গত মৌসুমে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে ভালো করে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে উঠে আসা ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড এবার কমার্শিয়াল খাতেও পেল বড় সুখবর। বিশ্বখ্যাত স্পোর্টসওয়্যার ব্র্যান্ড এডিডাসের সঙ্গে পার্টনারশিপ ১০ বছরের জন্য বাড়াল ইংলিশ ফুটবল ক্লাবটি। এ চুক্তির অর্থমূল্য ৯০ কোটি পাউন্ড। জার্মান কোম্পানির সঙ্গে ম্যানইউর নতুন চুক্তি শেষ হবে ২০৩৫ সালে। আগের ১০ বছরের চুক্তিতে ম্যানইউ পেয়েছে ৭৫ কোটি পাউন্ড।
এ চুক্তিতে ম্যানইউ হারিয়ে দিল লিগ প্রতিদ্বন্দ্বী চেলসিকে। ইংল্যান্ডের অন্যতম শীর্ষ ক্লাব চেলসি ২০১৬ সালে ৯০ কোটি পাউন্ডের স্পন্সরশিপ চুক্তি করে যুক্তরাষ্ট্রের খ্যাতিমান ব্র্যান্ড নাইকির সঙ্গে। চেলসির চুক্তিটা ১৫ বছরের, যা শুরু হয় ২০১৭ সাল থেকে। চেলসির চুক্তির তুলনায় ম্যানইউর চুক্তিটা তাই বেশি আকর্ষণীয় এবং ১০ বছরের চেলসির সমপরিমাণ অর্থ পাবে ম্যানইউ।
ম্যানইউর প্রধান নির্বাহী রিচার্ড আর্নল্ড বলেন, ‘ম্যানইউর সঙ্গে এডিডাসের সম্পর্ক ক্রীড়া দুনিয়ায় অন্যতম সেরা, আইকনিক। সম্পর্কের সূচনা সেই আশির দশকে। স্পোর্টসওয়্যারে নতুন নতুন ডিজাইন যেমন এসেছে, তেমনি লেগেছে প্রযুক্তির ছোঁয়াও। এ কারণে গত দশকে এ সম্পর্কটির নতুন যাত্রা হয়।’
এডিডাসের সিইও বিওন গুলডেন বলেন, ‘ম্যানইউর সঙ্গে চুক্তি নবায়ন করতে পেরে আমরা খুবই গর্বিত। আন্তর্জাতিক ফুটবলে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দুই ব্র্যান্ড হলো এডিডাস ও ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। তাই তাদের সঙ্গে চুক্তি ও সহযোগিতা বহাল রাখা আমাদের জন্য খুবই স্বাভাবিক একটি সিদ্ধান্ত। ফুটবলের এ প্রবাদপ্রতিম ক্লাবটির সঙ্গে পার্টনারশিপটা চালিয়ে নিতে আমরা খুবই আনন্দিত।’ তিনি আরো বলেন, ‘এখন ম্যানইউর খেলোয়াড় ও সমর্থকরা যাতে খুশি হয় সেটি নিশ্চিত করতে আমরা ঐতিহ্য যেমন রক্ষা করব, তেমনি উদ্ভাবনও স্থান পাবে জার্সিতে।’
১৯৮০ থেকে ১৯৯২ সাল পর্যন্ত ইংলিশ ক্লাবকে স্পোর্টস কিট সরবরাহ করত ম্যানইউ। ২৩ বছরের বিরতি দিয়ে ২০১৫ সালে ফিরে আসে তারা। নতুন করে জুটি বাঁধে এডিডাস ও ম্যানইউ। সেটি এখন নবায়ন হলো আরো ১০ বছরের জন্য। ম্যানইউ জানিয়েছে, নতুন এ চুক্তিতে ন্যূনতম ৯০ কোটি পাউন্ড ক্যাশ গ্যারান্টি রয়েছে তাদের জন্য।
ম্যানইউর সাম্প্রতিক বার্ষিক প্রতিবেদন বলছে, এডিডাসের সঙ্গে ম্যানইউর মূল চুক্তিতে এটা বলা আছে, চ্যাম্পিয়ন্স লিগে অংশগ্রহণের হিসেবে প্রতি বছর পেমেন্ট পরিশোধ করবে জার্মান কোম্পানিটি। টানা দুই বছর চ্যাম্পিয়ন্স লিগে অনুপস্থিত থাকলে পেমেন্ট ৩০ শতাংশ কমে যাবে।
