জামাল ভুঁইয়াকে দিয়ে শুরু। ২০১৩ সালে ডেনমার্ক প্রবাসী জামাল প্রথমবারের মতো খেলেন বাংলাদেশ দলে। মাঝে জাতীয় দলকে নেতৃত্বও দিয়েছেন। এরপর তারিক কাজী। ২০২০ সালে ডাক পেলেও বাংলাদেশ দলের হয়ে প্রথম খেলেন ২০২১ সালে। গত বছর থেকে খেলছেন কানাডা প্রবাসী সৈয়দ শাহ কাজেম। সর্বশেষ ২০২৫ সালে একসঙ্গে প্রবাস থেকে আসা দুই ফুটবলারের বাংলাদেশ দলে যুক্ত হওয়ার সুখবর আসে। ইতালি প্রবাসী ফাহমিদুল এরই মধ্যে সৌদি আরবে বাংলাদেশ দলের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন। সর্বশেষ সংযোজন হামজা চৌধুরী। ইংলিশ ফুটবলের সৌরভ নিয়ে গতকালই তিনি বাংলাদেশের মাটিতে পা রাখেন। ১২ বছরের মধ্যে এ নিয়ে প্রবাসে বড় হওয়া পঞ্চম ফুটবলার হিসেবে যুক্ত হলেন বাংলাদেশ ফুটবল দলে।

ইংল্যান্ডে বড় হওয়া হামজা গত বছর বাংলাদেশের পাসপোর্ট হাতে পেয়েছেন। শিগগিরই তার শৈশবের স্বপ্নপূরণ হতে যাচ্ছে। ২৫ মার্চ শিলংয়ে স্বাগতিক ভারতের বিপক্ষে ম্যাচেই প্রথমবারের মতো লাল-সবুজ জার্সিতে দেখা যাবে ২৭ বছর বয়সী হামজাকে।

খেলতে নামার আগেই হামজাকে ঘিরে উন্মাদনা। তিনি বাংলাদেশ ফুটবলের নতুন সুপারস্টার। যুক্তরাজ্য থেকে গতকাল দুপুর পৌনে ১২টার দিকে সিলেট বিমানবন্দরে নামেন হামজা। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন এ ফুটবলারকে বরণ করে নিতে সকাল থেকেই ওসমানী বিমানবন্দরে ভিড় করেন বিপুলসংখ্যক ফুটবলপ্রেমী ও ফুটবল ফেডারেশনের কর্মকর্তা ও গণমাধ্যমকর্মী। হামজাকে অভিনন্দন জানাতে ব্যানার নিয়ে হাজির হন বিপুলসংখ্যক সমর্থক। বিমানবন্দরে উৎসুক সংবাদমাধ্যমকে নিজের আগমনের অনুভূতি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘অ্যামাজিং, অ্যামাজিং। অনেক দিন পর ফিরলাম। আমি রোমাঞ্চিত।’

আগামী মঙ্গলবার এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ নিয়ে হামজা বলেন, ‘ইনশাআল্লাহ আমরা উইন খরমু। আমার বড় স্বপ্ন আছে। কোচ হাভিয়েরের (কাবরেরা) সঙ্গে কাজ করব। ইনশআল্লাহ আমরা উইন করিয়া প্রোগ্রেস করতে পারমু।’

সিলেট থেকে পরিবারের সঙ্গে তিনি চলে যান হবিগঞ্জে। বেলা পৌনে ৪টার দিকে হামজা চৌধুরীর গাড়িবহর বাহুবল উপজেলার স্নানঘাটের বাড়িতে পৌঁছার পর স্ত্রী ও সন্তানদের ফুলের শুভেচ্ছায় বরণ করে নেন পরিবারের সদস্যরা। প্রথমবারের মতো হামজার পৈতৃক বাড়িতে এসেছেন তার স্ত্রী ও তিন সন্তান।

হামজা বাড়িতে আসার আগেই শত শত মানুষ সেখানে অপেক্ষায় ছিলেন। বাড়িভর্তি ছিল আত্মীয়-স্বজন ও গ্রামবাসী। বাড়িতে সবার সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন তিনি। সেখানে আধা ঘণ্টার মতো বিশ্রাম নিয়ে চলে যান বাড়ির পাশের মাদ্রাসার মাঠে। সেখানে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে তাকে সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়। বাড়ির সীমানা প্রাচীরের অন্য পাশে তৈরি করা হয় মঞ্চ। তাতে তিল ধারণের জায়গা ছিল না। সংবর্ধনায় মাইক্রোফোন হাতে হাস্যোজ্জ্বল হামজা সবাইকে সালাম দিয়ে বললেন, ‘আমার খুব ভালো লাগছে। আফনারা সবাই আসছেন আমাকে দেখবার লাগি।’

লেস্টার সিটির একাডেমি থেকে উঠে আসা হামজা লেস্টারের সিনিয়র দলে খেলছেন ২০১৫ সাল থেকে। বার্টন অ্যালবিওন, ওয়াটফোর্ড ঘুরে তিনি এখন ধারে খেলছেন চ্যাম্পিয়নশিপের দল শেফিল্ড ইউনাইটেডে। গত ২ ফেব্রুয়ারি এ ক্লাবের হয়ে অভিষেকেই ম্যাচসেরার পুরস্কার পান তিনি। ক্লাবের বাইরে ইংল্যান্ড অনূর্ধ্ব-২১ দলের হয়ে খেলেছেন সাত ম্যাচ। এবার খেলতে যাচ্ছেন বাংলাদেশ জাতীয় দলে।

লেস্টারের হয়ে তিনি এফএ কাপ, কমিউনিটি শিল্ড ও ইএফএল চ্যাম্পিয়নশিপ শিরোপা জিতেছেন।