বাংলাদেশ আগেই উঠে গেছে ২০২৩ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপে। চেমসফোর্ডে প্রথম ওয়ানডে বৃষ্টিতে পণ্ড হওয়ায় আয়ারল্যান্ডের আশাও আগেই শেষ। তাদের খেলতে হবে বাছাই টুর্নামেন্ট। দ্বিতীয় ওয়ানডেকে তাই ‘মরা ম্যাচই বলা চলে। শুক্রবার এ মরা ম্যাচেই প্রাণ ফেরালেন দুই দলের খেলোয়াড়রা। বৃষ্টিবিঘ্নিত দ্বিতীয় ওয়ানডে ম্যাচে ৪৫ ওভারে ৬ উইকেটে ৩১৯ রানের সৌধ গড়ে আয়ারল্যান্ড। হ্যারি টেক্টর ১৪০ ও জর্জ ডকরেল ৭৪ রানের হার না মানা ইনিংস খেলেন। এরপর নাজমুল হোসেন শান্তর বীরত্বপূর্ণ সেঞ্চুরি ও অন্যদের অবদানে তিন বল ও তিন উইকেট হাতে রেখে রোমাঞ্চকর এক জয় তুলে নেয় বাংলাদেশ। 

শেষ ওভারে মীমাংসা হওয়া এ ম্যাচটি জিতে আইসিসি ওয়ানডে সুপার লিগ টেবিলের তিনে উঠে গেছে বাংলাদেশ। শুক্রবার ১০ পয়েন্ট পাওয়ায় বাংলাদেশ দলের মোট সংগ্রহ এখন ১৪৫। আজ সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডে ম্যাচ জিতলে ইংল্যান্ডের সমান ১৫৫ পয়েন্ট হয়ে যাবে। তখন রানরেটে খানিকটা পেছনে থাকবে টাইগাররা। দুইয়ে উঠতে না পারলেও আজ জিতলে বিশ্বকাপের আগে মনস্তাত্ত্বিকভাবে দারুণ অবস্থানে থাকবে তামিম ইকবাল বাহিনী। 

২৪ ম্যাচে ১৭৫ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে নিউজিল্যান্ড। এরপর ইংল্যান্ড (২৪ ম্যাচে ১৫৫), বাংলাদেশ (২৩ ম্যাচে ১৪৫), ভারত (২১ ম্যাচে ১৩৯), পাকিস্তান (২১ ম্যাচে ১৩০), অস্ট্রেলিয়া (১৮ ম্যাচে ১২০), আফগানিস্তান (১৫ ম্যাচে ১১৫), দক্ষিণ আফ্রিকা (২১ ম্যাচে ৯৮), ওয়েস্ট ইন্ডিজ (২৪ ম্যাচে ৮৮), শ্রীলংকা (২৪ ম্যাচে ৮১), আয়ারল্যান্ড (২৩ ম্যাচে ৭৩), জিম্বাবুয়ে (২৪ ম্যাচে ৬৫) ও নেদারল্যান্ডস (২৪ ম্যাচে ৩৫)। 

স্বাগতিক ভারতসহ টেবিলের শীর্ষ আটটি দল ২০২৩ সালের বিশ্বকাপে জায়গা করে নিয়েছে। নিচের পাঁচটি দল আইসিসির পাঁচটি সহযোগী দলের সঙ্গে বাছাই টুর্নামেন্টে অংশ নেবে। সেখান থেকে দুটি দল পাবে বিশ্বকাপের টিকিট।  

বাংলাদেশের ইতিহাসে এটা ওয়ানডে ক্রিকেটে তৃতীয় সর্বোচ্চ রান চেজ। এর আগে ২০১৫ সালের বিশ্বকাপে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ৪ উইকেটে ৩২২ ও ২০১৯ সালের বিশ্বকাপে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৩ উইকেটে ৩২২ রান তুলে জয়ের কৃতিত্ব দেখায় বাংলাদেশ। শুক্রবার আইরিশদের বিপক্ষে পাওয়া জয়টি এখন বাংলাদেশের তৃতীয় সেরা।

