গত বুধবার স্বাগতিক নেপালকে হারিয়ে দিয়ে প্রথমবারের মতো সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা জিতে নেয় বাংলাদেশ। যুবাদের দুর্দান্ত এ পারফরম্যান্সে ভুটান সফরে ভালো কিছু করার অনুপ্রেরণা পাচ্ছেন জাতীয় দলের খেলোয়াড়রাও। জাতীয় দলের অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া ও মোহাম্মদ হৃদয় অকপটে সে কথা স্বীকার করে নিলেন।
থিম্পুতে ভুটানের বিপক্ষে ৫ ও ৮ সেপ্টেম্বর দুটি প্রীতি ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ। বুধবার বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনায় প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন জামাল-হৃদয়রা। এদিনই ললিতপুরের আনফা কমপ্লেক্সে নেপালকে ৪-১ গোলে হারিয়ে সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা জয় করে বাংলাদেশ।
চোখ ধাঁধানো ফ্রি-কিকে বাংলাদেশকে এগিয়ে নেয়ার পর ব্যবধান দ্বিগুণ করা গোলটিও আসে মিরাজুল ইসলামের হেড থেকে। এরপর রাব্বী হোসেন রাহুল ও পিয়াস আহমেদ নোভার লক্ষ্যভেদে দাপুটে জয় তুলে নেয় বাংলাদেশ। যুবাদের সাফল্য নিয়ে জাতীয় দলের মিডফিল্ডার হৃদয় বলেন, ‘(সাফ অনূর্ধ্ব-২০ জয়) দেশের জন্য বড় পাওয়া বলে মনে করি। দলের সবাইকে আমি অভিনন্দন জানাই। আসলে অনুশীলনে আসার আগেও আমরা বলাবলি করছিলাম, ক্রিকেটে সাফল্য এসেছে, ফুটবলেও এসেছে। আমাদের সামনে দুইটা ম্যাচ আছে। আমাদের যে লক্ষ্য, সে অনুযায়ী খেলতে পারলে অবশ্যই ভালো একটা ফল আসবে।’
অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়ার কণ্ঠেও একই সুর। এই ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার বলেন, ‘আমি মনে করি, জাতীয় দল (ওদের সাফল্যে) সবসময় অনুপ্রাণিত থাকবে। অনূর্ধ্ব-১৮, ১৯, ২০ যখনই ওরা ট্রফি পায়, তখন সেটা পুরো দেশের জন্য অনুপ্রেরণা, সেটা শুধু আমাদের জন্য নয়, সবার জন্যই সেটা অনুপ্রেরণার।’
সাফজয়ী যুব দলের দুই সদস্যকে জাতীয় দলে ডেকেছেন কোচ হাভিয়ের কাবরেরা। নতুন মুখ শাকিল আহাদ তপু ও মিরাজুল।
অনূর্ধ্ব-২০ সাফজয়ী দল থেকে ভুটান ম্যাচের চূড়ান্ত দলে আছেন মোট চারজন। তাদের মধ্যে রাব্বী হোসেন রাহুল ও চন্দন রায় আগেও ডাক পেয়েছিলেন কাবরেরার দলে। মিরাজুল ও তপু এবারই প্রথম।
সদ্য শেষ হওয়া সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে মিরাজুল চার গোল নিয়ে সর্বোচ্চ গোলদাতা ও টুর্নামেন্ট সেরার পুরস্কার জেতেন। ফাইনালে দলের তৃতীয় গোলটি করেন রাহুল। নতুনদের নিয়ে স্প্যানিশ কোচ কাবরেরা বলেন, ‘রাহুল ও চন্দন আগের ক্যাম্পে ছিল। মিরাজুল ও তপু একেবারে নতুন।’
