পুরুষদের ফুটবলে ২০২৪ সালে সুখস্মৃতি নেই। হাভিয়ের কাবরেরার দল ‘ঘুমিয়ে’ থাকলেও উজ্জ্বল বাংলাদেশের নারীরা। সাবিনা খাতুন, ঋতুপর্ণা চাকমারা দেশকে দ্বিতীয়বারের মতো সাফ শিরোপা এনে দিয়েছেন। ২০২৪ সালটি ছিল ফুটবলে উৎসবের বছর। লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনার কোপা আমেরিকা জয় ও স্পেনের ইউরো জয়ের বছরে বড় অর্জন আছে বাংলাদেশ নারী ফুটবলেও। ২০২২ সালের পর আবারো সাফ শ্রেষ্ঠত্ব পায় লাল-সবুজ জার্সিধারী মেয়েরা।
গত ৩০ অক্টোবর কাঠমান্ডুর দশরথ রঙ্গশালা স্টেডিয়ামে বিজয় নিশান ওড়ে বাংলাদেশের। ফাইনালে স্বাগতিক নেপালকে ২-১ গোলে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো দক্ষিণ এশিয়ার শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট পান সাবিনারা। ২০২২ সালে এ মাঠেই নেপালকে ৩-১ গোলে হারিয়ে প্রথমবারের মতো সাফ শিরোপা জিতেছিল বাংলাদেশ। টানা দ্বিতীয়বার খোরখালি মেয়েদের সাফ স্বপ্ন চূর্ণ করে শিরোপা উৎসবে মেতে ওঠেন মনিকা-ঋতুপর্ণারা।
সেমিফাইনালে ভুটানকে ৭-১ গোলে উড়িয়ে দেয়া সাবিনারা ফাইনালেও ছিলেন ফেভারিট। যদিও ভারতকে টাইব্রেকারে হারিয়ে ফাইনালে আসা নেপালও ছিল শিরোপার আশায়। তাদের সঙ্গী ছিল ভারতকে হারানোর আত্মবিশ্বাস, ঘরের মাঠে হাজার হাজার দর্শকের সমর্থন আর গতবারের হারের প্রতিশোধস্পৃহা। যদিও এসব কিছুই বাংলাদেশের সামনে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত হিমালয় জয় করেই দেশে ফিরেছেন বাংলাদেশের বীরাঙ্গনারা।
দ্বিতীয়ার্ধের সপ্তম মিনিটে গিয়ে অবশেষে ডেডলক ভাঙেন মনিকা চাকমা। ৫২ মিনিটে গোল করেন তিনি। এর ৪ মিনিট পরই গোল পরিশোধ করে নেপালের শিরোপার আশা বাঁচিয়ে রাখেন আমিশা কারকি। শিরোপার লড়াই চলতে থাকে সমানে সমান। ৮১ মিনিটে আরেক পাহাড়ি কন্যা ঋতুপর্ণা চাকমার দূরপাল্লার শটে করা মোহনীয় এক গোল বাংলাদেশকে এগিয়ে দিল ২-১-এ। এরপর নির্ধারিত ৯০ মিনিট পেরিয়ে আরো ৫ মিনিটে বাংলাদেশের জালে বল পাঠানোর মরিয়া চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন সবিতা ভান্ডারিরা। ফলে সাফ শিরোপা ধরা দেয় সাবিনাদের হাতে। সাফে এ নিয়ে ছয়বার ফাইনাল খেলে প্রতিবারই হেরেছে হিমালয় পাড়ের দেশ নেপাল। ভারতের কাছে চারবার ও বাংলাদেশের কাছে দুবার হেরেছে তারা।
সাফ চ্যাম্পিয়ন হয়ে অভিনন্দনের জোয়ারে ভেসেছেন বাংলাদেশের নারীরা। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মেয়েদের সংবর্ধনা দিয়েছেন। ফুটবল মাঠে বাজিমাত করে মেয়েরা অর্থ পুরস্কারও পাচ্ছেন ঢের। বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের (বিওএ) কক্সবাজারে জমকালো সংবর্ধনার পাশাপাশি এক কোটি টাকা, ক্রীড়া মন্ত্রণালয় থেকে এক কোটি টাকা, বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন দেড় কোটি টাকা ও বিসিবি ২০ লাখ টাকা পুরস্কার দিয়েছে মেয়েদের। এছাড়া সাউথ ইস্ট ব্যাংক দিয়েছে সংবর্ধনা ও অর্থ পুরস্কার।
মেয়েদের সাফল্য পাওয়ার বছরে বাংলাদেশের ছেলেদের দল বিশ্বকাপ বাছাই ও প্রীতি ম্যাচে ফিলিস্তিনের কাছে ৫-০ গোলে, লেবাননের কাছে ৪-০ গোলে, সুদানের কাছে ৩-০ গোলে, অস্ট্রেলিয়ার কাছে ২-০ গোলে, মালদ্বীপের কাছে ১-০ গোলে ও সুদানের কাছে ১-০ গোলে হেরেছে।










