ডাকার বিমানবন্দর থেকে প্রেসিডেন্ট ভবনের পথে মানুষের উপচেপড়া ভিড়। আবেগাপ্লুত মানুষের বিজয়োল্লাসের কাছে মূল্য পায়নি কভিড-১৯ মহামারীর চোখরাঙানি। বীরদর্পে মহাদেশ জয় করে সেনেগালের ফুটবল যোদ্ধারা ফিরেছেন দেশে। ঘরে নিয়ে এসেছেন আফ্রিকার অধরা মুকুটটি। হূদয় নিংড়ানো ভালোবাসায় জাতীয় বীরদের বরণ করে নিলেন সেনেগালের ফুটবল অনুরাগীরা। এদিন ডাকারের প্রাণকেন্দ্রে ফুটবলপ্রেমীদের ভিড়ে অচল হয়ে যায় প্রধান সড়কগুলো।
বিবিসির প্রতিনিধি এমেলিনে এনকোসি ডাকার থেকে বলেন, এটা যেন স্ট্রিট পার্টি। আমার মনে
হয় না, এমন দৃশ্য সেনেগালের মানুষ আগে কখনো দেখেছে।
আগের ৩২ আসরের ইতিহাসে কখনো মহাদেশের শ্রেষ্ঠত্ব পায়নি পশ্চিম আফ্রিকার দেশটি। দুবার আবার রয়েছে হূদয়ভাঙার গল্পও। শিরোপার মূল্য তাই ঠিক জানা ‘দ্য লায়নস অব তেরঙ্গা’দের। অগ্নিপরীক্ষায় জয়লাভ করে এবার শিরোপা নিয়ে দেশে ফিরেছেন তারা। ইউরোপ মাতানো সাদিও মানে, এদুয়ার্দো মেন্দিরা এবার নিরাশ করেননি জাতিকে। দেশে ফিরে সাদিও মানে বলেন, এটা সেনেগালের ইতিহাসের সেরা দিন, আমারও। এই দিনটার সঙ্গে আমার প্রথম সন্তানের জন্মের মুহূর্তকেই মেলাতে পারি।
দলকে স্বাগত জানাতে বিমানবন্দরে আসেন রাষ্ট্রপতি ম্যাকে সল। উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রিসভার সদস্যরাও। শিরোপা জেতায় ৭ ফেব্রুয়ারি জাতীয় ছুটি ঘোষণা করে সেনেগাল। রাষ্ট্রপতি টুইট করেছেন, কী একটি ম্যাচ! কী অবিশ্বাস্য দল! তোমরা এবার করে দেখিয়েছ। ফুটবলের সুন্দর মুহূর্ত, জাতীয় গৌরবের সুন্দর মুহূর্ত। আমাদের বীরদের অভিনন্দন।
২০০২ সালে আফ্রিকান নেশনস কাপে প্রথম ফাইনাল খেলে সেনেগাল। সেবার ফাইনালে ক্যামেরুনের কাছে হারের পেছনে বড় দায় ছিল বর্তমান কোচ আলিউ সিসের। সেদিন শেষ শটটি নিয়ে ব্যর্থ হয়েছিলেন সিসে। সেনেগাল দ্বিতীয়বারের মতো ফাইনালে ওঠে ২০১৯ আসরে। এবার ডাগআউটে দাঁড়িয়ে পরাজয়ের সাক্ষী হন সিসে, ১-০ গোলে জিতে চ্যাম্পিয়ন হয় আলজেরিয়া।
টানা দুবার হূদয় ভেঙেছে সিসের। এবার পেরেছেন শিরোপার হাসি হাসতে। ক্যামেরুনের ওলেম্বে স্টেডিয়ামে নেশনস কাপে নিজেদের তৃতীয় ফাইনালে মূল ৯০ মিনিট ও অতিরিক্ত সময়ের খেলায় জিততে পারেনি কোনো দল। খেলা গড়ায় টাইব্রেকারে। ফাইনালে ওঠার পথে দুবার টাইব্রেকার জেতায় মিসরকেই ফেভারিট ভাবা হচ্ছিল। কিন্তু মিসর প্রথম চার শটের মধ্যে দুটি মিস করে বসে আর সেনেগাল মিস করে একটি। তাই পঞ্চম শটে বল জালে জড়িয়েই উচ্ছ্বাসে মাতেন সাদিও মানে (৪-২)।
হতাশার বৃত্ত ভেঙে অবশেষে বের হতে পারল সেনেগাল। সিসের বুকের ওপর থেকে পাথরটাও অবশেষে নামল। ফাইনাল শেষে স্বস্তির নিঃশ্বাস ছেড়ে তিনি বলেন, কেউ যদি কঠোর পরিশ্রম করে, হাল না ছেড়ে লক্ষ্য অর্জনের চেষ্টায় লেগে থাকে, তাহলে সাফল্য মিলবেই। আমি খুব আবেগাক্রান্ত। কারণ সেনেগালের মানুষ এই ট্রফিটা ৬০ বছর ধরে জিততে চেয়েছিল। এই ট্রফি সেনেগালের জনগণকে উৎসর্গ করছি। বিবিসি










