নারীদের টেনিসে অন্যতম জনপ্রিয় খেলোয়াড় নাওমি ওসাকা। জাপানি মা ও হাইতিয়ান বাবার সন্তান ওসাকা চারবারের গ্র্যান্ড স্লাম চ্যাম্পিয়ন। ২৫ বছর বয়সী খেলোয়াড়টি বৃহস্পতিবার জানিয়েছেন, তিনি মা হতে চলেছেন এবং ২০২৪ সালে টেনিসে ফিরবেন। তার সন্তানের বাবার নামটি না বললেও তিনি যে আমেরিকান খ্যাতিমান র‌্যাপার কর্ডে, তা সবাই এরই মধ্যে সবাই বুঝে নিয়েছেন। এই র‌্যাপারের সঙ্গে ওসাকার মধুর প্রেমের কথাটি গোপন নয়। আবার নিজের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়েও সব সময় খোলামেলা কথা বলেছেন ওসাকা। কিন্তু তিনি কত আয় করেন, তা কতজন জানেন?

 

আমেরিকান বিজনেস সাময়িকী ফোর্বস ২০২২ সালে ওসাকাকে বিশ্বের সর্বোচ্চ আয়কারী নারী অ্যাথলেট আখ্যা দেয়। কাজেই এটা চোখ বন্ধ করেই বলে দেয়া যায় যে, তার আয়টা ঈর্ষণীয়ই বটে। এখন পর্যন্ত ২ কোটি ১০ লাখ ডলার তিনি জিতেছেন প্রাইজমানি খাত থেকেই! এছাড়া, বাণিজ্যিক চুক্তি, স্কিনকেয়ার লাইন থেকেও তার আয়টা বিশাল।

 

যখন টেনিস কোর্ট নিয়ে ব্যস্ত থাকেন না, তখন হয় নিজের বিউটি ব্র্যান্ড ‘কিনলো’র প্রচারণা নিয়ে ব্যস্ত থাকেন, নয়তো এয়ারবিএনবি কিংবা বিটস ইলেকট্রনিসের মতো কোম্পানির সঙ্গে এনডোর্সমেন্ট চুক্তি নিয়ে ব্যস্ত থাকেন। বাণিজ্যিক দুনিয়ায় বিশ্বের সবচেয়ে চাহিদাসম্পন্ন নারী খেলোয়াড় হওয়ায় তিনি আয় করছেন কোটি কোটি ডলার।

 

২০১৩ সাল থেকে পেশাদার টেনিস খেললেও ওসাকা খ্যাতির চূড়ায় আসেন ২০১৮ সালে ইউএস ওপেন জয়ের মধ্য দিয়ে এবং সেবার ফাইনালে তিনি হারান আমেরিকান কিংবদন্তি সেরেনা উইলিয়ামসকে। এরপর আরো তিনটি গ্র্যান্ড স্লাম শিরোপা ঘরে তুলেছেন ওসাকা। ২০১৯ ও ২০২১ সালে অস্ট্রেলিয়ান ওপেন জয় করেন। ইউএস ওপেন জয় করেন ২০১৮ ও ২০২০ সালে। সব মিলে শিরোপা জিতেছেন সাতটি।

 

২০১৮ সালের ইউএস ওপেন চ্যাম্পিয়ন হিসেবে ৩৮ লাখ ডলার প্রাইজমানি পান ওসাকা। যদিও ২০২০ সালে প্রাইজমানি কমিয়ে দেয়া হয় ৩০ লাখ ডলার। অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের প্রাইজমানি অবশ্য অনেক কম— ২০১৯ সালে চ্যাম্পিয়ন হিসেবে পান ২৮ লাখ ডলার (৪১ লাখ অস্ট্রেলিয়ান ডলার) ও ২০২১ সালে পান ১৬ লাখ ডলার (২১ লাখ ৩০ হাজার অস্ট্রেলিয়ান ডলার)। তিনি অন্য সব টুর্নামেন্ট খেলেও প্রাইজমানি পেয়েছেন। সব মিলে, ২০২২ সাল পর্যন্ত তিনি প্রাইজমানি হিসেবে ২ কোটি ১০ লাখ ডলার আয় করেন।

 

