সৌদি আরবের ক্লাব আল ইত্তিহাদ আগামী গ্রীষ্মকালীন দলবদলে লিভারপুল তারকা মোহাম্মদ সালাহ ও টটেনহাম হটস্পার্সের সন হিউং-মিনকে দলভুক্ত করতে চায়। ফুটবলের দলবদলসংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইট ফুটবলট্রান্সফারস এ তথ্য জানিয়েছে।
গত গ্রীষ্মের দলবদলে মিসরীয় সুপারস্টার সালাহকে পেতে ১৭ কোটি ৫০ লাখ ইউরোর প্রস্তাব দিয়েছিল আল-ইত্তিহাদ, যদিও তাকে সেই সময় ছাড়েনি লিভারপুল। এবার নতুন করে তারা সালাহর জন্য প্রস্তাব তৈরি করছে। সে সঙ্গে দক্ষিণ কোরিয়ান ফরোয়ার্ড সনকেও চায় সৌদি পেশাদার লিগের দলটি। তাদের লক্ষ্য আক্রমণভাগটা শক্তিশালী করা।
ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড রোমারিনহোর বয়স হয়ে যাওয়ায় এখন তার জায়গা পূরণে কাউকে খুঁজছে আল-ইত্তিহাদ। এছাড়া ফরাসি ফরোয়ার্ড করিম বেনজেমার চলে যাওয়ার স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলেছে। এ দুটি কারণেই তারা সালাহ ও সনকে নিয়ে আসার চেষ্টা করবে।
সালাহ ও সনকে আনা গেলে তারা দুজন ফরোয়ার্ড লাইনে যুক্ত হবেন আবদেররাজ্জাক হামদাল্লার সঙ্গে, যিনি চলতি মৌসুমে ১৬ ম্যাচে ১৩ গোল করে দলের আস্থা অর্জন করেছেন।
সালাহ ক্লাব ফুটবলের এক উজ্জ্বল নাম। তিনি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে লিভারপুলের হয়ে আলো ছড়িয়েছেন। ২০১৩ সালে সুইস ক্লাব এফসি বাসেল দিয়ে ইউরোপিয়ান ফুটবলে তার যাত্রা। মাত্র ২৫ লাখ ইউরোয় মিসরীয় জাদুকরকে সই করায় বাসেল। এক বছর পরই ১ কোটি ৬৫ লাখ ইউরোয় তাকে সই করায় চেলসি। তখন লিভারপুলও তাকে কেনার রেসে ছিল। যদিও সেই রেসে লিভারপুলকে হারিয়ে তাকে দলভুক্ত করে চেলসি।
কিন্তু তার শৈল্পিক ফুটবলের পরশ নীল জার্সিতে দেখা গেল আর কই। তাকে মাত্র ১৩ ম্যাচ খেলায় ব্লুজরা। দুই দফায় তাকে ধারে খেলানো হয় ইতালির ফিওরেন্টিনা ও রোমায়। অবশেষে ২০১৬ সালে তাকে স্থায়ীভাবে বিক্রি করে দেয়া হয় রোমার কাছে। রোমাই তাকে দিল নতুন জীবন। ২০১৫-১৬ মৌসুমে ধারে খেলার সময় ৩৪ ম্যাচে ১৪ গোল, আর ২০১৬-১৭ মৌসুমে ৩১ ম্যাচে ১৫ গোল করেছেন।
যে লিভারপুল তাকে বাসেলের কাছ থেকে কিনতে চেয়েও পারেনি, সেই লিভারপুল এবার পরিণত সালাহকে পেল। ২০১৭ সালের ২২ জুন ৪ কোটি ২০ লাখ ইউরোর (৩ কোটি ৬৫ লাখ পাউন্ড) চুক্তিতে সালাহকে দলভুক্ত করে অল রেডরা। সেটা ছিল লিভারপুলের ক্লাব রেকর্ড ফি। এ চুক্তিতে পেছনে পড়ে যায় অ্যান্ডি ক্যারলকে কেনার ফি। ২০১১ সালে ৩ কোটি ৫০ লাখ পাউন্ডে ইংলিশ ফরোয়ার্ডকে কিনেছিল তারা।
অ্যানফিল্ডে যোগ দিয়ে ইতিহাস গড়েছেন সালাহ। নিখুঁত ফিনিশিং, চোখ ধাঁধাঁনো ড্রিবলিং আর গতিতে গত অর্ধ দশক তিনি মোহাচ্ছন্ন করে রেখেছেন ফুটবল দুনিয়াকে। লিভারপুলের হয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ, ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ, এফএ কাপ, কমিউনিটি শিল্ড, উয়েফা সুপার কাপ ও ক্লাব বিশ্বকাপ জিতেছে মিসরীয় সুপারস্টার। লিভারপুলে খেলার সময় দুবার আফ্রিকান নেশন্স কাপে রানার্সআপ ট্রফি জিতেছেন দেশের হয়ে।
