসম্মত অ্যাটাক। আমি মনে করি, হ্যাজেলউড ও স্টার্কের বোলিং ছিল নির্দয়। তারা কন্ডিশনের পুরো সদ্ব্যবহার করে প্রতিটি বলের মাধ্যমেই আমাদের ওপর প্রবল চাপ তৈরি করে গেছেন। ২৪ রানে ৪ উইকেট হারানোর পর আপনার পক্ষে আর লড়াকু স্কোর গড়া কঠিন হয়ে পড়ে।’
দুর্দান্ত এক সেঞ্চুরি করা মিলারের কথাতেই স্পষ্ট, কী চেয়েছিল প্রোটিয়ারা। সেঞ্চুরি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘এটা তো ফাঁপা। কুইনি (কুইন্টন ডি কক) যেমন তার চার সেঞ্চুরি নিয়ে বলল, আমরা যদি ট্রফিটা জিততাম তবে সে রান না করলেও কিছু মনে করত না। আমরা ফাইনালে উঠতে ও ট্রফিটা জিততে চেয়েছিলাম, কিন্তু তা হলো না।’
মিলারের শেষ কথাতেই স্পষ্ট হলো, গত তিন দশকে কী চেয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রিকেট। বারবার আশা জাগিয়েও ব্যর্থ হয় প্রোটিয়ারা। প্রজন্মের পর প্রজন্ম যায়, আবার আশা জাগে। প্রতীক্ষা ৩১ বছরের। শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট পেতে আবারো চার বছরের অপেক্ষা শুরু এবার।










