বাস্কেটবলের লিগ মানেই যেন এনবিএ। খ্যাতিতে, অর্থে, মানে বিশ্বসেরা যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল বাস্কেটবল লিগ (এনবিএ)। এ লিগের প্রতিটি দলেই রয়েছে শত শত কোটি ডলারের পুঁজি। খেলোয়াড়দের পারিশ্রমিকও নজরকাড়া। দলগুলো বিক্রি হয়ও চড়া দামে। এই এনবিএর ইতিহাসে সেরা দল বোস্টন সেলটিকস বিক্রি হওয়ার পথে। রেকর্ড ৬১০ কোটি ডলারে (৭০ হাজার ৭৩ কোটি টাকা) লিগটির ইতিহাসে সফলতম এ ফ্র্যাঞ্চাইজিটি কিনতে সম্মত হয়েছেন প্রাইভেট ইকুইটি মোগল উইলিয়াম চিসহোম। সবকিছু ঠিক থাকলে যুক্তরাষ্ট্রের পেশাদার ক্রীড়ার ইতিহাসে সর্বোচ্চ দামে বিক্রি হতে যাচ্ছে ফ্র্যাঞ্চাইজিটি।
বিক্রির বিষয়টি চূড়ান্ত হওয়ার আগে এটি এনবিএর পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন পেতে হবে। হয়তো আগামী গ্রীষ্মেই অনুমোদন পেয়ে যাবে। তখনই ইতিহাস রচিত হবে। ন্যাশনাল ফুটবল লিগের (এনএফএল) দল ওয়াশিংটন কমান্ডার্স ২০২৩ সালে বিক্রি হয়েছিল ৬০৫ কোটি ডলারে। এবার কমান্ডার্সকে পেছনে ফেলে সর্বোচ্চ দামে বিক্রি হওয়ার নজির স্থাপন করতে যাচ্ছে সেলটিকস। এনবিএ লিগের ইতিহাসেও এটি সর্বোচ্চ। ২০২৩ সালে ৪০০ কোটি ডলারে ফিনিক্স সানস কিনে নিয়েছিলেন মর্টগেজ ফার্ম মালিক ম্যাট ইসবিয়া।
ম্যাসাচুসেটসে জন্মগ্রহণ করা চিসহোম ডার্টমাউথ কলেজ ও পেনস হোয়ার্টন স্কুল অব বিজনেস থেকে গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন করেছেন। তিনি ক্যালিফোর্নিয়াভিত্তিক সিমফোনি টেকনোলজি গ্রুপের ম্যানেজিং পার্টনার। নতুন মালিকানায় যুক্ত থাকবেন আরো দুজন—বোস্টনের ব্যবসায়ী রব হেল এবং ব্রুস বিয়াল জুনিয়র। এর মধ্যে রব হেল বর্তমানে সেলটিকসের শেয়ারহোল্ডার।
বোস্টন সেলটিকস কেনার আগ্রহ কেন? এ নিয়ে চিসহোম বলেন, ‘উত্তর উপকূলে আমার বেড়ে ওঠা আর নিউ ইংল্যান্ডের কলেজে পড়াশোনা করার সময়ই আমি সেলটিকসের কড়া সমর্থক হয়ে উঠি এবং সারাজীবনই আমি দলটির সমর্থক। আমি বুঝতে পারি, সেলটিকস ফ্র্যাঞ্চাইজিটি বোস্টনের জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ—এ ফ্র্যাঞ্চাইজিটি অন্য যেকোনো শহরের চেয়ে এ শহরের অধিবাসীদের জীবনযাত্রায় ব্যাপকমাত্রায় ও ভিন্ন ধরনের প্রভাব ফেলে থাকে। আমি এটাও জানি যে এ প্রতিষ্ঠানটির নেতা হিসেবে বোস্টনের মানুষের ওপর কতটা দায় রয়েছে এবং আমি সেই চ্যালেঞ্জ নিতে তৈরি আছি।’
