মিরপুর টেস্টে প্রথম ইনিংসে ৫০৬ রানে অলআউট হয়েছে শ্রীলংকা। ১৪১ রানে পিছিয়ে পড়া বাংলাদেশ জবাব দিতে নেমে ২৩ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে বসেছে! এ যেন প্রথম ইনিংসের পুনরাবৃত্তি। প্রথম ইনিংসে ২৫ রানে ৫ উইকেট হারিয়েছিল স্বাগতিকরা।

 

ষষ্ঠ থেকে দশ ওভারের মধ্যে চারটি উইকেট হারিয়েছে বাংলাদেশ। আসিথা ফার্নান্দোর করা ষষ্ঠ ওভারের প্রথম বলে কুশল মেন্ডিসকে স্লিপে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন তামিম ইকবাল। এরপর অষ্টম, নবম ও দশম ওভারে টানা তিনটি উইকেট হারিয়েছে বাংলাদেশ। অষ্টম ওভারে নাজমুল হোসেন শান্ত হয়েছেন রানআউট। কাসুন রাজিথার করা পরের ওভারে উইকেটকিপার নিরোশান ডিকবেলাকে ক্যাচ দেন মুমিনুল হক। পরের ওভারে তামিমের মতোই আসিথার বলে কুশলকে স্লিপে ক্যাচ দেন মাহমুদুল হাসান জয়।

 

এরপর মুশফিকুর রহিমের সঙ্গে যোগ দেন লিটন কুমার দাস। মুশফিক ১৪ ও লিটন ১ রানে অপরাজিত থেকে মাঠ ছাড়েন। চতুর্থ দিন শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ১৩ ওভারে ৩৪/৪। প্রথম ইনিংসে ২৫ রানে ৫ উইকেট পতনের পর এ দুজনই ২৭২ রানের জুটি গড়ে দলের মান বাঁচিয়েছিলেন। 


এর আগে সাকিব আল হাসানের ৫ উইকেট ও এবাদত হোসেনের ৪ উইকেটে ভর করে অতিথি দলকে ৫০৬ রানে অলআউট করতে সমর্থ হয় বাংলাদেশ। সাকিব ক্যারিয়ারে ১৯তম বারের মতো ইনিংসে ৫ উইকেট নিলেন। যদিও সাকিব ও এবাদতের এই নৈপুন্যের পরও লংকানরা পাঁচশোর্ধ্ব সংগ্রহ পেয়ে যায়। এর পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখেন অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুস। তিনি ১৪৫ রানে অপরাজিত থাকেন। উল্লেখ্য, ব্যাক-টু-ব্যাক টেস্টে সেঞ্চুরি পেলেন শ্রীলংকার সাবেক অধিনায়ক। চট্টগ্রাম টেস্টেও তিনি ১৯৯ রানে আউট হয়ে ইতিহাসের অংশ হয়েছিলেন। এবার থাকলেন অপরাজিত।

 

আজ প্রথম ও দ্বিতীয় সেশনে বাংলাদেশকে হতাশ করেন দিনেশ চান্দিমাল (১২৪) ও ম্যাথুস। ষষ্ঠ উইকেটে ৪১৫ বল খেলে দুজন বোর্ডে যোগ করেন ১৯৯ রান। অবশেষে তৃতীয় সেশনের শুরুতে চান্দিমালকে সাজঘরে ফিরিয়ে ম্যারাথন জুটিটি ভাঙেন পেস বোলার এবাদত। ইনিংসের ১৫৭তম ওভারের শেষ বলে তামিমের ক্যাচ বানিয়ে চান্দিমালকে ফেরান এবাদত। ২১৯ বলের ইনিংসে ছিল ১১টি বাউন্ডারি ও একটি ছক্কা। টেস্টে এটি চান্দিমালের ১২তম সেঞ্চুরি।

 

তৃতীয় সেশনের শুরুর দিকে এভাবেই ফিরে আসে বাংলাদেশ। চান্দিমালের আউটের আগে নিয়ন্ত্রণ ছিল শ্রীলংকার, এরপর চিত্রটা পাল্টে গেল। ৪১ রানের মধ্যে বাকি চারটি উইকেট শিকার করে লংকানদের অলআউট করে বাংলাদেশ। তার মানে, শেষ ৫ উইকেট অতিথিরা হারায় ৪১ রানের মধ্যে।

 

এর আগে সাদা পোশাকে নিজের ১৩তম সেঞ্চুরি তুলে নেন ম্যাথুস। দলের বিপর্যয়ের সময় করা এ সেঞ্চুরিটি মহামূল্যবান ছিল। এমনকি তাকে আউট করতে পারেনি বাংলাদেশের কোনো বোলার। ৩৪২ বলের ইনিংসটি তিনি সাজান ১২টি বাউন্ডারি ও দুটি ছক্কায়। সাকিব ৯৬ রানে ৫টি ও এবাদত ১৪৮ রানে ৪টি উইকেট নেন।

 

এর আগে প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ সংগ্রহ করে ৩৬৫ রান। সেঞ্চুরি করেন মুশফিকুর রহিম (১৭৫*) ও লিটন কুমার দাস (১৪১)। ইনিংসে ২৫ রানে ৫ উইকেট হারায় বাংলাদেশ, আর স্বাগতিকদের ৬ ব্যাটারই আউট হন শূন্য রানে, যা টেস্টে যুগ্মভাবে রেকর্ড।