চট্টগ্রাম টেস্টে আজ প্রথম দিন প্রথম পুরো
৯০ ওভারের লড়াইশেষে ৬ উইকেটে ২৭৮ রান নিয়ে মাঠ ছেড়েছে সফরকারী ভারত। অতিথিদের হয়ে
চেতেশ্বর পুজারা ও শ্রেয়াস আইয়ার এবং বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান
মিরাজ লড়েছেন। পুজারা ও আইয়ারের ১৪৯ রানের জুটির পরও বাংলাদেশ ম্যাচে টিকে রয়েছে
তাইজুল ও মিরাজের ঘূর্ণিতে। দুজন নিয়েছেন ভারতের ৫ উইকেট। ফিল্ডাররা দুটি-তিনটি ক্যাচ লুফে
নিতে পারলে আরো ভালো অবস্থানে দেখা যেত বাংলাদেশকে।
তামিম ইকবাল চোটগ্রস্ত থাকায় ২৪ বছর বয়সী
বামহাতি ব্যাটার মোহাম্মদ জাকির হাসানের অভিষেক ঘটেছে চট্টগ্রামে। তাসকিন চোট থেকে
সেরে ওঠার প্রক্রিয়ার মধ্যে থাকায় তাকে একাদশে রাখা হয়নি। একাদশে ঠাঁই পান দুই
পেসার এবাদত হোসেন ও খালেদ আহমেদ। এছাড়া স্পেশালিস্ট স্পিনার হিসেবে রয়েছেন তাইজুল
ইসলাম, মেহেদী
হাসান মিরাজ ও অধিনায়ক সাকিব আল হাসান।
সকালে ১৪তম ওভারে এসে বাংলাদেশকে প্রথম
সাফল্য এনে দেন তাইজুল। তার বলে ইয়াসির আলীকে ক্যাচ দেন শুভমান গিল। ৪০ বলে ২০ রান
করেন এই ব্যাটার। ১৯তম ওভারে অধিনায়ক লোকেশ রাহুলকে বোল্ড করে স্বাগতিকদের উজ্জীবিত
করে তোলেন খালেদ। বিরাট কোহলিকে ৫ বলের বেশি খেলতে দিলেন না তাইজুল। তার বলে
ব্যক্তিগত ১ রানের মাথায় লেগ বিফোর হয়ে সাজঘরে ফেরেন ইতিহাসের অন্যতম সেরা এই
ব্যাটার।
এরপর দুই জুটিতে সংহত অবস্থান গড়ে অতিথি
দলটি। চতুর্থ উইকেটে পুজারা ও ঋষভ পন্ত
(৭৩ বলে ৬৪), আর পঞ্চম উইকেটে পুজারা ও আইয়ার (৩১৭ বলে ১৪৯) টানেন ভারতকে। আগ্রাসী ব্যাটিং করা পন্ত ৪৫ বলে ৪৬ রান করে
মেহেদী হাসান মিরাজের বলে বোল্ড হন।
তৃতীয় সেশনের শেষ আধা ঘণ্টায় খেলায় ফেরে
বাংলাদেশ। ৮৫তম ওভারে পুজারাকে বোল্ড করে সাজঘরে ফেরান অভিজ্ঞ বামহাতি অর্থোডক্স
স্পিনার তাইজুল। পুরো দিন পুজারাকে অসংখ্যবার পরাজিত করেও উইকেট নিতে পারছিলেন না
তাইজুল। অবশেষে দ্বিতীয় নতুন বলে তিনি সফল হন। আর দিনের শেষ বলে অক্ষর প্যাটেলকে
লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেলেন মিরাজ। পুজারা ২০৩ বলে ৯০ রান করেন। শ্রেয়াস ১৬৯ বলে ৮২
রানে অপরাজিত রয়েছেন। তাইজুল ৮৪ রানে ৩টি ও মিরাজ ৭১ রানে ২টি উইকেট নেন।
উল্লেখ্য,
২০০০ সাল থেকে শুরু করে এই টেস্টের আগ পর্যন্ত ভারতের সঙ্গে ১১টি টেস্ট খেলে
কখনো জেতা হয়নি বাংলাদেশের। ১১ টেস্ট খেলে ৯টিতেই হার। অর্জন বলতে দুটি ড্র। ২০০৭
সালে এই জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে ও ২০১৫ সালে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় ভারতের
সঙ্গে ড্র করে বাংলাদেশ।
২০১৫ সালের পর এই প্রথম বাংলাদেশ সফরে এসেছে
ভারতীয় ক্রিকেট দল। তারপর দুবার ভারত সফরে গিয়ে তিনটি টেস্ট খেলে এসেছে বাংলাদেশ।
ভারতের মাঠে তিনটিতেই জুটেছে হার।
এটা আইসিসি ওয়ার্ল্ড টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ, যাতে একটি জয় নিয়ে বাংলাদেশ রয়েছে টেবিলের তলানিতে। আর ভারত রয়েছে চতুর্থ
স্থানে। তাদের উপরে অবস্থান করছে অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা ও শ্রীলংকা।










