এমনিতেই মোহামেডানের ক্রিকেটার তাওহীদ হৃদয়ের নিষেধাজ্ঞা প্রদান ও প্রত্যাহার নিয়ে নাটকীয়তার কারণে বিতর্কের মুখে রয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বিসিবি-প্রধানের আর্থিক ‘অনিয়ম’ করার অভিযোগ, তা নিয়ে এখন তোলপাড় চলছে। বিসিবির এফডিআরের বিপুল অংকের অর্থ অন্য ব্যাংকে সরিয়ে নেয়া নিয়ে কয়েকদিন ধরে আলোচনা তুঙ্গে। এ ঘটনায় অনেকেই সরাসরি অভিযোগ তুলেছেন বিসিবি প্রেসিডেন্ট ফারুক আহমেদের দিকে। অবশেষে এফডিআরের অর্থ স্থানান্তরের বিষয়ে গতকাল ব্যাখ্যা দিয়েছে দেশের ক্রিকেট নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।
বিসিবি জানিয়েছে, বোর্ডের অর্থের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই টাকা ঝুঁকিপূর্ণ ব্যাংক থেকে তুলে অন্য ব্যাংকে পুনরায় বিনিয়োগ করা হয়েছে। এমন উদ্যোগের কারণে স্থায়ী আমানত থেকে বোর্ডের মুনাফাও বেড়েছে।
বিসিবি মনে করছে, বোর্ড ও এর সভাপতি ফারুক আহমেদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতেই পরিকল্পিতভাবে ভুল তথ্য ছড়ানো হয়েছিল। গতকাল গণমাধ্যমে পাঠানো আর্থিক লেনদেন সম্পর্কিত বিসিবির বিবৃতিতে এসব কথা বলা হয়।
গত বছর আগস্টে দেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিসিবির পরিচালনা পর্ষদেও পরিবর্তন আসে। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ মনোনীত পরিচালক হিসেবে বোর্ডে আসেন সাবেক ক্রিকেটার ফারুক আহমেদ। সঙ্গে নাজমুল আবেদীন ফাহিম। নাজমুল হাসান পাপনের জায়গায় বোর্ডের নতুন সভাপতি নির্বাচিত হন ফারুক আহমেদ। দায়িত্ব গ্রহণের পর শুরু থেকেই তিনি নানাভাবে বিতর্কে জড়ান, সমালোচিত হন। এবার অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। যদিও একে ভিত্তিহীন দাবি করছে বিসিবি।
বিসিবির বিবৃতিতে বলা হয়, আর্থিক স্বার্থ সংরক্ষণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার প্রদানের অংশ হিসেবে বোর্ড তার ব্যাংকিং সম্পর্কগুলো পুনর্মূল্যায়ন করে এবং শুধু বাংলাদেশ ব্যাংক নির্ধারিত ‘গ্রিন’ ও ‘ইয়েলো’ তালিকাভুক্ত আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গেই লেনদেনে জড়িত থাকার সিদ্ধান্ত নেয়।
বিসিবি অর্থের নিরাপত্তা নিশ্চিতে ঝুঁকিপূর্ণ তালিকার ব্যাংকগুলো থেকে ২৫০ কোটি টাকা উত্তোলন করে ২৩৮ কোটি টাকা ‘গ্রিন’ ও ‘ইয়েলো’ তালিকার ব্যাংকগুলোয় পুনর্বিনিয়োগ করে। বাকি ১২ কোটি বিসিবির পরিচালনা ব্যয় নির্বাহের জন্য নির্ধারিত ব্যাংকে স্থানান্তর করা হয়। সংবাদমাধ্যম ও অন্যান্য প্লাটফর্মে ফারুক আহমেদ নিজের সিদ্ধান্তে টাকা স্থানান্তর করেছেন বলে যে কথা বলা হয়েছে সেটিও খণ্ডন করেছে বিসিবি।
এ বিষয়ে বিবৃতিতে বলা হয়, ‘বোর্ড সভাপতি কোনো একক সিদ্ধান্ত বলে বোর্ডের পরিচালনা পর্ষদের অজ্ঞাতে ব্যাংক পরিবর্তনের অথবা লেনদেনসংক্রান্ত নির্দেশ প্রদান করেন না। সহযোগী ব্যাংকগুলোর সঙ্গে বিসিবির আর্থিক বিষয়ক লেনদেনে স্বাক্ষর প্রদানকারী হিসেবে দুজন বোর্ড পরিচালক আছেন—বোর্ডের ফাইন্যান্স কমিটি চেয়ারম্যান এবং টেন্ডার ও পারচেজ কমিটি চেয়ারম্যান। বিসিবি সভাপতি এ-সংক্রান্ত বিষয়ে স্বাক্ষরদাতা নন।’
২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে এখন পর্যন্ত বিসিবি তার অর্থ ও স্থায়ী আমানত সংরক্ষণের দায়িত্ব ১৩টি ব্যাংকের হাতে দিয়েছে জানিয়ে বলা হয়, এর ফলে আগের তুলনায় বিসিবির স্থায়ী আমানত থেকে ২-৫ শতাংশ পর্যন্ত অতিরিক্ত মুনাফা হয়েছে। এছাড়া গত ছয় মাসে বিসিবি তার বর্তমান তিনটি ব্যাংকিং অংশীদারের কাছ থেকে আনুমানিক ১২ কোটি টাকার আর্থিক স্পনসরশিপ ও অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য আরো প্রায় ২০ কোটি টাকা বিনিয়োগের আশ্বাস পেয়েছে।
বিবৃতির সঙ্গে সরবরাহ করা নথি অনুসারে, বিসিবি ‘রেড জোনে’ থাকা বেসরকারি খাতের মিডল্যান্ড, বেসিক, আইএফআইসি, এক্সিম, ইউসিবি এবং সরকারি জনতা ও অগ্রণী ব্যাংক থেকে এফডিআরের টাকা তুলে নিয়েছে। যা রাখা হয়েছে ইস্টার্ন, ব্র্যাক, মিউচুয়াল ট্রাস্ট, পূবালী, মেঘনা ও সিটি ব্যাংকে। কিছু অর্থ অগ্রণী ব্যাংকেও আবার বিনিয়োগ করা হয়েছে।