বর্তমান মালিকানা থাকা উইক গ্রুসবেকের পরিবার ২০০২ সালে ৩৬ কোটি ডলারে (৪ হাজার ৩৭১ কোটি টাকা) বোস্টন সেলটিকস ফ্র্যাঞ্চাইজি কিনে নেয়। গ্রুসবেক জানান, ফ্র্যাঞ্চাইজির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও পরবর্তী তিন বছরের জন্য গভর্নর হিসেবে থাকার কথা বলেছেন চিসহোম। এ নিয়ে গ্রুসবেক বলেন, ‘আমি সানন্দেই সেটি করতে রাজি আছি। চিসহোম দারুণ একজন মানুষ, সেলটিকের সত্যিকারের সমর্থক আর বোস্টন এলাকায়ই বেড়ে উঠেছেন। এ টিম ও বোস্টন শহরের প্রতি তার যে ভালোবাসা এবং মালিকানায় যুক্ত থাকতে যাওয়া অন্যদের সঙ্গে তার সম্পর্কের যে রসায়ন তাতে সহজাতভাবেই তিনি এ প্রজেক্টের পরবর্তী নেতা হওয়ার যোগ্যতা রাখেন। যেহেতু তিনি সেলটিকসের গুরুত্ব বুঝতে পারছেন এবং এ ক্লাবটি নিয়ে বোস্টনবাসীর আবেগের কথাও জানেন, কাজেই তিনি কোর্টেও জিততে মরিয়া হবেন। আমি মনে করি, তিনি একজন মহান মালিক আর নেতা হবে সেলটিকসের।’
সেলটিকের বিক্রি দুই ধাপে সম্পন্ন হবে। প্রথমত, এনবিএর পরিচালনা পর্ষদ রাজি হলে চিসহোম ৫১ শতাংশ শেয়ার কিনে নেবেন, যা গ্রীষ্মের মধ্যেই সম্পন্ন হয়ে যাবে। বর্তমান মালিকরা বাকি অংশের শেয়ার ২০২৮ সাল পর্যন্ত নিজেদের হাতে রাখতে পারবেন এবং বিক্রির সময় লিগের আয়ের প্রবৃদ্ধির বিচারে ২০ শতাংশ বেশি দাম পাবেন। তাতে ফ্র্যাঞ্চাইজিটির মোট দাম পড়বে ৭৩০ কোটি ডলার।
মাঠের সাফল্যে সেলটিকস অন্যদের তুলনায় অনেক এগিয়ে। গত জুনে নজিরবিহীন ১৮তম এনবিএ শিরোপা জিতে নিয়েছে ফ্র্যাঞ্চাইজিটি। এবারো শিরোপার ফেভারিট দল। সেলটিকসে খেলেন তরুণ তুর্কি জেইসন ট্যাটাম (২০২৫-২৬ মৌসুমে যিনি ৫ কোটি ৪১ লাখ ডলার পারিশ্রমিক পাবেন) ও জেইলেন ব্রাউন (২০২৫-২৬ মৌসুমে পারিশ্রমিক ৫ কোটি ৩১ লাখ ডলার), যারা কিনা বব কাউজি, বিল রাসেল, ল্যারি বার্ড ও পল পিয়ার্সের উত্তরাধিকারী হওয়ার যোগ্যতা রাখেন। যদিও গত গ্রীষ্মে এনবিএ শিরোপা জয়ের পরপরই গ্রুসবেক ঘোষণা দেন, বোস্টন সেলটিকস তিনি বিক্রি করে দেবেন।
চিসহোম বলেন, ‘উইক ও পুরো গ্রুসবেক পরিবারের জন্য আমি ও আমার সহযোগীদের রয়েছে বিশাল শ্রদ্ধা। সেলটিকসে গত ২৩ বছরে অবিশ্বাস্য নেতৃত্ব দিয়েছেন তারা। উইক ও তার সহযোগী ব্র্যাড স্টিভেনস, জো মাৎজুল্লা এবং তাদের মেধাবী টিম যেভাবে বোস্টন সেলটিকস পরিচালনা করেছেন আমরা তাদের কাছ থেকে শিক্ষা নিতে চাই এবং বোস্টনের মানুষের জন্য আরো বেশি চ্যাম্পিয়নশিপ শিরোপা নিয়ে আসতে চাই।’ —এপি ও বিবিসি।










