সারা বিশ্বেই পুরুষদের সঙ্গে নারী ক্রিকেটও এগিয়ে যাচ্ছে। নারীদের সুযোগ-সুবিধাও বাড়ছে সর্বত্র। পেছনে পড়ে থাকতে চায় না ক্রিকেট আয়ারল্যান্ড (সিআই)। ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকার মতো দেশগুলোর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে তারাও নারী ক্রিকেটকে নিয়ে আলাদা করে ভাবছে। নিয়ে এসেছে বড় পরকিল্পনা।

দেশটি নারী ক্রিকেটে বার্ষিক ১৫ লাখ ইউরো বিনিয়োগ করতে যাচ্ছে। শুধু তাই নয়, প্রথমবারের মতো সিআই ২০ জন নারী খেলোয়াড়কে চুক্তিবদ্ধ করেছে। মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়েছে নারী ক্রিকেট দলের প্রধান কোচ এডমুন্ড ক্রিস্টোফার জয়েসের। এ বছর অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা ও পাকিস্তানের বিপক্ষে হোম সিরিজেরও আয়োজন করবে সিআই।

২০ ক্রিকেটারের মধ্যে সাতজনের সঙ্গে করা হয়েছে আন্তর্জাতিক চুক্তি। তারা হলেন অধিনায়ক লরা ডেলানি, শাওনা কাভানা, সোফি ম্যাকমাহন, কারা মারে, সেলেস্টে র্যাক, আইমেয়ার রিচার্ডসন ও ম্যারি ওয়ালড্রন। বাকি ১৩ খেলোয়াড়ের সঙ্গে খণ্ডকালীন চুক্তি। মার্চের শুরু থেকেই এ চুক্তি কার্যকর।

রাগবির পর দ্বিতীয় কোনো ক্রীড়া ইভেন্টে নারী ক্রিকেটারদের সঙ্গে পুরো বছরের জন্য চুক্তি করল আয়ারল্যান্ড।

সিআইয়ের চুক্তি এবং নারী ক্রিকেট নিয়ে তাদের ভাবনায় অভিভূত লরা ডেলানি। তিনি বলেছেন, একটি স্কোয়াড হিসেবে সত্যিই আমরা অভিভূত। এ সুযোগ দেয়ার জন্য কৃতজ্ঞ। আমরা যখন পছন্দের খেলাটি শুরু করি, তখন স্বপ্নেও ভাবিনি এমন কিছু হবে। তবে দেশের হয়ে সর্বোচ্চ পর্যায়ে প্রতিনিধিত্ব করার সময় আমাদের কঠোর পরিশ্রম, ত্যাগ ও অঙ্গীকারের কথাও স্বীকার করতে হবে।

২০১৬ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত যে বিনিয়োগ ছিল আইরিশ নারী ক্রিকেটে তার তিন গুণ বাড়ানো হয়েছে। ওই সময় বার্ষিক বিনিয়োগ ছিল ৫ লাখ ইউরো, এখন তা বেড়ে হয়েছে ১৫ লাখ ইউরো। বিনিয়োগ বৃদ্ধির ফলে খেলোয়াড়দের চুক্তি, ম্যাচ ফি, কোচ ও সাপোর্ট স্টাফদের বেতন, হোম ও অ্যাওয়ে ফিক্সচারের সরঞ্জামের খরচ, ভেন্যু ভাড়া, পুষ্টি ও জীবনধারার ব্যবস্থাপনা, একাডেমি ও অতিরিক্ত সিরিজের খরচ ভালোভাবে সামাল দেয়া যাবে।

কোচ জয়েসের চুক্তি মেয়াদ আরো তিন বছর বাড়ানো হয়েছে। ফলে তিনি নারী ক্রিকেট দলের সঙ্গে আরো নিবিড়ভাবে কাজ করতে পারবেন।

জুনে ঘরের মাঠে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে তিনটি করে ওয়ানডে ও টি২০ ম্যাচ খেলবে আইরিশ নারীরা। এরপর অস্ট্রেলিয়া ও পাকিস্তানের সঙ্গে খেলবে ত্রিদেশীয় টি২০ সিরিজ। সিরিজটি বার্মিংহামে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া কমনওয়েলথ গেমস ২০২২-এর অংশ।

ক্রিকেট আয়ারল্যান্ডের প্রধান নির্বাহী ওয়ারেন ডিউট্রম বলেছেন, একটি সংস্থা হিসেবে মহিলাদের ক্রিকেটকে পেশাদার করার জন্য নিজেদের অঙ্গীকারবদ্ধ করেছি। এটি শুধু একটি ভালো বিষয় ছিল না, এটি করা সঠিক ছিল। বিশ্বজুড়ে নারী ক্রিকেটের সময় এসেছে। আমরা অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড ও বিভিন্ন দেশে নারীদের খেলার অবিশ্বাস্য বৃদ্ধি ও পেশাদারীকরণ দেখেছি। আইসিসির নতুন কৌশলে ভারতও নারী ক্রিকেটের ওপর জোর দিয়েছে। এবার আয়ারল্যান্ডের পালা। ক্রিকইনফো