দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে প্রথমবারের মতো ওয়ানডে ম্যাচ ও ওয়ানডে সিরিজ জিতে ইতিহাস গড়া বাংলাদেশের সামনে প্রথম টেস্ট জয়ের সুযোগও তৈরি হয়। যদিও ডারবান টেস্টে ২৭৪ রানের টার্গেটে ব্যাটিংয়ে নেমে ১১ রান তুলতেই তিন উইকেট হারিয়ে বসেছে মুমিনুল হকের দল। এতে দারুণ এক সুযোগ পেয়েও তা হেলায় হারাতে পারে বাংলাদেশ। সোমবার পঞ্চম ও শেষ দিন অতিথিদের জিততে আরো ২৬৩ রান করতে হবে, আর প্রোটিয়াদের সিরিজে এগিয়ে যেতে প্রয়োজন সাত উইকেট তুলে নেয়া।


দক্ষিণ আফ্রিকা এই প্রথম কোনো হোম টেস্টে ইনিংসের সূচনা ঘটায় স্পিন দিয়ে এবং দুই প্রান্তেই আক্রমণে আসেন স্পিনাররা। একপ্রান্তে বামহাতি অর্থোডক্স স্পিন, অন্য প্রান্তে ডানহাতি অফস্পিন। তাতে কাজও হয়। ইনিংসের অষ্টম বলেই সাদমান ইসলামকে হারায় বাংলাদেশ। সাইমন হারমারের বলে স্লিপে কিগান পিটারসেনকে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন সাদমান। চতুর্থ ওভারের প্রথম বলে বাংলাদেশের জন্য বড় আঘাতটি হানেন কেশব মহারাজ। প্রথম ইনিংসের সেঞ্চুরিয়ান মাহমুদুল হাসান জয়কে বোল্ড করেন তিনি। জয়ের ব্যাট ও প্যাডের মাঝখান দিয়ে বল ঢুকে পড়ে স্ট্যাম্প ভেঙে দেয়।


ওই ওভারের পঞ্চম বলে অধিনায়ক মুমিনুলকেও ফেরান মহারাজ। মুমিনুল হয়েছেন লেগ বিফোর। বাংলাদেশ দলনায়ক প্রথম ইনিংসে শূন্য রানের পর এবার করলেন ২!

এই ব্যাটিং বিপর্যয়ে জয়ের অপূর্ব সম্ভাবনা কি পায়ে ঠেলছে বাংলাদেশ? নাকি কাল শেষ দিন অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনে প্রোটিয়াদের হারিয়ে দেবে অতিথিরা? বাংলাদেশের মিডল অর্ডার ভালো করলে কিংসমিডে নাটকীয়তা হতেই পারে।


এর আগে আজ দক্ষিণ আফ্রিকাকে দ্বিতীয় ইনিংসে মাত্র ২০৪ রানে অলআউট করার কৃতিত্ব দেখায় বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসে ৬৯ রানের লিড পাওয়া দক্ষিণ আফ্রিকা সব মিলে এগিয়ে থাকে ২৭৩ রানে।এবাদত ৪০ রানে তিনটি, মিরাজ ৮০ রানে তিনটি ও তাসকিন ২৪ রানে দুটি উইকেট নেন।


 

সংক্ষিপ্ত স্কোর

দক্ষিণ আফ্রিকা: ৩৬৭ ও ২০৪ (এলগার ৬৪, রিকেলটন ৩৯, পিটারসেন ৩৬; এবাদত ৩/৪০, মিরাজ ৩/৮০, তাসকিন ২/২৪)। বাংলাদেশ: ২৯৮ ও ১১/৩ (শান্ত ৫*, মুশফিক ০*; মহারাজ ২/৭, হারমার ১/৪)।—চতুর্থ দিন শেষ