মুশফিকুর রহিম ও লিটন দাসের জোড়া সেঞ্চুরিতে বিপর্যয় কাটিয়ে ঢাকা টেস্টের প্রথম দিন স্বস্তিতে পার করেছে বাংলাদেশ। আজ (সোমবার) প্রথম দিন শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৫ উইকেটে ২৭৭ রান। মুশফিক ১১৫ ও লিটন ১৩৫ রানে অপরাজিত রয়েছেন। শ্রীলংকান বোলারদের মধ্যে দুই পেসার কাসুন রাজিথা তিনটি ও আসিথা ফার্নান্দো দুটি উইকেট নেন।


সিরিজ নির্ধারণী টেস্টে মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে আগে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন বাংলাদেশ অধিনায়ক মুমিনুল হক। প্রথম দিনের ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই ভয়াবহ ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে স্বাগতিকরা। দলীয় স্কোর বোর্ডে মাত্র ২৪ রান যোগ করতেই স্বাগতিকরা হারায় ৫ উইকেট। প্রথম সেশনের মাত্র ৭ ওভারের মধ্যে উইকেটগুলো তুলে নেন রাজিথা ও ফার্নান্দো। মাহমুদুল হাসান জয়, তামিম ইকবাল ও সাকিব আল হাসান সাজঘরে ফেরেন শূন্য রানে। নাজমুল হোসেন শান্ত ৮ ও মুমিনুল হক আউট হয়েছেন ৯ রানে। ধ্বংসস্তুপে দাঁড়িয়ে দিনে বাকি অংশটা প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখে গেলেন মুশফিক-লিটন। অবিচ্ছিন্ন জুটিতে দু’জনে স্কোর বোর্ডে যোগ করেছেন ২৫৩। এ জুটিতে বিপদ কাটিয়ে ম্যাচে ফেরে বাংলাদেশ। টেস্ট ক্রিকেটে ষষ্ঠ উইকেটে এটিই এখন বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রানের জুটি। ২০০৭ সালে কলম্বোয় এই শ্রীলংকার বিপক্ষে ষষ্ঠ উইকেটে ১৯১ রানের জুটি গড়েছিলেন মোহাম্মদ আশরাফুল ও মুশফিকুর রহিম। এতদিন ষষ্ঠ উইকেটে সেটি ছিল সর্বোচ্চ জুটি।


আন্তর্জাতিক টেস্ট ক্রিকেটে ষষ্ঠ উইকেটে সর্বোচ্চ রানের জুটি হলো বেন স্টোকস ও জনি বেয়ারস্টোর। ২০১৬ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে কেপ টাউনে ৩৯৯ রানের জুটি গড়েছিলেন দু’জনে।

চট্টগ্রামের পর ঢাকা টেস্টেও দারুণ এক সেঞ্চুরি করেছেন মুশফিকুর রহিম। টেস্ট ক্যারিয়ারের নিজের নবম শতক করতে মুশফিক খেলেছেন ২১৮ বল। অন্যদিকে লিটন টেস্টে নিজের তৃতীয় সেঞ্চুরি করার পথে খেলেছেন ১৪৯ বল। দিন শেষে ২২১ বল মোকাবেলায় ১৩৫ রানে অপরাজিত থেকে মাঠ ছাড়েন লিটন। ইনিংসে ছিল ১৬টি চার ও একটি ছক্কার বাউন্ডারি। মুশফিক অপরাজিত রয়েছেন ১১৫ রানে। ২৫২ বলের ইনিংসে হাঁকিয়েছেন ১৩টি চারের বাউন্ডারি।