তিনবারের চ্যাম্পিয়ন্স লিগ বিজয়ীরা ২০২৩-২৪ মৌসুমে ইউরোপের শীর্ষ লিগে ফিরছে। ২০২২-২৩ মৌসুমে তারা চ্যাম্পিয়ন্স লিগে খেলতে পারেনি। যদিও চ্যাম্পিয়ন্স লিগে না খেলেও গত মৌসুমে রেকর্ড আয় করার কথা জানিয়েছে রেড ডেভিলরা। নতুন চুক্তি পরবর্তী মৌসুমগুলোতে তাদের আয় আরো বাড়িয়ে দেবে।
ম্যাচ ডে আয় ও কমার্শিয়াল আয়ও বাড়বে ম্যানইউর। নতুন পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, বছরে ৬৩ থেকে ৬৪ কোটি পাউন্ড আয় হতে পারে ম্যানইউর, যা আগের সব রেকর্ডকে ছাপিয়ে যাবে।২০১৯ সালে হয়েছিল আগের রেকর্ড ৬২ কোটি ৭১ লাখ পাউন্ড।
অবশ্য ম্যানইউর দেনাও অংকটিও বেশ বড়। এ মুহূর্তে তাদের দেনা ৯৫ কোটি পাউন্ড। খেলোয়াড়দের দলবদলেই তাদের দেনা ১৬ কোটি পাউন্ড।
স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসন অবসর নেয়ার পর ম্যানইউ তার শৌর্য হারায়। গত প্রায় এক দশকে বড় অর্জন কমই এসেছে ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে। এতে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে সমর্থকদের মধ্যে। তারা মালিকের বিদায় চায়। এমন পরিস্থিতিতে গত নভেম্বরে আমেরিকান মালিক গ্লেজার পরিবার জানায়, তারা ক্লাবটি বিক্রি করে দিতে ইচ্ছুক। সেই থেকে একাধিক আগ্রহী প্রার্থীর সঙ্গে দফায় দফায় কথা হয়েছে তাদের। যদিও বিক্রি নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসেনি। ম্যানইউ কেনার রেসে এগিয়ে আছেন ব্রিটিশ ধনকুবের রিচার্ড র্যাটক্লিফ ও কাতারি ব্যাংকার শেখ জসিম বিন হামাদ আল-থানি। ধারণা করা হচ্ছে, তারা দুজনই চূড়ান্ত দরপত্র জমা দিয়েছেন।
শেখ জসিমের প্রস্তাবটি সরাসরি ক্লাবটি কিনে নেয়ার এবং তিনি আরো ১০০ কোটি ডলার খরচ করবেন ক্লাবের স্টেডিয়াম, ট্রেনিং ফ্যাসিলিটিজ ও স্কোয়াড পুনর্গঠনে। অন্যদিকে, র্যাটক্লিফের চুক্তিতে গ্লেজার পরিবারকে পরিচালনা বোর্ডে রাখার প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। তিনি ক্লাবের বৃহদাংশ শেয়ার রাখার প্রস্তাব দিয়েছেন, আর গ্লেজারের হাতে থাকবে বাকিটা। বর্তমানে গ্লেজার পরিবারের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে ৬৯ শতাংশ শেয়ার।
সমর্থকরা অবশ্য গ্লেজার পরিবারের হাত থেকে ক্লাবের মুক্তি চান। সম্প্রতি এক বিক্ষোভ সমাবেশে এক সমর্থক বলেন, ‘কে কিনবে সেটি মুখ্য নয়, আমরা চাই গ্লেজার পরিবারের হাত থেকে ক্লাব মুক্তি পাক।’
২০১৮
সালে ম্যানইউর নারী দল যাত্রা করে।
সেই থেকে রেড ডেভিলরা জার্সির স্পন্সর চুক্তিতে নারী দলের বিষয়টিও অগ্রাধিকারে রাখে।










