মেক্সিকোর মন্টেরেই স্টেডিয়ামে আগামীকাল সকাল ৭টায় শুরু হবে ম্যাচটি। তার আগে আজ দিবাগত রাত আড়াইটায় যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন স্টেডিয়ামে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানির মুখোমুখি হবে লাতিন দল প্যারাগুয়ে।

প্রতিটি আসরেই বিশাল প্রত্যাশার বোঝা কাঁধে নিয়ে খেলতে নামে ‘অরেঞ্জ’রা। এবারো ব্যতিক্রম নয়। ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা দল হয়েও এখনো শিরোপার নাগাল পায়নি ডাচরা। ১৯৭৪ ও ১৯৭৮ সালে ফাইনাল খেলার পর ২০১০ সালে শিরোপার কাছাকাছি গিয়েও তীরে গিয়ে তরী ডোবে আরিয়েন রোবেনদের।

আরেকবার বৈশ্বিক আসরে গ্রুপ পর্ব পেরিয়ে নকআউট খেলতে নামছে ইউরোপের দেশটি। তবে রেকর্ড ৪৮ দলের এ আসরে শেষ বত্রিশেই তাদের সামনে পড়েছে মরক্কোর মতো শক্তিশালী দল। ‘অ্যাটলাস লায়ন্স’রা বিশ্বমঞ্চে এরই মধ্যে প্রমাণ করেছে, সুসংহত রক্ষণ আর ক্ষিপ্রতায় কাউন্টার অ্যাটাকে অভ্যস্ত দলটি বিশ্বের সেরা দলকেও বিপদে ফেলে দিতে পারে।

নেদারল্যান্ডস ফুটবলের পাওয়ারহাউজ, চির ফেভারিট। এবারো ব্যতিক্রম নয়। ধীরে ধীরে নিজেদের মেলে ধরছে ডাচরা। ‘এফ’ গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে নকআউটে নাম লেখায় রোনাল্ড কোম্যানের দল। প্রথম ম্যাচে জাপানের সঙ্গে ২-২ গোলে ড্র করলেও পরের ম্যাচে সুইডেনকে বিধ্বস্ত করে ৫-১ গোলে। গ্রুপের শেষ ম্যাচে তারা ৩-১ গোলে হারায় তিউনিসিয়াকে।

‘সি’ গ্রুপে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের সঙ্গে ড্র করে আসরের সূচনা করে মরক্কো। ব্রাজিলকে আটকে দিয়ে টুর্নামেন্টে বড় দলগুলোকে একটি বার্তাই দেন আশরাফ হাকিমিরা। এরপর স্কটল্যান্ডকে ১-০ ও হাইতিকে ৪-২ গোলে হারায় ‘অ্যাটলাস লায়ন্স’রা। আক্রমণভাগে ক্ষিপ্রগতির খেলোয়াড়ই ডাচদের বড় অস্ত্র। ডামফ্রাইস, ব্রায়ান ব্রবি, কডি গাকপো, মেম্ফিস ডিপাই, ডনিয়েল মালেন, টিজ্জানি রেইন্ডার্সরা দারুণ আত্মবিশ্বাসী। তবে কোম্যানের কৌশল ভেস্তে দেয়ার মতো রসদ সব বিভাগেই আছে মরক্কোর। সুসংগঠিত রক্ষণ, শক্তিশালী মিডফিল্ড এবং ব্রাহিম ডিয়াজ, ইসমায়েল সাইবারিদের নিয়ে গড়া ঈর্ষণীয় আক্রমণভাগ নিয়ে যেকোনো দলের আতঙ্কের নাম মরক্কো।

এদিকে গত দুই আসরে প্রথম রাউন্ড থেকে বিদায় নেয়া জার্মানি এবার শুরুর বিপদ কাটিয়ে উঠতে পেরেছে। যদিও শেষ ম্যাচে তারা ১-২ গোলে হেরে বসেছে একুয়েডরের কাছে। ‘আনপ্রেডিক্টেবল’ এ দলটার সামনে এবার প্যারাগুয়ে।

গত দুটি আসর খারাপ গেলেও জার্মানি যেকোনো সময় ঘুরে দাঁড়াতে পারে—এ বিশ্বাস সবারই আছে। এবার গ্রুপ পর্বে তিন ম্যাচে সর্বোচ্চ ১০ গোল করেছে জার্মানি, আর গোলগুলো করেছেন সাত ভিন্ন খেলোয়াড়। কাজেই জুলিয়ান নাগেলসম্যানের দল কতটা বিপজ্জনক হতে পারে, তা অনুমান করা কঠিন নয়।

যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ৪-১ গোলের হার দিয়ে সূচনা করলেও পরের ম্যাচে তুরস্ককে ১-০ গোলে হারিয়ে দেয় প্যারাগুয়ে। শেষ ম্যাচে তারা অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করে নকআউটের টিকিট নিশ্চিত করে।

আজ লড়াই হতে পারে জার্মানির দুরন্ত আক্রমণভাগ ও প্যারাগুয়ের জমাট রক্ষণের মধ্যে। গ্রুপ পর্বে দুই ম্যাচে ‘ক্লিন শিট’ করে প্যারাগুয়ে জানিয়ে দিয়েছে, নকআউটে তাদের কৌশল কী হতে পারে।