গত সপ্তাহে বিকেএসপিতে প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচ খেলতে গিয়ে হঠাৎই অসুস্থ হয়ে পড়া তামিম ইকবালকে পার্শ্ববর্তী কেপিজে হাসপাতালে নেয়ার পর চিকিৎসকরা দেখতে পান, তিনি দু-দুবার হার্ট অ্যাটাক করেছেন। পরে এনজিওগ্রাম শেষে তার হার্টে রিং পরানো হয়। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কেপিজে হাসপাতাল থেকে এভারকেয়ার হাসপাতালে নেয়া হয় তাকে, শুক্রবার দুপুরে তিনি বাসায় ফিরেছেন। শুক্রবার রাতে ফেসবুক পোস্টে সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক। তার পোস্ট তুলে ধরা হলো:
আপনাদের সবার দোয়ায় ও সর্বশক্তিমান আল্লাহর রহমতে এখন আমি বাসায়। উথালপাথাল এই চারটি দিনে নতুন জীবন যেমন পেয়েছি, তেমনি আমার চারপাশকে আবিষ্কার করেছি নতুন করে। সেই উপলব্ধির সবটুকুতে মিশে আছে কেবল ভালো লাগা ও কৃতজ্ঞতা। আপনাদের সবার ভালোবাসার ছোঁয়া ক্যারিয়ারজুড়ে নানা সময়ই পেয়েছি। তবে এবার তা অনুভব করতে পেরেছি আরো তীব্রভাবে। আমি সত্যিই আপ্লুত।
বিকেএসপিতে আমার অসুস্থতার শুরু থেকেই অনেককে পাশে পেয়েছি তাৎক্ষণিকভাবে। ম্যাচ রেফারি দেবু দা (দেবব্রত পাল), বিকেএসপির চিকিৎসকেরা এবং আরো যারা তখন ছিলেন সেখানে, অ্যাম্বুলেন্সের ড্রাইভার যে ভাই আমাকে দ্রুতগতিতে নিয়ে গেছেন হাসপাতালে, সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা।
আমাদের ট্রেনার ইয়াকুব চৌধুরী ডালিম ভাইয়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাব কীভাবে, আমার আসলে জানা নেই। পরে জেনেছি, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা বলেছেন, ডালিম ভাই ওই সময় সঠিকভাবে সিপিআর না দিলে হয়তো আমাকে বাঁচানো যেত না। উপযুক্ত মানুষকে উপযুক্ত সময়ে আমার পাশে রেখে আল্লাহ আমাকে মৃত্যুর দুয়ার থেকে ফিরিয়েছেন।
মোহামেডানের সাপোর্ট স্টাফ ওয়াসিমের কথা না বললেও নয়। শুরু থেকে এখনো সার্বক্ষণিক সঙ্গী হয়েই আছে আমার।
কেপিজে হাসপাতালের হৃদ্রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. মনিরুজ্জামান মারুফ ও তার দক্ষ চিকিৎসক দল তাদের পেশাদারত্ব আর আন্তরিকতার মিশেলে যেভাবে দ্রুততায় চিকিৎসা করেছেন, আমাদের দেশের চিকিৎসকদের মান ও কার্যকারিতাই ফুটে উঠেছে তাতে। আমি পরে শুনেছি, দেশের প্রখ্যাত হৃদ্রোগ বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, ডা. মারুফ ও তার দল মিরাকল ঘটিয়েছেন।
গোটা চিকিৎসা প্রক্রিয়ায় কেপিজে হাসপাতালের চিকিৎসক, সেবিকা থেকে শুরু করে যারা যেকোনোভাবে যতটুকু সম্পৃক্ত ছিলেন, সবাইকে হৃদয়ে লালন করব আজীবন। এ হাসপাতালে যতটুকু সময় ছিলাম, তাদের হৃদ্যতার পরশ অনুভব করে যাব সবসময়।
ধন্যবাদের তালিকা আসলে শেষ হওয়ার নয়। আরো অনেকেই নানাভাবে সম্পৃক্ত ছিলেন, অনেকের কথা জানি, অনেকের কথা হয়তো জানি না। এতটুকু জানি, ধন্যবাদ পাওয়ার আশায় তারা কিছু করেননি। আমি তাদের ভালোবাসার ঋণে আবদ্ধ সারা জীবনের জন্য।










