গত বৃহস্পতিবার ২১ জনকে নিয়ে ২০২২ সালের কেন্দ্রীয় চুক্তির তালিকা প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। এই তালিকা থেকে কারো বাদ পড়া নিয়ে যেমন বিস্ময়কর লেগেছে, তেমনি সাকিব আল হাসানের চুক্তিতে থাকা নিয়েও প্রশ্ন জেগেছে। কেননা তিনি ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত ছুটিতে থাকবেন। আজ মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে সংবাদ সম্মেলনে এসবের ব্যাখা দিলেন প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন। তিনি জানালেন, তিন সংস্করণেই পাওয়া যাবে জেনেই সাকিবকে কেন্দ্রীয় চুক্তিতে সব সংস্করণে রাখা হয়েছে।
কখনো পারিবারিক ছুটি, কখনো আইপিএলজনিত ছুটির কারণে তিনি জাতীয় দল থেকে ছুটি নেন। ফলে গত বছর নিউজিল্যান্ড ও শ্রীলংকা সফরে যাননি। শারীরিক ও মানসিকভাবে উদ্দীপ্ত না থাকার কথা বলে এবার দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যাচ্ছেন না সাকিব। তাকে নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকে সব সময়ই। এরপরও তাকে টেস্ট চুক্তিতে রাখায় প্রশ্ন উঠছেই।
এ নিয়ে বোর্ডের পক্ষ থেকে মিনহাজুলের ব্যাখ্যা, বোর্ড ওকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত বিশ্রাম দিয়েছে। এরপর থেকে ওকে পাওয়া যাবে। আমাদের কাছে যে তথ্য আছে, তাতে তিন সংস্করণেই ওকে পাওয়া যাবে। খেলোয়াড় হিসেবে অনেক বড় মাপের, বিশ্বের সেরা অলরাউন্ডারদের একজন। সেই হিসেবে ওর কাছ থেকে সেরাটাই আমরা চাই, যখনই ওকে পাব। সেজন্য ওকে তিন সংস্করণেই রাখা হয়েছে, যেহেতু এ বছর আমাদের অনেক খেলা আছে।
সাকিবকে চুক্তিতে রাখার পক্ষে ব্যাখ্যা দিলেন বিসিবির নির্বাচক ও সাবেক স্পিন তারকা আব্দুর রাজ্জাক, কেউ দু-একটি সিরিজ থেকে বিশ্রাম নিলেই যে তিন সংস্করণে রাখা যাবে না, তা তো নয়। প্রথমে কিন্তু ক্রিকেট বোর্ড কথা বলেছে, কে কোন ফরম্যাটে খেলতে চায়। তার পর বিবেচনা করা হয়েছে যে কাকে কোন ফরম্যাটে রাখা যাবে। সাকিব কিন্তু কোনো ফরম্যাট থেকে সরে যায়নি। সাকিব যে মাপের ক্রিকেটার, কোনো ফরম্যাট থেকে নিজে সরে না গেলে বোর্ডের জন্য সরিয়ে দেয়া কঠিন, কারণ যে মাপের পারফর্মার ও।
টেস্টে খেলতে বরাবরই অনীহা সাকিবের। আগামী নভেম্বরের টি২০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত টেস্ট থেকে বিরতি চেয়ে বোর্ডে চিঠিও দিয়েছিলেন তিনি। বোর্ডের ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের প্রধান জালাল ইউনুস জানান, নভেম্বর পর্যন্ত টেস্ট খেলতে না চাওয়ার সেই দাবি থেকে সরে এসেছেন সাকিব। বৃহস্পতিবার রাতে দুবাই থেকে ফিরেছেন সাকিব। তার সঙ্গে কথা বলে ভবিষ্যত্ আরো স্পষ্ট করা হবে বলে জানালেন মিনহাজুল। প্রধান নির্বাচকের কথায়, আমরা এই তালিকা জমা দিয়েছি এক মাস আগে। বোর্ড তার পর অনুমোদন দিয়েছে। দুবাই থেকে সাকিব ফিরেছে, ওর সঙ্গে নিশ্চয়ই কথা হবে।
সাকিবের এই ‘ইচ্ছেমাফিক’ ছুটি নেয়ায় দল তৈরিতে সমস্যা হয় বলে মেনে নিলেন মিনহাজুল। তিনি বলেন, একটা পরিকল্পনা থাকে। নির্বাচকরা ও টিম ম্যানেজমেন্ট থেকে পরিকল্পনা করে দল দেয়া হয়। এরপর বোর্ডও অনুমোদন দেয়। না যাওয়াটা অবশ্যই ব্যাকফায়ারের মতো হয়। জোর করে তো খেলানো যায় না।
এদিকে দলে নিয়মিত না হওয়ার কারণে পেস বোলার আবু জায়েদ রাহী ও পেস বোলিং অলরাউন্ডার সাইফউদ্দিনকে চুক্তিতে রাখা হয়নি বলে জানালেন মিনহাজুল। তার কথায়, সাইফউদ্দিন ইনজুরিতে আছে। গত টি২০ বিশ্বকাপ থেকে ইনজুরিতে আছে লম্বা সময়। বোর্ড ওকে নিয়ে যথেষ্ট সময় দিচ্ছে। লন্ডন থেকে চিকিত্সক দেখিয়ে আনা হয়েছে। এখন ইতিবাচক দিক হলো যে সুস্থ হচ্ছে এবং প্রিমিয়ার ডিভিশন খেলার জন্য প্রস্তুত হচ্ছে। যখনই খেলায় ফিরে আসবে, জাতীয় দলের জন্য ওকে পাওয়া যাবে, তখন চুক্তিতেও আনব। রাহী অনেক দিন থেকে রেগুলার হতে পারছে না। ওকে তাই এবারের চুক্তির বাইরে রেখেছি। যদি আবার রেগুলার হয়ে যায়, তাহলে বলব চুক্তিতে নিয়ে আসতে।