এবার কি ইউরোপের ঝলমলে দুনিয়া ছেড়ে সৌদি আরবের পেট্রোডলারের খোঁজে ছুটবেন সালাহ? তিনি যদি লিগটিতে নাম লেখান তবে তাকে স্বাগত জানাতে তৈরি দেশটির ফুটবল নিয়ন্তারা। ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো, নেইমার, সাদিও মানে, করিম বেনজেমার মতো বিশ্বনন্দিত ফুটবলার এরই মধ্যে নাম লিখিয়েছেন সৌদি লিগে। এবার যদি সালাহর মতো বর্ণাঢ্য এক ফুটবলারও সৌদির বিমান ধরেন, তবে মধ্যপ্রাচ্যের ফুটবল যে আরো গৌরবের আসনে বসবে, সেটা বলাই বাহুল্য। সৌদি আরবের লিগ থেকে যে অর্থের প্রস্তাব আসবে, সেটি ফিরিয়ে দেয়া কঠিনই বটে। পারেননি রোনালদো, নেইমার কিংবা বেনজেমা। হয়তো সালাহও এ প্রস্তাব লুফে নেবেন।
২০২৩ সালের জানুয়ারিতে আল-নাসেরে যোগ দেয়া রোনালদোই লিগটিতে সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক পান। তাকে বছরে ১৭ কোটি ৩০ লাখ পাউন্ড (প্রায় ২০ কোটি ইউরো) দেয় আল-নাসের। এর পরই ইত্তিহাদের করিম বেনজেমা, যিনি বছরে পান ১৭ কোটি ২০ লাখ পাউন্ড। এছাড়া আল-হিলালের নেইমার ১৩ কোটি ৮০ লাখ পাউন্ড, ইত্তিহাদের এন’গোলা কান্তে ৮ কোটি ৬২ লাখ পাউন্ড, আল আহলির রিয়াদ মাহরেজ ৪ কোটি ৫০ লাখ পাউন্ড, আল-ইত্তেফাকের জর্ডান হেন্ডারসন ৩ কোটি ৬৪ লাখ পাউন্ড, ইত্তিহাদের ফাবিনহো ৩ কোটি ৬৪ লাখ পাউন্ড, আল-নাসেরের সাদিও মানে ৩ কোটি ৪০ লাখ পাউন্ড, আল-হিলালের কালিদু কুলিবালি ৩ কোটি পাউন্ড ও আল-নাসেরের মার্সেলো ব্রোজোভিচ ২ কোটি ৯ লাখ পাউন্ড পারিশ্রমিক পান।
উচ্চ পারিশ্রমিকের এ চার্টে হয়তো শিগগিরই নাম উঠবে সালাহ ও সনের। টটেনহামের আক্রমণভাগের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য সন গত গ্রীষ্মে স্পার্সদের সঙ্গে থেকে যাওয়ার ইচ্ছা ব্যক্ত করেন। যদিও এখন পরিস্থিতির পরিবর্তন হচ্ছে। চলতি প্রিমিয়ার লিগে টেবিলের পঞ্চম স্থানে রয়েছে স্পার্সরা। ক্লাবটি আগামী মৌসুমে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে জায়গা করে নিতে না পারলে সন চলে যেতে পারেন বলে জানা গেছে। ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত টটেনহামের সঙ্গে চুক্তি রয়েছে ৩১ বছর বয়সী সনের।
ইংলিশ ফরোয়ার্ড হ্যারি কেন থাকার সময় সন একজন লেফট-উইঙ্গার হিসেবে খেলেছেন। গত মৌসুম শেষে হ্যারি কেন নাম লেখান জার্মান দল বায়ার্ন মিউনিখে। সেই থেকে সন খেলছেন সেন্টার ফরোয়ার্ড হিসেবে। ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড রিচার্লিংসন ক্রমেই আলো ছড়াচ্ছেন, তাই ৯ নম্বর নিয়ে আপাতত ভাবনা কমে গেছে নতুন কোচ অ্যাঞ্জে পস্তেকগলুর।
রাফিনহা ও ফেদেরিকো চিয়েসাকে নিয়ে এরই মধ্যে ভাবছে টটেনহাম। তাদের একজনকে পাওয়া গেলে তখন সনের শূন্যতাও পূরণ করতে পারবে স্পার্সরা। আর জার্মান ফরোয়ার্ড টিমো ভেরনার তো রয়েছেনই। গত শীতকালীন দলবদলে জার্মানির আরবি লিপজিগ থেকে সই করায় ইংলিশ জায়ান্টরা। ভেরনারকে ধার চুক্তিতে নেয়া হলেও চলতি মৌসুম শেষে তাকে স্থায়ীভাবে কেনার অপশন রয়েছে চুক্তিতে। ফুটবলট্রান্সফারস, নাইন্টিমিনিট










