মরুর বুকের বিশ্বকাপ মঞ্চে নিজেদের প্রথম ম্যাচে কোস্টারিকাকে ৭-০ গোলের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে দারুণ শুরু করেছে স্পেন। লা রোজাদের অভিনন্দন জানানো লোকের ভিড়ে এদিন স্পেনের রাজা ফেলিপ ষষ্ঠও মাঠে উপস্থিত ছিলেন। এ ম্যাচে স্পেন ফুটবলের ঐতিহ্যবাহী তিকিতাকার প্রদর্শনী দেখতে পায় বিশ্ববাসী। বল দখলে রাখা, ছোট ছোট পাস দিয়ে প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগ ভেঙে চুরমার করে দিয়ে গোল-বন্যায় ভাসিয়ে নিখুঁত ও নান্দনিক ম্যাচ উপহার দেয় স্পেন, যা তাদের দ্বিতীয় বিশ্ব শিরোপা জয়ের সম্ভাবনা জাগিয়ে তুলেছে।

২০১০ সালের বিশ্বকাপ জয়ীদের ঐতিহাসিক এ জয়ের ফলে কাতার বিশ্বকাপে সমর্থকদের প্রত্যাশা বেড়েছে। সে সময় জাভি ও ইনিয়েস্তারা বল দখলের নিপুণ শৈলী দেখাতেন, যা ফুটবল বিশ্বকে দীর্ঘকাল ধরে বিমোহিত করে রেখেছে। আজ তাদের শূন্যতা পূরণ করে দিয়েছেন গাভি ও পেদ্রির মতো তরুণ তুর্কি। 

স্পেন টিমের তরুণ কয়েকজন সেনসেশনাল খেলোয়াড়ের সংযোজনে তিকিতাকা স্টাইল আরো সমৃদ্ধ হয়েছে, ভিন্নতা এসেছে। গাভি ও পেদ্রিসহ অন্যান্য প্রতিভাবান তরুণদের নিয়ে স্পেন এবারের বিশ্বকাপ যাত্রা শুরু করেছে। তারুণ্যনির্ভর দলে ক্রমাগত দ্রুত পাসিং ও বল নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি মুহূর্তেই প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগে ঢুকে যাওয়ার মতো গতি দলের শক্তি বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

কোস্টারিকার বিপক্ষের ম্যাচটিতে ৯০ মিনিটের খেলায় স্পেন পাসিং করেছে রেকর্ড ১ হাজার ৩ বার এবং ৭৫ শতাংশ সময় বল দখলে রেখেছে। ম্যাচটিতে কোস্টারিকা একবারের জন্যও গোল করার সুযোগ না পেলেও স্পেন অন টার্গেট শট করেছে ১৭ বার।

এনরিকে বলেন, আমাদের একমাত্র লক্ষ্য হলো খেলাকে ক্রমাগত নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং এজন্য বল আপনার দখলে থাকতে হবে। তখন বিপক্ষ দল হতাশ হবে এবং অস্তিত্ব খুঁজে পেতে লড়াই করবে। প্রতিপক্ষকে চাপে রাখতে আমরা ব্যতিক্রমী ছিলাম।

১৮ বছর বয়সী গাভি ও ১৯ বছর বয়সী পেদ্রি ২০১০ বিশ্বকাপ জয়ী দলের একমাত্র অভিজ্ঞ খেলোয়াড় সার্জিও বুসকেটসের সঙ্গে ম্যাচের গতি নিয়ন্ত্রণে সহযোগিতা করেছেন।