দুইবারের সাবেক বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ওয়েস্ট ইন্ডিজ খেলেছে নিজেদের মাঠে। টি-টোয়েন্টির পরাক্রমশালী এ দলকে তাদেরই মাঠে ৩-০ ব্যবধানে হারানোর কৃতিত্ব দেখাল বাংলাদেশ। গতকাল সেন্ট ভিনসেন্টে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচে ৮০ রানে জিতেছে টাইগাররা, যা টি-টোয়েন্টিতে ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে সবচেয়ে বড় জয়।

টি-টোয়েন্টিতে এ নিয়ে তৃতীয়বারের মতো ৩-০ ব্যবধানে সিরিজ জিতল বাংলাদেশ। এর আগে ২০১২ সালে আয়ারল্যান্ডকে তাদেরই মাঠে ও ২০২৩ সালে ইংল্যান্ডকে ঘরের মাঠে ৩-০ ব্যবধানে হারায় বাংলাদেশ। এর বাইরে ৫ ম্যাচের সিরিজে অস্ট্রেলিয়াকে ৪-১-এ, নিউজিল্যান্ডকে ৩-২-এ ও জিম্বাবুয়েকে ৪-১-এ হারানোর কৃতিত্ব দেখায় টাইগাররা।

এখন পর্যন্ত ৪৮টি দ্বিপক্ষীয় টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলে টাইগাররা জিতেছে ১৫টি। ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গে এটি বাংলাদেশের অষ্টম টি-টোয়েন্টি সিরিজ। এর মধ্যে বাংলাদেশ জিতেছে তিনটি, ওয়েস্ট ইন্ডিজ জিতেছে চারটি। ২০২২ সালের ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে ২-০-তে সিরিজ হারলেও এবার ৩-০-তে জিতল বাংলাদেশ। সেই সঙ্গে হেড-টু-হেড রেকর্ডের ব্যবধানও কমিয়ে আনল তারা। ১৯ ম্যাচের মুখোমুখিতে ব্যবধান এখন ৮-৯।

দুই দলের টেস্ট সিরিজটা ড্র হয় ১-১-এ। এরপর ওয়ানডে সিরিজে বাংলাদেশকে ৩-০-তে হারায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। টি-টোয়েন্টি সিরিজটা একই ব্যবধানে জিতল বাংলাদেশ। অর্থাৎ ৮ ম্যাচের লড়াই শেষে ৪-৪-এ সমতা।

সেন্ট ভিনসেন্টে গতকাল ভোরে দলকে ভালো শুরু এনে দেন সৌম্য সরকারের ইনজুরিতে একাদশে সুযোগ পাওয়া পারভেজ হোসেন ইমন (২১ বলে ৩৯)। এরপর জাকের আলীর আগ্রাসী ইনিংসে (৪১ বলে ৩ চার ও ৬ ছক্কায় ৭২*) বাংলাদেশ ২০ ওভারে ১৮৯ রানের বড় সংগ্রহ পেয়ে যায়। মেহেদী হাসান মিরাজ ২৩ বলে ২৯ ও তানজিম হাসান সাকিব ১২ বলে ১৭ রান করেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের কোনো মাঠে এটাই বাংলাদেশের সর্বোচ্চ টি-টোয়েন্টি স্কোর। সেন্ট ভিনসেন্টে যেকোনো দলের সর্বোচ্চ স্কোর।

এরপর পেস-স্পিনের সাঁড়াশি আক্রমণে ক্যারিবীয় দলকে ১৬.৪ ওভারে ১০৯ রানে অলআউট করে দেন বাংলাদেশের বোলাররা। ২১ রানে ৩ উইকেট নিয়েছেন লেগ স্পিনার রিশাদ হোসেন। তাসকিন আহমেদ ও শেখ মেহেদী হাসান নেন ২টি করে উইকেট। এছাড়া হাসান মাহমুদ দুর্দান্ত বোলিংয়ে নেন ১ উইকেট।

এবারের ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে টেস্ট, ওয়ানডের পর টি-টোয়েন্টি সিরিজেও হেসেছে জাকের আলীর ব্যাট। প্রথম দুই ম্যাচে করেন যথাক্রমে ২৭ ও ২১। শেষ ম্যাচে ৪১ বলে ৭২ রান। গতকাল ম্যাচসেরার পুরস্কার নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমার জন্য দারুণ এক সিরিজ—টেস্ট সিরিজ, ওয়ানডে সিরিজ ও এখন টি-টোয়েন্টি সিরিজ। আজকে উইকেট খুব ভালো ছিল গত দুই ম্যাচের তুলনায়। আমি চেষ্টা করছিলাম সময় নিতে, নিজেকে সময় দিতে। জানতাম, যদি খেলাটাকে গভীরে নিতে পারি, তাহলে রান করতে পারব।’

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

বাংলাদেশ: ২০ ওভারে ১৮৯/৭ (ইমন ৩৯, মিরাজ ২৯, জাকের ৭২*; শেফার্ড ২/৩০)। ওয়েস্ট ইন্ডিজ: ১৬.৪ ওভারে ১০৯ (চার্লস ২৩, শেফার্ড ৩৩; তাসকিন ২/৩০, মেহেদী ২/১৩, রিশাদ ৩/২১, হাসান ১/৯, তানজিম ১/৩১)। ফল: বাংলাদেশ ৮০ রানে জয়ী। সিরিজ: তিন ম্যাচের সিরিজে বাংলাদেশ ৩-০-তে জয়ী। ম্যান অব দ্য ম্যাচ: জাকের আলী। ম্যান অব দ্য সিরিজ: শেখ মেহেদী হাসান।