শুক্রবার ৪০ রানের মধ্যে তামিম ইকবাল ও লিটন দাসকে হারায় বাংলাদেশ। এরপর সাকিব আল হাসান, তৌহিদ হৃদয় ও মুশফিকুর রহিমকে নিয়ে দাপটে রান তুলতে থাকেন শান্ত। সাকিবকে নিয়ে ৪৭ বলে ৬১ ও তৌহিদকে নিয়ে ১০২ বলে ১৩১ রান যোগ করেন বামহাতি এ ব্যাটার। তৌহিদ ৫৮ বলে ৬৮ রানের ঝলমলে ইনিংস খেলেন। সাকিব করেন ২৬ রান। 

শান্তর বীরত্বে জিতলেও শেষ মুহূর্তে ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ হয় মুশফিকের ব্যাটে। তাকে শেষ পর্যন্ত ব্যাটিং করে যেতে হয়। ৪০তম ওভারে মেহেদী হাসান মিরাজ আউট হয়ে গেলে আরো চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েন তিনি। ৪২তম ওভারে মুশফিক প্রায়ই রানআউট হয়ে যাচ্ছিলেন। নন-স্ট্রাইক এন্ডে জর্জ ডকরেল স্টাম্প ভাঙলেও অল্পের জন্য বেঁচে যান তিনি। 

৪৪তম ওভারে তাইজুলকে লেগ বিফোর করেন জস লিটল। শরিফুল ইসলাম প্রথম বলেই লিটলকে বাউন্ডারি হাঁকিয়ে দেন। তাতে সমীকরণ নেমে আসে—৯ বলে ৭। পরের দুই বল থেকে দুই রান আসে। শেষ ওভারে প্রয়োজন পড়ে ৫ রানের। কিন্তু নাটকীয়তার যেন শেষ নেই। মার্কা অ্যাডায়ারের প্রথম দুই বল থেকে ইচ্ছে করেই রান নেননি মুশফিক। তৃতীয় বলে ফুল টসে মারলে তিনি ডিপ ব্যাকওয়ার্ড স্কয়ার লেগে ধরা পড়েন।  ‘‌নো’ বলের আবেদন করে বেঁচে যান। বাংলাদেশ পায় ‘‌ফ্রি হিট’। তখন লেংথ বলে উইকেটকিপারের মাথার ওপর দিয়ে প্যাডেল সুইপ খেলে দলের জয় নিশ্চিত করেন। 

এর আগে হ্যারি টেক্টরের চতুর্থ সেঞ্চুরি আইরিশদের এনে দেয় তিনশোর্ধ্ব সংগ্রহ। ষষ্ঠ উইকেটে জর্জ ডকরেলকে নিয়ে মাত্র ৬৮ বলে ১১৫ রান যোগ করেন টেক্টর। তিনি শেষ পর্যন্ত ১১৩ বলে ৭টি চার ও ১০টি ছক্কায় ১৪০ রানের টর্নেডো ইনিংস খেলে বোল্ড হন এবাদত হোসেনের বলে। 

নাজমুল হোসেন শান্ত গত বিপিএল থেকেই দুর্দান্ত পারফর্ম করে চলেছেন। এবার দলের প্রয়োজনের সময় পেলেন প্রথম ওয়ানডে সেঞ্চুরিও। দলকে জিতিয়ে আনন্দিত এ ব্যাটার বলেন, ‘‌আমার খুবই ভালো লাগছে। আমি মনে করি হৃদয় খুব ভালো ব্যাট করেছে। তার মানসিকতা আমাকে সাহায্য করেছে। আমরা তো ভাবিনি যে দেশের বাইরে আছি, দর্শকদের ধন্যবাদ। আশা করি পরের ম্যাচেও তারা আসবেন।’