আগামীকাল শুরু হচ্ছে টেনিসে বছরের প্রথম গ্র্যান্ড স্লাম আসর অস্ট্রেলিয়ান ওপেন ২০২২। জনপ্রিয় এই টেনিস আসরের প্রাইজমানি ৫১.৬ মিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে ৫৪.২ মিলিয়ন ডলার (৭৫ মিলিয়ন অস্ট্রেলিয়ান ডলার) হচ্ছে। ফলে খেলোয়াড়রা বাড়তি উদ্দীপনা নিয়েই নামবেন মেলবোর্নে।
‘হ্যামি স্লাম’
নামে পরিচিত অস্ট্রেলিয়ান ওপেন এ মুহূর্তে প্রাইজমানির বিচারে চারটি গ্র্যান্ড স্লামের মধ্যে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। তাদের চেয়ে বেশি প্রাইজমানি দেয় শুধুই ইউএস ওপেন, যার প্রাইজমানি পুল ২০২১ সালে এসে দাঁড়ায় ৫৭.৫ মিলিয়ন ডলার।
গত বছর মেলবোর্ন পার্কে শিরোপা জিতে ২০ লাখ ডলার করে প্রাইজমানি পান পুরুষ ও নারী এককের চ্যাম্পিয়ন সার্বিয়ার নোভাক জোকোভিচ ও জাপানের নাওমি ওসাকা। তখন রানার্সআপ হিসেবে রাশিয়ার দানিল মেদভেদেভ ও জেনিফার ব্র্যাডি ১১ লাখ ডলার করে পকেটে পুরেছেন। কিন্তু এ বছর প্রাইজমানিতে বড় উল্লম্ফন ঘটেছে। মেলবোর্ন পার্কে এবার পুরুষ ও নারী এককে যে দুজন শিরোপায় চুমু খাবেন তারা প্রত্যেকে পাবেন ৩২ লাখ ডলারের চেক, বাংলাদেশী মুদ্রায় যা প্রায় ২৭ কোটি ৩২ লাখ টাকা। এছাড়া দুই এককের দুই রানার্সআপ পাবেন ১৬ লাখ ডলার করে।
এবার সেমিফাইনালিস্ট ও কোয়ার্টার ফাইনালিস্টদের প্রাইজমানিও বাড়ছে। ২০২১ সালে সেমিফাইনালিস্ট ও কোয়ার্টার ফাইনালিস্টরা যথাক্রমে ৬ লাখ ১৪ হাজার ১৬০ ডলার ও ৩ লাখ ৭৯ হাজার ৩৩০ ডলার করে পান। এবার তা যথাক্রমে ৭ লাখ ৯৪ হাজার ৭৯০ ও ৪ লাখ ৩৩ হাজার ৫৯০ ডলার। এ দুটি ক্যাটাগরিতে প্রাইজমানি বেড়েছে যথাক্রমে ২৯ দশমিক ৪১ শতাংশ ও ১২ দশমিক ৫ শতাংশ করে। যদিও দুঃসংবাদ কোয়ালিফায়ার ও বিদায়ীদের জন্য। এ দুটি ক্যাটাগরিতে এবার প্রাইজমানি কমানো হয়েছে।
টুর্নামেন্টের মোট প্রাইজমানি বাড়লেও এবার যারা আগেভাগে বিদায় নেবেন তারা খুব বেশি প্রাইজমানি নিয়ে দেশে ফিরতে পারছেন না। গত বছর তৃতীয় কোয়ালিফাইং রাউন্ড খেলে ৩৭ হাজার ৯৩০ ডলার প্রাইজমানি পাওয়া পেলেও এবার তা কমে হয়েছে ৩৬ হাজার ১২০ ডলার। ২০২১ সালে প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ রাউন্ডের প্রাইজমানি ছিল যথাক্রমে ৭২ হাজার ২৪০ ডলার, ১ লাখ ৮ হাজার ৩৫০, ১ লাখ ৯৫ হাজার ২৯০ ও ২ লাখ ৩১ হাজার ১৩০ ডলার। ওই রাউন্ডগুলোতে এবার প্রাইজমানি যথাক্রমে ৬৫ হাজার ডলার, ১ লাখ ১ হাজার ১২০, ১ লাখ ৩০ হাজার ও ২ লাখ ১৬ হাজার ৬৭০ ডলার। এই চারটি ক্যাটাগরিতে ১০ থেকে ১৬ শতাংশ পর্যন্ত প্রাইজমানি কমেছে। কোয়ালিফাইং রাউন্ডের জন্য অবশ্য কোনো কর দিতে হবে না। মূল ড্রতে খেলা নন-রেসিডেন্ট খেলোয়াড়দের ৩২ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে শুরু করে ৪৫ শতাশ পর্যন্ত কর দেয়া লাগবে।
এবার দ্বৈতের চ্যাম্পিয়নরা প্রত্যেক জুটি পাবেন ৫ লাখ ৭৭ হাজার ৭৯০ ডলার। এছাড়া রানার্সআপরা ২ লাখ ৮৮ হাজার ৮৯০ ডলার, সেমিফাইনালিস্ট ১ লাখ ৪৪ হাজার ৪৫০ ডলার, কোয়ার্টার ফাইনালিস্ট ৭৯ হাজার ৪৫০ ডলার, তৃতীয় রাউন্ড ৪৪ হাজার ৭৮০ ডলার ও দ্বিতীয় রাউন্ডে ২৮ হাজার ৮৯০ ডলার করে পাবেন।
পুরুষ এককে নয়বারের চ্যাম্পিয়ন জোকোভিচের অংশগ্রহণ ঘোর অনিশ্চিত। কভিড-১৯ টিকা না নেয়ায় সার্বিয়ান তারকার ভিসা বাতিল করেছে অস্ট্রেলিয়া সরকার। তার সামনে ছিল রেকর্ড দশম শিরোপা জয়ের হাতছানি। এছাড়া রজার ফেদেরার ও রাফায়েল নাদালকে টপকে যাওয়ার সুযোগ ছিল তার সামনে। এই তিনজনই জিতেছেন সমান ২০টি করে গ্র্যান্ড স্লাম শিরোপা।
জোকার এবার মেলবোর্ন পার্কে খেলতে না পারলে টুর্নামেন্টের ইতিহাসে সর্বোচ্চ প্রাইজমানি জয়েরও সুযোগ থেকে বঞ্চিত হবেন। অবশ্য তার ক্যারিয়ারে কম উপার্জন করেননি। স্পোর্টিকোর মতে, এখন পর্যন্ত ১৫ কোটি ৪৮ লাখ ডলার তিনি আয় করেছেন শুধু প্রাইজমানি হিসেবেই। সুইস গ্রেট রজার ফেদেরার ১৩ কোটি ৬ লাখ ডলার নিয়ে দুইয়ে ও স্প্যানিশ গ্রেট রাফায়েল নাদাল ১২ কোটি ৫০ লাখ ডলার প্রাইজমানি নিয়ে তিনে অবস্থান করছেন।
প্রাইজমানি, অংশগ্রহণ ফি ও এনডোর্সমেন্ট খাত মিলিয়ে টেনিস খেলোয়াড়দের মধ্যে সর্বোচ্চ আয়কারী জোকোভিচ। ২০২০ সালের জুন থেকে ২০২১ সালের জুন পর্যন্ত তিনি আয় করেন ৩৩ দশমিক ৪ মিলিয়ন ডলার, যার মধ্যে ২৯ মিলিয়ন ডলারই এসেছে কোর্টের বাইরের স্পন্সরশিপ থেকে।
স্পোর্টসকিডা, সিডনি নিউজটুডে, টেনিস আপটুডেট