এর বাইরে ব্যবসায়ও সফলতা পেয়েছেন ওসাকা। কিনলো মূলত স্কিনের সুরক্ষা, মেরামত আর মেলানিনজনিত সমস্যা মোকাবেলার জন্য তৈরি করা হয়ে থাকে। তার লাইনে রয়েছে ময়েশ্চারাইজার, সানস্ত্রিন, হাইড্রেটিং জেল, লিপ বামসহ নানা কিছু এবং দামেও সাশ্রয়ী। ২০২২ সালের এপ্রিলে তিনি ওয়ালমার্টের সঙ্গে চুক্তি করলে তার ব্যবসা আরো চাঙ্গা হয়ে ওঠে।

 

এছাড়া, এখন পর্যন্ত অন্তত ২০টি ব্র্যান্ডের সঙ্গে স্পন্সরশিপ চুক্তি করেছেন ওসাকা, যা তাকে মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার এনে দিয়েছে। ২০২২ সালের মে মাসে ফোর্বস এক প্রতিবেদনে জানায়, সর্বশেষ ১২ মাসেই এনডোর্সমেন্ট চুক্তি থেকে ৫ কোটি ৮০ লাখ ডলার আয় করেছেন ওসাকা (কর ও এজেন্ট ফিসহ)।

 

ওসাকার সবচেয়ে বড় স্পন্সরশিপ চুক্তিটা অ্যাপারেল কোম্পানি নাইকির সঙ্গে। তার আগে চুক্তি ছিল অ্যাডিডাসের সঙ্গেও। জাপানের ইওনেক্সের সঙ্গেও চুক্তি রয়েছে ওসাকার, যারা ২০০৮ সাল থেকে তাকে র‌্যাকেট সরবরাহ করে যাচ্ছে। এছাড়া তার স্পন্সরের মধ্যে বিটস ইলেকট্রনিক, মাস্টারকার্ড, প্যানাসনিক, প্লেস্টেশন, লেভি’স, এয়ারবিএনবি, সুইটগ্রিন, গোড্যাডি অন্যতম। পণ্য দূত হিসেবে কাজ করেন নিশান, সিসেইদো, ট্যাগ হিউয়ারের মতো কোম্পানির সঙ্গে। কাজেই এটা বিস্ময়কর নয় যে, তিনি বছরে ৬ কোটি ডলারের মতো আয় করেন।

 


বিশাল আয়ের বড় একটি অংশ মানুষের জন্য ব্যয় করেন ওসাকা। প্লে একাডেমি, ইউনিসেফের সঙ্গে কাজ করা ছাড়াও ওসাকা ফাউন্ডেশনে তিনি বিনিয়োগ করেন, যা হাইতির সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের টেনিস শেখার সুযোগ করে দেয়।

গত রোববার অস্ট্রেলিয়ান ওপেন থেকে নাম প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন ওসাকা। এর চারদিন পর এই কৃষ্ণকলি জানালেন, প্রথমবারের মতো মা হতে যাচ্ছেন। তার মানে, সোমবার শুরু হতে যাওয়া এবারের আসরে তার খেলা হচ্ছে না। ফলে এবার মেলবোর্ন পার্ক থেকে ২৯ লাখ অস্ট্রেলিয়ান ডলারেরও বেশি প্রাইজমানি জয়ের সুযোগ হারাচ্ছেন তিনি।

টুইটারে এক বার্তায় ওসাকা লিখেছেন, ২০২৩ সালটি এমনই এক বছর হতে চলেছে যা, আমার জন্য অনেক কিছু শেখার সময়। আমি শুধু যার দিকে তাকিয়ে আছি তা হলো আমার সন্তান। সে যেন অন্যদের বলতে পারে, দেখ, ওই আমার মা।

ওসাকার আগে গত আগস্টে জার্মান টেনিস তারকা অ্যাঞ্জেলিক কেরবার মা হওয়ার ঘোষণা দেন। গত অক্টোবরে মা হওয়া ইউক্রেনিয়ান তারকা এলিনা সভিতোলিনা এ বছর ফিরছেন টেনিসে। আর ২৩ বারের গ্র্যান্ড স্লাম চ্যাম্পিয়ন সেরেনা উইলিয়ামস ২০১৭ সালে মা হন, টেনিসে ফেরেন একই বছর। তিনি গত বছর অবসর নেন।

বিবিসি, ফোর্বস ও কসমোপলিটান।