মেলবোর্নে প্রথম ওয়ানডেতে জয়ের সম্ভাবনা জাগিয়েও শেষ পর্যন্ত ২ উইকেটে হেরে যায় পাকিস্তান। আজ শুক্রবার অ্যাডিলেডে দ্বিতীয় ম্যাচেও বোলিংয়ে দারুণ পারফর্ম করে সফরকারীরা দলের পেসাররা। এবার আর হার নয়, জিতেই মাঠ ছাড়ে তারা। পেস বোলার হারিস রউফ ৫ উইকেট নিয়ে পাকিস্তানকে ভিতটা গড়ে দেন। অস্ট্রেলিয়া ৩৫ ওভারে ১৬৩ রান করে অলআউট হয়ে যায়। এরপর সাইম আইয়ুব (৭১ বলে ৮২) ও আব্দুল্লাহ শফিকের (৬৯ বলে ৬৪) ব্যাটে ভর করে ৯ উইকেটের বড় জয় তুলে নেয় পাকিস্তান। ১৪১ বল হাতে রেখেই জিতেছে মোহাম্মদ রিজওয়ানের দল।

এই জয়ে তিন ম্যাচ সিরিজে সমতা আনল পাকিস্তান। রোববার পার্থে সিরিজ নির্ধারণী তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডে। এরপর দুই দল তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে মুখোমুখি হবে।

আজ পাকিস্তানের জয়ের বড় কৃতিত্ব দলটির পেস ব্রিগেডের। শাহিন শাহ আফ্রিদি ৪১ রানের মধ্যে দুই ওপেনার জ্যাক ফ্রেজার-ম্যাকগার্ক ও ম্যাথিউ শর্টকে সাজঘরে ফিরিয়ে দুর্দান্ত সূচনা এনে দেন পাকিস্তানকে। এরপর অজিদের মিডল অর্ডার গুঁড়িয়ে দেন হারিস রউফ। ২৯ রানে ৫ উইকেট নেন তিনি। শাহিন ২৬ রানে নেন ৩টি উইকেট। মোহাম্মদ হাসনাইন ও নাসিম শাহ ১টি করে উইকেট নেন।

পাকিস্তান ও অস্ট্রেলিয়ার ১১০ ওয়ানডেতে এটাই অজিদের সর্বনিম্ন দলীয় সংগ্রহ। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে স্টিভেন স্মিথ সর্বোচ্চ ৩৫ রান করেন। এই রান নিয়ে আর লড়াই করা হয়ে ওঠেনি ওয়ানডের বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের।

আজ উইকেটের পেছনে দাঁড়িয়ে মোট ৬টা ক্যাচ নেন পাকিস্তান দলনায়ক ও উইকেটকিপার রিজওয়ান। এটা যুগ্মভাবে বিশ্ব রেকর্ড। এর আগে এমন নজির আছে ১১টি। অস্ট্রেলিয়ার অ্যাডাম গিলক্রিস্ট ৪ বার ও পাকিস্তানিদের সরফরাজ আহমেদ একবার ৬টি ক্যাচ নেয়ার কৃতিত্ব দেখান। আজ ৭ উইকেট নিয়ে এককভাবে বিশ্ব রেকর্ড গড়ার সুযোগ এসেছিল। যদিও ইনিংসের ৩৪তম ওভারে নাসিম শাহর প্রথম বল আকাশে তুলে দিয়েছিলেন অস্ট্রেলিয়ার অ্যাডাম জাম্পা। অনেক উঁচুতে ওঠা সেই ক্যাচটি তালুবন্দি করতে ব্যর্থ হন রিজওয়ান।

আজ ওপেনিং জুটিতে ১৩৭ রান যোগ করেন সাইম ও শফিক, যা অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডেতে পাকিস্তানের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ জুটি।