গত বছরের মে থেকে চলতি বছরের ১ মে পর্যন্ত এক বছরে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি আয় করা ক্রীড়াবিদ লিওনেল মেসি। সম্প্রতি আমেরিকান বিজনেস সাময়িকী ফোর্বস সবচেয়ে বেশি আয় করা ১০ জন ক্রীড়াবিদের তালিকা প্রকাশ করেছে। তাদের প্রতিবেদনে সবার ওপরে আছেন আর্জেন্টাইন সুপারস্টার মেসি। ৩৪ বছর বয়সী ফুটবল গ্রেট এ রেসে হারিয়ে দিয়েছেন আমেরিকান বাস্কেটবল সুপারস্টার লেব্রন জেমসকে।

ফোর্বসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ১২ মাসে ১৩ কোটি ডলার আয় করেছেন মেসি, যা বাংলাদেশী মুদ্রায় প্রায় ১ হাজার ১২৯ কোটি টাকা। ছয়বারের ব্যালন ডি’অর পুরস্কারজয়ী মেসি বার্সেলোনা থেকে তার শেষ মৌসুমে পারিশ্রমিক পেয়েছেন প্রায় ২২ মিলিয়ন ডলার। পিএসজিতে পারিশ্রমিক পেয়েছেন ৭৫ মিলিয়ন ডলার। তবে বাণিজ্যিক খাত থেকে তার আয়ের কাছে পিএসজির বেতন যৎসামান্যই! এডিডাস, বাডউইজার, পেপসিকোর মতো শীর্ষ কোম্পানির সঙ্গে এনডোর্সমেন্ট চুক্তি রয়েছে তার। এছাড়া সম্প্রতি করা এক চুক্তিতে সোসিওস তাকে বছরে দেবে ২ কোটি ডলার।

ফোর্বসের গতবারের তালিকায়ও মেসির আয় ছিল ১৩ কোটি ডলার। সেবার তিনি ছিলেন দুই নম্বরে। এবার মাঠের পারফরম্যান্সে তার সময়টা খারাপ যাচ্ছে। পিএসজি লিগ চ্যাম্পিয়ন হলেও চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ ষোলো থেকে বিদায় নিয়েছেন। বড় আশা করে মেসিকে দলে ভেড়ালেও অন্তত এই মৌসুমে চ্যাম্পিয়নস লিগ জেতানোর কোনো আশা দলকে দেখাতে পারেননি আর্জেন্টাইন গোলমেশিন। যাই হোক, অন্তত আয়ের রেসে তিনি অন্যদের হারিয়ে দিতে সমর্থ হলেন।

১৮০ মিলিয়ন ডলার আয় করে গতবার শীর্ষে থাকা মিক্সড মার্শাল আর্টস কনোর ম্যাকগ্রেগর এবার ছিটকে গেছেন শীর্ষ ১০ থেকে। মে মাসের শেষ দিকে ৫০ জনের তালিকা প্রকাশ করবে ফোর্বস। সে সময় জানা যাবে ম্যাকগ্রেগর কত নম্বরে আছেন।

পিএসজি ফরোয়ার্ডের পর আয়ের দিক থেকে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছেন লস অ্যাঞ্জেলেস লেকার্সের আমেরিকান খেলোয়াড় লেব্রন জেমস। তিনি গত এক বছরে আয় করেছেন ১২ কোটি ১২ লাখ ডলার। যা বাংলাদেশী মুদ্রায় প্রায় ১ হাজার ৫৩ কোটি টাকা। তিনি বিশ্বের দশম ক্রীড়াবিদ এবং এনবিএর প্রথম খেলোয়াড় যিনি আয়ে ১০০ মিলিয়ন ডলার অতিক্রম করেছেন। গত মৌসুমে ৯৬.৫ মিলিয়ন ডলার আয় করে ছিলেন চার নম্বরে।