মিরাজুলের নৈপুণ্যে নেপালকে হারিয়ে অনূর্ধ্ব-২০ সাফে চ্যাম্পিয়ন হয় বাংলাদেশ। দৃষ্টিনন্দন ফ্রি-কিকে দলকে এগিয়ে দেন মিরাজুল। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে সুযোগসন্ধানী হেডে এ ফরোয়ার্ড ব্যবধান দ্বিগুণ করেন। ৪-১ গোলে জিতেছে মারুফুল হকের দল। চ্যাম্পিয়নদের অন্য দুটি গোল করেন রাহুল ও পিয়াস আহমেদ।
বয়সভিত্তিক এ প্রতিযোগিতায় এই প্রথম চ্যাম্পিয়ন হলো বাংলাদেশ। জয় শেষে ম্যাচের নায়ক মিরাজুল বলছিলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, সবকিছুর জন্য আল্লাহ সাহায্য করেছেন, নইলে পারতাম না। নেপাল ভালো খেলেছে, নেপাল দলেও অনেক ভালো খেলোয়াড় আছে, কিন্তু ভাগ্য ওদের পক্ষে ছিল না। আমাদের প্রথম থেকে লক্ষ্য ছিল ফাইনালে খেলা। আমাদের দেশে এখন খারাপ অবস্থা, অনেক কিছু হয়েছে, বন্যা চলছে, এই পুরো খেলাটা আমরা বাংলাদেশের মানুষের জন্য খেলেছি। নিজের জন্য আমরা খেলিনি। দেশের মানুষের জন্য খেলেছি। ফুটবল যেন এগিয়ে যায় এজন্য খেলেছি।’
সেমিফাইনালে টাইব্রেকারে ভারতের দুটি শট আটকে দেয়া আসিফ হোসেন হয়েছেন সেরা গোলরক্ষক। ফাইনালেও দারুণ খেলেন তিনি। শিরোপা জয়ের পর আসিফ বলেন, ‘নেপালের কাছে গ্রুপ পর্বে আমরা ২-১ গোলে হেরেছি। ফাইনালে লক্ষ্য ছিল, যেভাবেই হোক জিততে হবে। সেই নিবেদন ও মনোযোগ আমাদের ছিল। স্টেডিয়ামে পরিবেশ, সমর্থক সবকিছুই দারুণ ছিল। আমরা খুব উপভোগ করেছি। এ উপভোগ্য পরিবেশের মধ্যে সেরাটা দিতে পেরেছি, এ কারণে জিততে পেরেছি। আমাদের দেশের অবস্থা এখন ভালো নয়। বন্যার্ত যারা আছেন এবং গত জুলাইয়ে যারা শহীদ হয়েছেন, তাদের আমরা অনেক শ্রদ্ধা করি এবং তাদের জন্য এই ট্রফিটা উৎসর্গ করলাম।’
কোচ মারুফুল হকের কণ্ঠে ম্যাচ পরিকল্পনার পাশাপাশি উঠে এল আন্দোলনে প্রাণ হারানোদের কথা। তিনি বলেন, ‘ম্যাচের আগে আমাদের পরিকল্পনা ছিল ধীরলয়ে খেলার। ভেবেছিলাম, শুরুতে তেড়েফুঁড়ে খেলতে যাওয়াটা ছেলেদের জন্য চাপের হয়ে যাবে। শুরুর ১০ মিনিটে নেপাল চাপে ছিল। তখন ছেলেদের বললাম, যদি তোমরা সহজাত খেলতে পারো, পাস-মুভ ধারাবাহিকভাবে করে যাও (ফল আসবে)। আমি এ ট্রফি উৎসর্গ করছি গত মাস এবং এ মাসে নতুন বাংলাদেশের জন্য যে নায়করা জীবন দিয়েছে, তাদের উদ্দেশে। গত মাসে (বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে) আমরা অনেক নায়ককে হারিয়েছি। এরপর গত কিছুদিন ধরে ভীষণ বন্যা চলছে। অনেক পরিবার খাবার, পানির জন্য ভুগছে। সরকার চেষ্টা করছে (পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের)। আমি মনে করি, এ জয় নতুন বাংলাদেশ গড়ার ক্ষেত্রে সবাইকে অনুপ্রাণিত করবে।’











