দক্ষিণ আফ্রিকার পেস ও বাউন্সি উইকেটে খেলে সাফল্য নিয়ে ফেরা দল খুব কমই আছে। সম্প্রতি রোহিত শর্মার ভারত ওয়ানডে সিরিজে হোয়াইটওয়াশ হয়ে ফিরেছে। এছাড়া ২০১৩ সালে পাকিস্তানের কাছে ২-১-এ সিরিজ হারের পর প্রোটিয়ারা ঘরের মাঠে ১৭টি ওয়ানডে খেলে ১৪টিই জিতেছে। প্রোটিয়া দুর্গ বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের জন্যও সবসময় ছিল দুর্ভেদ্য। অবশেষে এবার তা জয় করতে সমর্থ হলো তামিম ইকবালের দল। প্রোটিয়াদের ২-১-এ ওয়ানডে সিরিজে হারিয়েছে বাংলাদেশ, যা বিদেশের মাটিতে টাইগারদের সপ্তম ওয়ানডে সিরিজ জয়।

২০০২ সালের প্রথম ট্যুর থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত প্রতিবারই দ্বিপক্ষীয় সিরিজ কিংবা বৈশ্বিক আসর থেকে দুঃস্বপ্ন নিয়ে দেশে ফিরেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। সেখানে তিন ফরম্যাটে ১৯ ম্যাচে জয়হীন ছিল বাংলাদেশ। সেই বিরানভূমিতে এবার তামিম, সাকিব, তাসকিনরা লিখলেন রূপকথা। যে সিরিজে দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে প্রথম জয় এল, সেই সিরিজই কিনা তারা জিতে নিলেন ২-১ ব্যবধানে।

এখন পর্যন্ত ২৪টি ওয়ানডে খেলে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ৬ বার হারিয়েছে বাংলাদেশ, যার দুটিই এসেছে সদ্য সমাপ্ত সিরিজে।

২০০২ সালে প্রথম দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যায় বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। সেবার ওয়ানডে কিংবা টেস্ট কোনো ফরম্যাটেই দাঁড়াতে পারেনি ক্রিকেটের নবীন দল বাংলাদেশ। ফলে হারতে হয় ১৬৮ রান, ১০ উইকেট ও ৭ উইকেটের ব্যবধানে। সেবার দুই টেস্টেই ইনিংস ব্যবধানে হার নিয়ে অবনত মাথায় দেশে ফেরে খালেদ মাসুদ পাইলটের দল। ২০০৮ সালে দুই টেস্টেই পরাজয় ইনিংস ব্যবধানে। তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজেও বাংলাদেশ হোয়াইটওয়াশ হয়। হার যথাক্রমে ৯ উইকেট, ৭ উইকেট ও ৭ উইকেটে।

২০১৭ সালের প্রথম টেস্টে খানিকটা উন্নতি করে বাংলাদেশ। ওই টেস্টে হার ৩৩৩ রানের। যদিও দ্বিতীয় টেস্টে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়া বাংলাদেশ আবার হেরে যায় ইনিংস ব্যবধানে। সেবার তিন ওয়ানডে সিরিজে বাংলাদেশ হেরেছে যথাক্রমে ১০ উইকেট, ১০৪ রান ও ২০০ রানের ব্যবধানে!

২০০২ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত তিনটি ট্যুরের সব সিরিজেই ধরাশায়ী হয়েছে বাংলাদেশ। দ্বিপক্ষীয় সিরিজ ও অন্যান্য টুর্নামেন্ট মিলিয়ে মোট ১৯ ম্যাচের মধ্যে একটিতেও জেতা হয়নি। ২০০৩ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপে কানাডার কাছে লজ্জাজনক এক হার দিয়ে শুরু। এরপর শ্রীলংকার কাছে ১০ উইকেটে, দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে ১০ উইকেটে, নিউজিল্যান্ডের কাছে ৭ উইকেটে ও কেনিয়ার কাছে ৩২ রানে হেরেছে বাংলাদেশ। দক্ষিণ আফ্রিকায় স্মৃতিগুলো ভুলে যেতে চেয়েছেন ক্রিকেটাররা। যদিও তামিম-তাসকিনদের বীরত্বে আর লজ্জায় মুখ লুকাতে হবে না, আর বিব্রতও হতে হবে না।

সেঞ্চুরিয়নে প্রথম ওয়ানডেতেই দক্ষিণ আফ্রিকাকে পর্যুদস্ত করার মধ্য দিয়ে এবারের স্বপ্নযাত্রার শুরু। জোহানেসবার্গে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে হারলেও সেই সেঞ্চুরিয়নে আবার গর্জে ওঠে টাইগাররা। বোলিংয়ে তাসকিন, সাকিবদের অনবদ্য পারফরম্যান্সের পর ব্যাটিংয়ে সুপারস্পোর্ট পার্কের সবুজে রীতিমতো ফুল ফুটিয়েছেন তামিম, লিটন আর শেষদিকে সাকিব।

এটা বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের সপ্তম ওয়ানডে সিরিজ জয়। ২০০৬ সালে কেনিয়ার মাঠে প্রথম সিরিজ জয় করে বাংলাদেশ। এরপর জিম্বাবুয়ের মাঠে তিনবার, ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাঠে দুবার ও দক্ষিণ আফ্রিকার মাঠে একবার ওয়ানডে সিরিজ জয়ের কৃতিত্ব দেখাল টাইগাররা।

উইকেটের হিসেবে এটাই সবচেয়ে বড় জয় বাংলাদেশের। চারবার ৯ উইকেটে জিতেছে বাংলাদেশ। বিদেশে ৯ উইকেটের জয় এটাই প্রথম। আর প্রথম দল হিসেবে বাংলাদেশের কাছে দুবার ৯ উইকেটে হারল প্রোটিয়ারা, প্রথমবার তারা ৯ উইকেটে হেরেছে ২০১৫ সালে চট্টগ্রামে।