ঘরের মাঠে ২-৫
গোলে হেরে যাওয়ার পরই কার্যত লিভারপুলের এবারের চ্যাম্পিয়ন্স লিগ মিশন শেষ হয়ে
যায়। তারপর আনুষ্ঠানিকতাও সারল রিয়াল মাদ্রিদ। ঘরের মাঠে শেষ ষোলোর দ্বিতীয় লেগে
ইংলিশ দলটিকে ১-০ গোলে হারিয়ে বাধাহীনভাবেই তারা উঠে যায় কোয়ার্টার ফাইনালে। রেকর্ড
১৪ বারের ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন রিয়ালের জন্য শেষ আটের টিকিট কাটা মামুলি ব্যাপারই।
কিন্তু আলোচনায় এখন লিভারপুল। অন্যতম ফেভারিট এই দলটির এবার বিদায়ের পাশাপাশি পরবর্তী
মৌসুমেও চ্যাম্পিয়ন্স লিগে খেলা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
চ্যাম্পিয়ন্স লিগ
ইতিহাসেরই অন্যতম সেরা অঘটন ঘটানোর আশায় রিয়ালের মাঠে খেলতে যায় লিভারপুল। যদিও
তেমন কিছুই ঘটল না। ৭৮ মিনিটে ব্যালন ডি’রজয়ী করিম বেনজেমা গোল করে উল্টো
লিভারপুলকে হারের যন্ত্রণা উপহার দিলেন। তাতে দুই লেগ মিলে ৬-২ গোলের অগ্রগামিতায়
রিয়াল উঠল শেষ আটে, আর লিভারপুল বিদায় নিল।
ছয়বারের ইউরোপজয়ী
দল লিভারপুল সর্বশেষ চ্যাম্পিয়ন্স লিগ শিরোপা জিতেছে ২০১৯ সালে। গত বছর ফাইনালে
তারা হেরেছে রিয়ালের কাছে। অন্যতম শীর্ষ এই দলটির কিনা পরের মৌসুমে অংশগ্রহণ এখন
অনিশ্চিত।
লিভারপুল কোচ
ইয়ুর্গেন ক্লোপ নিজেই এ নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে বলেছেন, ‘এই প্রতিযোগিতায় আমাদের
যে ইতিহাস তাতে সব সময়ই চ্যাম্পিয়ন হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে খেলতে নামি। এটি এমনই এক
প্রতিযোগিতা প্রত্যেক বছর যার অংশ হতে চাই আমরা, কিন্তু এটি এখন আমাদের সামনে
পাহাড়সম কাজ।’
দুই সপ্তাহের
বিরতি শেষে এপ্রিলের শুরুর দিকে ম্যানসিটি, চেলসি ও আর্সেনালের মুখোমুখি হবে লিভারপুল।
এটি মনে করিয়ে দিয়ে ক্লোপ বললেন, ‘আন্তর্জাতিক বিরতি থেকে ফেরার পর আমাদের সামনে চ্যালেঞ্জিং
একটি সপ্তাহ অপেক্ষামান। এ সময় আমরা খেলব সিটি, চেলসি ও আর্সেনালের বিপক্ষে—যা
নির্ধারণ করে দেবে আমরা কোথায় থাকব। এই সপ্তাহটি সত্যিই নির্ধারক হয়ে উঠবে। আমাদের
কাজ হলো নিজেদের ওপর থেকে চাপটা সরিয়ে দেয়া। এটা পরিষ্কার যে, আমরা শীর্ষ চারে
থাকতে চাই।’
ইংলিশ গ্রেট মাইকেল
ওয়েন মনে করেন না যে, এই হারে লিভারপুলের সব শেষ হয়ে গেছে। তিনি বলেন, ‘লিভারপুলের
শক্তির জায়গাটা হলো, তাদের এক ঝাঁক খেলোয়াড় রয়েছে যারা একত্রে রয়েছে বেশ কিছুদিন
এবং একত্রে অনেক কিছু জিতেছেও। এই পুনর্গঠনে সময় লেগেছে। সবাই কেন সতেজতার কথা
বলছে? আমি মনে করি লিভারপুলের যথেষ্ট আছে। তাদের একাদশ দেখুন, সেখানে কাউকেই আপনি
বাতিল করে দিতে পারেন না। তাদের রাইট ব্যাক অবিশ্বাস্য, লেফট-ব্যাকও। ভার্জিল ফন
ডাইক ছন্দে থাকলে তার পরিজশনে সম্ভবত বিশ্বের সেরা। ইব্রাহিম কোনাতেও অসাধারণ।
তাদের সম্মুখসারির পাঁচজনও অসাধারণ। ডারউইন নুনেজ গত বছরব্যাপী ছিল আকর্ষণীয় এক
স্ট্রাইকার। কডি গাকপো বিশ্বকাপেরই অন্যতম সেরা
তারকা হয়ে ওঠে।’
সাবেক লিভারপুল
স্ট্রাইকার আরো বলেন, ‘ক্লাবটি যখন সালাহ, মানে ও ফিরমিনোকে নিয়ে এলো তখন কিন্তু
এরা ১০০ মিলিয়ন পাউন্ডের খেলোয়াড় ছিল না। তারা তখন বিশ্বের সেরাও ছিল না। নুনেজ তো
যেকোনো কিছুই হতে পারে। আমার তো মনে হয়, পাঁচ বছরের মধ্যে সে বিশ্বের অন্যতম সেরা
হতে পারে।’










