ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের দলবদলের সঙ্গে অবিচ্ছেদ্যভাবে জড়িত থাকেন খেলোয়াড়দের এজেন্টরা। দলবদল চুক্তির একটি অংশ ফি হিসেবে নেন তারা। এজেন্টদের পেছনে বিপুল অর্থ ব্যয়ের সমালোচনা করলেন ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। তিনি মনে করেন, এজেন্টদের না দিয়ে বরং যেসব ক্লাব খেলোয়াড়দের ট্রেনিং করিয়ে গড়ে তোলে এবং বিদেশে খেলার জন্য তৈরি করে তাদের আরো বেশি অর্থ দেয়া উচিত।

গত সপ্তাহে প্রকাশিত ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ১২ মাসে এজেন্ট ও মধ্যস্থতাকারীদের পেছনে ৪০ কোটি ৯৫ লাখ পাউন্ড খরচ করেছে প্রিমিয়ার লিগের ক্লাবগুলো। ইনফান্তিনো বলেন, ‘এর বেশির ভাগ অর্থই ফুটবলের বাইরে চলে যায়।’

গত ডিসেম্বরে ফিফার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৩ সালে আন্তর্জাতিক দলবদলে এজেন্টদের পেছনে ব্যয় হয় ৮৮ কোটি ৮০ লাখ ডলার, যার প্রায় এক-তৃতীয়াংশই ব্যয় করেছে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ক্লাবগুলো। ২০২৩ সালে বিশ্বের সবচেয়ে ধনী লিগ প্রিমিয়ার লিগের ক্লাবগুলো এজেন্টদের পেছনে ব্যয় করে ২৮ কোটি ডলার। ২০১৯ সালে এজেন্টদের পেছনে ব্যয় হয়েছিল রেকর্ড ৬৫ কোটি ৫০ লাখ ডলার। ২০২৩ সালে সেই রেকর্ড ভেঙে নতুন রেকর্ড হলো।

এজেন্টরা যে বিপুল অংকের ফি নিয়ে যাচ্ছেন তা রুখতে ফিফা চেষ্টা করে যাচ্ছে। তবে তাদের চেষ্টা বারবার বাধাগ্রস্ত হচ্ছে আইনি চ্যালেঞ্জের সামনে পড়ে। ইনফান্তিনো বলেন, ‘দলবদল পদ্ধতিতে পরিষ্কার ও স্বচ্ছ কিছু আইন প্রণয়নের চেষ্টা করে যাচ্ছি আমরা। এর মধ্যে এজেন্টদের নিয়ে নীতিমালা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও খেলাটির সব পর্যায়ে শ্রেয়তর বণ্টন ব্যবস্থা নিশ্চিত করার পরিকল্পনা আমাদের। কিন্তু কিছু এজেন্ট মামলা ঠুকে দেয়ায় সেটি এখন চ্যালেঞ্জের মুখে। যদিও আদালতে ফিফা নিজের অবস্থানের কথা জানিয়ে দেবে।’

বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ গভর্নিং বডির প্রধান আরো বলেন, ‘ফুটবলের অর্থ যেন ফুটবলেই থাকে, ফুটবলার ও ক্লাবের কল্যাণে ব্যয় হয় এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্ম উপকৃত হয় সেটি নিশ্চিতের জন্য আমরা বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকার ও আইনপ্রণেতাদের আহ্বান জানাব যে তারা যেন এ কাজে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।’