লেকার্সের এ ফরোয়ার্ড এখন মুভি স্টারও, তিনি অভিনয় করেছেন ‘স্পেস জ্যাম: এ নিউ লেগেসি’ মুভিতে। আবার টক শো ‘দ্য শপ’-এ তার সরব উপস্থিতি রয়েছে, যা এইচবিও থেকে ইউটিউবে জায়গা করে নিয়েছে। গত বছর অক্টোবরে নিজের প্রডাকশন কোম্পানি স্প্রিংহিলের কিছু শেয়ার তিনি বিক্রি করে দেন ৭২ কোটি ৫০ লাখ ডলারে। তার আয়ের উেসর যেন অভাব নেই। গত জানুয়ারিতে তিনি ক্রিপ্টো ডটকমের সঙ্গে চুক্তির ঘোষণা দিয়েছেন এবং জিম কোম্পানি টোনাল ও স্পোর্টস টেক স্টার্টআপ স্ট্যাটাসপ্রোতে বিনিয়োগ করেছেন।

তিনে আছেন মেসির প্রতিদ্বন্দ্বী ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। গত এক বছরে পর্তুগিজ উইঙ্গারের আয় ১১ কোটি ৫০ লাখ ডলার। যা বাংলাদেশী মুদ্রায় ৯৯৯ কোটি ৪০ লাখ টাকা। ক্যারিয়ারের গোধূলিলগ্নে থাকা সিরআরসেভেনের আয় গত বছরের চেয়ে ৫০ লাখ ডলার কমেছে। মেসির সঙ্গে তার চির দ্বৈরথ। গত বছর ম্যানইউতে নাম লেখানোর সময়ও নতুন এক স্পন্সর চুক্তিতে সই করেছেন তিনি। যদিও তার আয়ের বৃহদংশ আসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে, যেভাবে সম্মিলিতভাবে তার অনুসারী ৬৯ কোটি। এটাই তাকে নাইকি, হারবালাইফ, ক্লিয়ার শ্যাম্পুর মতো বিশ্বখ্যাত কোম্পানি থেকে কোটি কোটি ডলার এনে দিচ্ছে। তিনি বিনিয়োগ করেছেন হোটেল ও রেস্টুরেন্ট ব্যবসায়।

চারে থাকা মেসির ক্লাব সতীর্থ ও ব্রাজিলিয়ান সুপারস্টার নেইমার জুনিয়র। গত বছরে ৯ কোটি ৫০ লাখ ডলার (প্রায় ৮২৬ কোটি টাকা) আয় করেছেন তিনি। পুমা ও রেড বুলের সঙ্গে মূল্যবান স্পন্সর চুক্তি রয়েছে নেইমারের। তিনি নেটফ্লিক্স সিরিজ থেকেও কোটি কোটি ডলার আয় করছেন। আবার এফটিস্টার প্লাটফর্মেও দেখা যাবে ব্রাজিলিয়ান স্টারকে।

৯ কোটি ২৮ লাখ ডলার আয় করে পাঁচে আমেরিকান বাস্কেটবল তারকা স্টিফেন কারি। ২০২১ সালের আগস্টে এনবিএ ক্লাব গোল্ডেন স্টেট ওয়ারিয়র্সের সঙ্গে ২১৫ মিলিয়ন ডলারের চার বছরের চুক্তি করেছেন কারি। তিনি আয় করেন এনএফটি ও ব্লকচেইন থেকে। তার বিনিয়োগ রয়েছে প্রডাকশন কোম্পানিসহ নানা কিছুতে।

৯ কোটি ২১ লাখ ডলার আয় করে ছয় নম্বরে আরেক আমেরিকান বাস্কেটবল তারকা কেভিন ডুরান্ট। সাতে থাকা টেনিস রাজা রজার ফেদেরার আয় করেছেন ৯ কোটি ৭ লাখ ডলার। ৯ কোটি ডলার আয় করে বক্সিং খেলোয়াড় ক্যানসেলো আলভারেজ আছেন আট নম্বরে। ৮ কোটি ৩৯ লাখ ডলার আয় করে নয় নম্বরে আছেন আমেরিকান রাগবি তারকা টম ব্র্যাডি। আর দশ নম্বরে আছেন তালিকার সর্বকনিষ্ঠ সদস্য মিলওয়াকি বাকসের গ্রিক খেলোয়াড় ইয়ানিস আতেতোকুম্পো। গত এক বছরে তিনি আয় করেন ৮ কোটি ৯ লাখ ডলার। ফোর্বস, উইকিপিডিয়া।